পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আজাইরা নিউজ | ব্যঙ্গের ব্রেকিং বুলেটিন

আজাইরা নিউজ   এস এফ সেলিম আহম্মেদ   ব্রেকিং ব্রেকিং চিৎকার সুর,   দেশটা নাকি শেষ!   হেডলাইনে আগুন জ্বলে,   ভেতর ফাঁকা রেশ।   স্টুডিওতে ঝড়ের তর্ক,   তথ্য থাকে চুপ;   মাইকের ভেতর বাঘের গর্জন,   মাথার ভেতর ধুপ!   “বিশেষ সূত্র”— গোপন থাকে,   নেই কোনো প্রমাণ;   কপি-পেস্টেই গবেষণা শেষ,   তবু দম্ভ মহান!   ফেসবুকে লাইভের ঢেউ,   ইউটিউবে থাম্বনেইল;   সত্য যদি চুপটি থাকে,   মিথ্যেই পায় রেল।   ক্লিকের নেশায় চোখটা অন্ধ,   বিবেক সাইলেন্ট মোড;   ফ্যাক্ট-চেকার হাঁপিয়ে মরে,   খোঁজে লজিক কোড।   ভাইরাল হলে বীরের খেতাব,   শেয়ার হলেই জয়;   মিথ্যার গাড়ি দ্রুতগামী,   সত্য পায় না সময়।   ওহে মিডিয়া-সম্রাট শোনো,   মাইকটা একটু থাম;   সত্যকে কেন সার্কাস বানাও,   কিসের এত দাম?   আজাইরা নিউজের বাজার গরম, ...

মিরর.এক্সই | ব্যঙ্গাত্মক সমকালীন কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 মিরর.এক্সই   এস এফ সেলিম আহম্মেদ   দেয়ালে ঝুলে থাকা আয়নাটা   আজকাল স্মার্ট—   আমার চেয়েও আপডেটেড।   আমি ফেসবুকে লাইভে নৈতিক,   মাঠে বিপ্লবী,   চায়ের টেবিলে বিশ্লেষক,   আর একা ঘরে?   লো ব্যাটারির মানুষ।   আয়না স্ক্রল করে না,   তবু সব দেখে ফেলে।   ফিল্টার ছাড়া মুখ,   এডিট ছাড়া ইতিহাস,   ক্যাপশন ছাড়া সত্য।   আমি বলি—   “জনগণ আমার শক্তি।”   আয়না মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করে—   “জনগণ, না সুযোগ?”   আমি বলি—   “আমি আপোষহীন।”   আয়না নোটিফিকেশন দেয়—   “গতকালের স্ট্যাটাস ডিলিট করা হয়েছে।”   ধুলো জমলে   আমি কাপড় দিয়ে মুছি,   ভাবি— ইমেজ ক্লিন।   কিন্তু ভেতরের ক্যাশ মেমোরি   কে ক্লিয়ার করবে?   আয়না কোনো দল করে না,   কোনো লাইক দেয় না,   কোনো শেয়ার চায় না—   শুধু রিয়েল টাইমে...

কথার কলরোল | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “কথার কলরোল” — এস এফ সেলিম আহম্মেদ   কথায় কথায় চুলকানি, জিভে জ্বলে শিখা,   একটি মাত্র শব্দ ছুঁড়ে জ্বালায় দাহ-দীক্ষা।   কথাই বাজে ঝগড়ার ঢাক, কথাই লাগে ক্ষত,   কথার ছোঁয়ায় মুহূর্তেই রণক্ষেত্রের রথ।   কথাই আবার শিশির হয়ে নরম ভোরের ঘাসে,   কথাই গড়ে সেতু নীরব দু’টি হৃদয় পাশে।   কথার জোরে কাঁপে সভা, জাগে নতুন জাতি,   কথা ছাড়া থেমে যেতো সভ্যতারই গতি।   কথাতেই দোষারোপ, কথাতেই ক্ষমা,   কথার ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অভিমানী জমা।   অসংগতির অগণন ঢেউ, তর্কের তীরভূমি,   তবু কথা ছাড়া মানুষ থাকে কতটুকু ভূমি?   কথা মানে কাঁটা-বন, কথা মানে ফুল,   একই মুখে বিষের ধারা, একই মুখে কূল।   কথা যখন সত্য হয়ে দাঁড়ায় দীপ্ত শিখা,   অন্ধকারের বুক চিরে আনে আলোর দীক্ষা।   কথা যদি হয় অগ্নিবাণ, পোড়ায় ঘরদোর,   কথা যদি হয় বর্ষাধারা, ভেজায় অন্তরঘোর।   কথাই দেশ, কথাই দিশা, কথাই ভবিষ্যৎ-রথ,   কথার মাঝেই মানুষ ...

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৫ | পূর্ণিমার রাত ও চূড়ান্ত পরীক্ষা

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৫ লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। পূর্ণিমার রাত। চরাঞ্চলের আকাশে চাঁদ পূর্ণ, তার আলো নদীর পানিতে ঝলমল করছে। নদী এখনও উত্তাল, ঢেউয়ের শব্দ ঘিরে রাখছে গ্রাম ও চর। শর্মিলা ও এস এফ হাত ধরে নদীর ধারে হাঁটছে, বাতাস ভিজে গেছে, কিন্তু তাদের চোখে ভয় নেই—শুধু একে অপরের প্রতি দৃঢ় আস্থা। শর্মিলা ধীরে বলল, “এস এফ, যদি নদী আরও ক্ষয় করে, আমরা কি পারবো?” এস এফ চুপচাপ তার চোখে চোখ রাখল। “যদি আমরা একসাথে থাকি, নদী, ঝড়, দূরত্ব—কিছুই আমাদের ভাগ করতে পারবে না।” শর্মিলা তার হাত আরও দৃঢ় করে ধরে নিল। তার মনে হলো—এই হাত ধরে প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ, তারা একসাথে জয় করবে। নদীর চর ভেঙে যাচ্ছে—কাদা উঁচু হয়ে উঠছে, ভাঙা ঘর ও নদীর ঢেউ। গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। কেউ ঘর সংরক্ষণে, কেউ নৌকায় চেষ্টা করছে। শর্মিলা ও এস এফও সাহায্যে এগোচ্ছে। এস এফ চিঠি নিয়ে আসে, যা সে আগে লিখেছিল। চিঠির প্রতিটি শব্দ শর্মিলার মনে ফিরছে—কতদিন অপেক্ষা, কত দূরত্ব, কত অনিশ্চয়তা। তারা একে অপরকে তাকিয়ে থাকে, কোনো কথা বলা লাগে না। “চিঠি আর প্রয়োজন নেই,” শর্মিলা মৃদু বলল। “তুমি এখন এখানে।” বাতাসে আরও শক্তি এসেছে। নদী ফ...

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৪ | পুনর্মিলন ও ঝড়ের পরীক্ষা

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৪ লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। পর্ব ৩–এর সেই সন্ধ্যার পর, শর্মিলা এবং এস এফ একই ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। নীরবতা দীর্ঘ। বাইরে নদীর গর্জন। ঘরের ভিতরের বাতাসে অনিশ্চয়তার গন্ধ। শর্মিলা চুপচাপ বলল, “তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? আমি ভয় পেয়েছিলাম।” এস এফ চোখে পানি নিয়ে হেসে বলল, “আমি এসেছি। আর এবার আর দূরত্বের ছায়া থাকবে না।” শর্মিলার চোখে অশ্রু, কিন্তু মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। বাইরে বাতাসে হঠাৎ ঝড়ের আভাস। নদী উত্তাল হয়ে উঠছে। মাঝে মাঝে চিঠি পড়ার স্মৃতি ভেসে আসে—কতক্ষণ ধরে তারা একে অপরের কথা শোনেনি। ভেতরের ঝড়, আবেগের ঝড়, সব মিলেমিশে এক গভীর ধ্বনি তৈরি করেছে। এস এফ শর্মিলার হাতে হাত রাখল। “শর্মিলা, জানি সব সময় সহজ হয়নি। দূরত্ব, ঝড়—সবই আমাদের পরীক্ষা করেছে।” শর্মিলা চোখ নেমে গেল। “তুমি আসছ, এটাই যথেষ্ট। কিন্তু নদী...” তার কণ্ঠে কিছু অশ্রু ও ভয়। নিশ্চয়, নদী চরাঞ্চলে ভয়ঙ্কর। উত্তাল ঢেউ, ভাঙা চর, কাদার রাস্তা। কিন্তু আজ শর্মিলা জানে—এস এফ তাকে ছেড়ে যাবে না। বাইরে বাতাস তীব্র। ঘরের জানালার টিন কাঁপছে। ঝড়ের শব্দ ভেতরে ঢুকে তাদের দুজনকে ঘিরে ধরেছে। শর্মিলা চুপচাপ জানালার দি...

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৩ | অপেক্ষার ভোর ও না-বলা কথার ভার

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৩ লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। ব্রহ্মপুত্রের স্রোত কখনোই একরকম থাকে না। গত কয়েকদিন ধরে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আকাশে ঘন মেঘ, বাতাসে ভেজা কাদার গন্ধ, আর চরাঞ্চলের মানুষজনের চোখেমুখে অদৃশ্য উৎকণ্ঠা। শর্মিলা বুঝতে পারছিল—কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। সকালবেলা ঘুম ভাঙতেই সে শুনলো পাশের বাড়ির রওশন চাচার কণ্ঠ, “পানি বাড়তেছে, গাঙ্গেরপাড় টিকবো তো?” এই কথাটা তার বুক কাঁপিয়ে দিল। চরাঞ্চলে জন্মানো মানুষরা নদীর মেজাজ বোঝে। ব্রহ্মপুত্র যখন নীরব থাকে, তখনও ভয় থাকে; আর যখন চঞ্চল হয়, তখন আতঙ্ক ছড়ায়। শর্মিলা ঘরের দরজা খুলে বাইরে তাকালো। নদী আগের চেয়ে অনেক ফুলে উঠেছে। স্রোতের শব্দ ভারী। দূরে কয়েকটা গাছের গোড়া ইতিমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। বাতাসে বালুর ধুলো উড়ছে। তার প্রথম মনে পড়লো—এস এফ। মোবাইল হাতে নিয়ে কল দিল। নেটওয়ার্ক নেই। আবার চেষ্টা করলো। ‘কল ফেলড।’ তার বুকের ভেতর ধড়ফড় শুরু হলো। যেন এই মুহূর্তে তার একমাত্র নিরাপদ জায়গা হলো এস এফের কণ্ঠ, অথচ সেটাই অধরা। অন্যদিকে, মূল ভূখণ্ডে বসে এস এফ খবরের কাগজে দেখছিল—উজানে ভারী বর্ষণ, নদীর পানি বৃদ্ধি। তার চোখ আটকে গেল ব্রহ্ম...

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ২ | ঝড়, চিঠি ও প্রতিশ্রুতির গভীরতা

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ২ লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। ব্রহ্মপুত্রের ভোরের রং অন্যরকম। সূর্য ওঠার আগে নদীর বুক জুড়ে ধূসর কুয়াশা নেমে আসে। চরাঞ্চলের ভেজা মাটিতে শিশির জমে থাকে, আর দূরে কোথাও মাঝির বৈঠার শব্দ ভেসে আসে টুপটাপ ছন্দে। শর্মিলা সেদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙতেই বুঝেছিল—তার মনটা ভারী। আকাশে হালকা মেঘ, বাতাসে কাঁচা কাদার গন্ধ, আর বুকের ভেতর এক অদৃশ্য শূন্যতা। গতরাতে এস এফের সাথে ঠিকমতো কথা বলা যায়নি। মোবাইলের নেটওয়ার্ক হঠাৎ উধাও হয়ে গিয়েছিল। মাঝখানে তার কণ্ঠ থেমে গিয়েছিল—“শর্মিলা, শোনো…” তারপর আর কিছুই শোনা যায়নি। সেই অসমাপ্ত বাক্যটাই যেন সারারাত তার কানে বাজছিল। চরের জীবন এমনই। নদী যেমন হঠাৎ দিক বদলায়, তেমনি এখানে যোগাযোগও অনিশ্চিত। কখনো সিগন্যাল আসে, কখনো আসে না। কখনো বিদ্যুৎ থাকে, কখনো অন্ধকারে ডুবে যায় সব। কিন্তু শর্মিলার হৃদয়ে যে আলো জ্বলছে, সেটি নিভে না। তবুও দূরত্বের চাপ তাকে মাঝে মাঝে নীরব করে দেয়। সকালবেলা সে নদীর ধারে গিয়ে বসলো। ব্রহ্মপুত্রের স্রোত আজ একটু চঞ্চল। ভাঙনের দাগ দেখা যাচ্ছে ওপারের চরে। জেলেরা জাল ফেলছে, দূরে গরু চরছে, বাচ্চারা খালি পায়ে কাদায় দৌড়াচ্ছে। ...

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ১ | শর্মিলা ও এস এফের প্রেমের কাহিনী

 দূরত্বের মাঝি - পর্ব ১ লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল—এখানে সময় যেন ধীরে যায়। সূর্য উঠলে নদীর ঢেউ কাদা ছুঁয়ে নরম নরম শব্দ তোলে, এবং সন্ধ্যায় সোনালী আলো নদীর পানিতে ঝলমল করে। শর্মিলা, ছোট্ট ঘরটির বারান্দায় দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকাচ্ছে। তার চোখে এক অদ্ভুত মায়া, আর তার কণ্ঠে নীরবতার চুপচাপ প্রতিফলন। নদীর স্রোত যেন তার মনকে ছুঁয়ে যায়, এবং কাদার পথ, চরাঞ্চলের ঝড়, নদীর ভাঙন—সবকিছুই তাকে শক্তিশালী করে। মূল ভূখণ্ডে বসে আমি, এস এফ, দূরত্বের ভার অনুভব করছি। মোবাইলের সংকেত মাঝে মাঝে আসে, কখনও আসে না। ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে আমরা একে অপরের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারি না। তাই চিঠি, আমাদের একমাত্র মাধ্যম। আমি চিঠি হাতে নিয়ে ভাবছি—কীভাবে তার মনকে স্পর্শ করব। চিঠির শুরুটা সহজ নয়। লিখছি: “প্রিয় শর্মিলা, নদী আমাদের আলাদা রেখেছে, কিন্তু আমার মন তোমার সঙ্গে। প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি বাতাসের ছোঁয়ায় তোমার খোঁজ পাই। তুমি হাসছ কি আজ? তোমার চোখে শান্তি আছে কি?” শর্মিলা চিঠি পেয়েই হাঁটতে বের হয়েছে নদীর চর দিয়ে। কাদার পথে তার পায়ের ছাপ নদীর কাছে মিশে যায়। চারপাশে ...

অক্ষরের আকাশগাঁথা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অক্ষরের আকাশগাঁথা   এস এফ সেলিম আহম্মেদ   অ আ ক খ—আদি অনন্তের ডাক,   অন্ধকার ভেঙে জ্বলে আলোর ফাঁক।   শূন্যের বুকে শব্দের শিখা,   অক্ষরে জাগে অস্তিত্ব-দীক্ষা।   অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ—   স্বরের সাগরে সুরের নৌ।   হ্রস্ব দীর্ঘ প্রাণের টান,   নিঃশ্বাস জুড়ে মহাগান।   ঋ-তে ঋষির ঋতুচক্র,   ঐ-তে ঐক্য বিশ্বমন্ত্র।   ও-তে ওমের অনুরণন,   ঔ-তে ঔজ্জ্বল্য চিরজাগরণ।   ক খ গ ঘ ঙ—কালের কাব্য,   খোলা আকাশে খুঁজে স্বরাভ্য।   গভীর গানে গোপন রাগ,   ঘূর্ণি ভেঙে জেগে ওঠে ভাগ।   ঙ-এর নীরব নীল উচ্চার,   অন্তঃস্বরের গোপন দ্বার।   চ ছ জ ঝ ঞ—চেতনার চূড়া,   ছায়ায় লেখা জীবনের সুরা।   জাগে জিজ্ঞাসা ঝলক-ঝরে,   জ্ঞানের ঢেউ অন্তরে ভরে।   ঞ-এর কোলে নীরব ধ্যান,   অদৃশ্য তবু গভীর জ্ঞান।   ট ঠ ড ঢ ণ—মাটির মান,   ঠাঁই দাঁড়ায় ঐতিহ্য প্রাণ। ...

স্বকীয়তার ভাষা | বাংলা ভাষার উৎস, ইতিহাস ও আত্মমর্যাদার কাব্যিক উচ্চারণ

 স্বকীয়তার ভাষা   এস এফ সেলিম আহম্মেদ   বাংলা কোনো সাম্রাজ্যের অনুবাদ নয়,   কোনো বিজেতার ছায়ালিপি নয়,   কোনো রাজদরবারের দাক্ষিণ্যে পাওয়া নামও নয়—   সে জন্মেছে ধীরে,   সময়ের অদৃশ্য পরীক্ষাগারে,   উপমহাদেশের মাটির গভীর রসায়নে।   প্রাচীন প্রাকৃতের নিঃশ্বাসে   মাগধী অপভ্রংশের রূপান্তরে   লোকজ উপভাষার অশ্রুত সুরে   একটি উচ্চারণ ধীরে ধীরে রক্ত পেল, শরীর পেল,   নাম পেল—বাংলা।   আরবের মরু তখনও দূরে,   ফার্সির অমরাবতী তখনও অচেনা,   এই ভূখণ্ডের মানুষ   মাঠে, ঘাটে, নদীর বাঁকে,   জোৎস্না-ভেজা উঠোনে   নিজেদের ভাষায়ই বলেছে জীবনের কথা।   ভাষা একদিনে জন্মায় না—   তা জন্ম নেয় ইতিহাসের গর্ভে।   যেমন নদী নিজের পাড় নিজেই গড়ে,   যেমন পলি জমে নতুন ভূমির জন্ম দেয়,   তেমনি ভাষা সময়ের স্তরে স্তরে   নিজস্ব কাঠামো নির্মাণ করে।   সংস্কৃত দিয়েছে শাস...

ইনকিলাব জিন্দাবাদ — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 ইনকিলাব জিন্দাবাদ — এস এফ সেলিম আহম্মেদ অন্ধকারের অট্টহাসি ছিঁড়ে জ্বালো রক্তের শিখা, ভয়ের প্রাচীর ভাঙো আজ, ভেঙে ফেলো সব দীক্ষা, শেকলবন্দী সূর্যটাকে টেনে আনো মুক্ত দিগন্তিকা, বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত হোক জাগ্রত জনতার দীক্ষা। ইনকিলাব জিন্দাবাদ মিথ্যার মুকুট ছুঁড়ে ফেলো আগুনঝরা ঘৃণায়, শোষকের সিংহাসন ডুবাও জনরোষের বন্যায়, অবিচারের অট্টালিকা কাঁপুক তেজের ধ্বনায়, রক্তিম ভোর ছিনিয়ে আনো সংগ্রামেরই গণনায়। ইনকিলাব জিন্দাবাদ আমরা আগ্নেয়গিরি, অন্তরে লাভার ঢেউ, আমরা দুর্বার ঝড়, ভাঙি শৃঙ্খলের নৌ, আমরা তেজস্ক্রিয় সময়, বদলাই ইতিহাসের বৌ, আমরাই লিখি আগুনে আজ মুক্ত ভবিষ্যৎ ঢেউ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ দগ্ধ মাটির বুকের ভেতর দাবানলের জাগরণ, অশ্রু থেকে জন্ম নিক বিদ্রোহী প্রজন্ম-ঘোষণ, অন্যায়ের প্রতিটি ইটে হোক ক্রোধের বিস্ফোরণ, শপথ নাও—ভাঙব আজ শোষণের প্রতিরোধ-গঠন। ইনকিলাব জিন্দাবাদ যে কণ্ঠ চেপে ধরেছিল ভীতির কালো হাত, সে কণ্ঠ আজ বজ্র হয়ে দিক দিগন্তে আঘাত, যে চোখে নামিয়েছিল লজ্জার অশ্রুপাতে রাত, সে চোখেই জ্বলে উঠুক বিপ্লবী প্রভাত। ইনকিলাব জিন্দাবাদ পথ যদি রক্তে রাঙে, তবু থামবে না পদচিহ্ন, পতাকা যদি পুড়...

আঁধার | হারিয়ে যাওয়া প্রেমের আবৃত্তিযোগ্য হৃদয়ভাঙা কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 আঁধার   — এস এফ সেলিম আহম্মেদ   ধীরে…   আরও ধীরে নামুক সন্ধ্যা—   আজ তাড়াহুড়ো কোরো না।   আজ আমি স্মৃতির কাছে বসতে চাই।   তুমি চলে যাওয়ার দিন   আকাশে রোদ ছিল অস্বাভাবিক উজ্জ্বল,   মানুষজন ব্যস্ত ছিল নিজেদের জীবনে,   শুধু আমার ভেতরে   কেউ একজন চুপচাপ দরজা বন্ধ করে দিল।   শব্দ হয়নি।   কোনো ঝড় ওঠেনি।   শুধু নিঃশব্দে   একটি জীবন থেকে আরেকটি জীবন   সরে গিয়েছিল।   মনে আছে—   শেষবার তুমি যখন বললে,   “ভালো থেকো…”   শব্দ দুটি খুব ছোট ছিল,   কিন্তু তার ভেতরে ছিল   এক সমুদ্র বিদায়।   আমি তখনও বুঝিনি—   ভালো থাকা কত কঠিন শব্দ।   রাতগুলো এখন দীর্ঘ হয়,   অস্বাভাবিক দীর্ঘ।   ঘড়ির কাঁটা এগোয়,   কিন্তু সময় দাঁড়িয়ে থাকে   সেই বিকেলের দরজায়।   আমি চোখ বন্ধ করলে দেখি—   তুমি হাঁটছো দূরে, ...

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ

 মাতৃ ভাষা   — এস এফ সেলিম আহম্মেদ   একুশের ভোর মানেই—   কুয়াশার ভেতর লাল এক সূর্য উঠে দাঁড়ায়।   রক্তে ভেজা ইতিহাস   আবারও দরজায় কড়া নাড়ে—   বলতে চায়,   “ভুলে যেও না…”   আমি যখন “মা” বলি—   এই শব্দ কি শুধু উচ্চারণ?   না, এ তো বুকের গভীর থেকে উঠে আসা   অস্তিত্বের প্রথম স্পন্দন।   এই শব্দেই ছিল প্রথম কান্না,   প্রথম হাসি,   প্রথম পৃথিবী দেখা।   ১৯৫২—   ঢাকার রাজপথে কাঁপছিল তরুণ বুক,   গুলির শব্দ ছিঁড়ে দিচ্ছিল আকাশ।   তবু থামেনি কণ্ঠ—   “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই!”   এই উচ্চারণ ছিল বিদ্রোহ,   এই উচ্চারণ ছিল ভালোবাসা,   এই উচ্চারণ ছিল আত্মমর্যাদার আগুন।   সালাম!   বরকত!   রফিক!   জব্বার!   তোমাদের নাম নিলেই   আমার ভেতর কেঁপে ওঠে এক সমুদ্র।   তোমাদের রক্ত শুকিয়ে গেছে রাজপথে,   কিন্তু লাল...

জন্ম দেশ | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 জন্ম দেশ   এস এফ সেলিম আহম্মেদ   আমার জন্ম দেশ বাংলাদেশ—   রক্তের ভেতর যার মানচিত্র আঁকা,   শিরায় শিরায় যার সবুজের স্রোত।   আমি চোখ মেলেছি এই মাটির আলোয়,   প্রথম কান্না মিশেছে ধানের গন্ধে,   প্রথম হাঁটা শিখেছি কাদামাটির উঠোনে।   যে আকাশ আমাকে নীল হতে শিখিয়েছে,   যে নদী আমাকে ভাঙতে ভাঙতে দাঁড়াতে শিখিয়েছে,   সে আকাশ, সে নদী—আমার আত্মীয়।   যমুনার ঢেউয়ের মতোই অস্থির আমার স্বপ্ন,   ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনের মতোই জেদি আমার ভালোবাসা।   এই মাটিতে পড়ে আছে আমার শেকড়,   গভীরে, আরও গভীরে—   যেখানে পূর্বপুরুষের নিঃশ্বাস মিশে আছে   ধানের শিষে, কাশফুলে,   শীতের কুয়াশায় আর বর্ষার গর্জনে।   বাংলাদেশ,   তুমি শুধু ভূগোল নও—   তুমি আমার উচ্চারণ,   তুমি আমার ভাষা,   তুমি আমার অনিদ্র রাতের ভেতর জেগে থাকা এক টুকরো আলো,   তুমি ভাঙা স্বপ্নের পরে আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস।...

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

 "রমজান"  — এস এফ সেলিম আহম্মেদ শহরের ব্যস্ত রাস্তায় হঠাৎ একটু নীরবতা নামে, মাগরিবের আজানের সুরে দিনভর ক্লান্ত আকাশটাও যেন সেজে ওঠে আলোয়। রমজান আসে— কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, এটি আসে মানুষের ভেতরে, হৃদয়ের গোপন দরজায় কড়া নেড়ে। ক্ষুধা তখন শুধু শরীরের নয়, আত্মাও খুঁজে ফেরে এক ফোঁটা নির্মলতা। এক গ্লাস পানির মতো সহজ হয়ে যায় সব বড় বড় চাওয়া। এই মাস শেখায়— কম খেয়ে কীভাবে বেশি তৃপ্ত থাকা যায়, কম কথা বলে কীভাবে বেশি অনুভব করা যায়, আর অন্ধকারের মাঝেও কীভাবে নিজের ভেতরে আলো জ্বালাতে হয়। রাতগুলো লম্বা হয়, দোয়ায় ভিজে যায় নিঃশব্দ সময়, চোখের কোনায় জমে থাকা অপরাধবোধ ক্ষমার আশায় আকাশের দিকে তাকায়। রমজান মানে ফিরে আসা— নিজের কাছে, সত্যের কাছে, ভালো মানুষের অসমাপ্ত স্বপ্নগুলোর কাছে। যদি বদলাতেই হয়, তবে আজই বদলাই; যদি শুরু করতেই হয়, তবে এই চাঁদের নিচেই করি নতুন প্রতিজ্ঞা। হয়তো পৃথিবী একদিনে বদলাবে না, কিন্তু একটি হৃদয় বদলালেই একটি নতুন ভোর জন্ম নেয়। রমজান— তুমি শুধু একটি মাস নও, তুমি মানুষ হওয়ার সবচেয়ে সুন্দর অনুশীলন।

বসন্তের আগমন — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 "বসন্তের আগমন" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ শীতের শেষ বিকেলের মতো একটি দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে হঠাৎই তুমি এলে— বাতাসে কচি পাতার শব্দ তুলে। আমি তখনও জানালার পাশে বসে, অপেক্ষার রং গুনছিলাম; অচেনা এক অনুভূতি হৃদয়ের দরজায় ধীরে ধীরে কড়া নাড়ছিল। বসন্ত কি শুধু ফুল ফোটার নাম? নাকি তোমার চোখের গভীরে জমে থাকা নরম আলো— যেখানে তাকালেই আমার সমস্ত ক্লান্তি ঘুমিয়ে পড়ে। শিমুলের লাল রঙে আজ আকাশ একটু বেশি প্রেমিক, আর কৃষ্ণচূড়ার ডালে ঝুলে আছে অপ্রকাশিত স্বীকারোক্তি। তোমার হাসি যেন দূর গ্রামের ভোর; শুনলেই মনে হয় জীবন এখনো সুন্দর হতে পারে। ভালোবাসা আসলে কোনো ঝড় নয়— এটি বসন্তের মতো, ধীরে আসে, চুপিচুপি আসে, তবু এসে সব বদলে দেয়। আমার ভেতরের বরফগুলো এক এক করে গলছে, তোমার একটুখানি স্পর্শে নদী হয়ে যাচ্ছে অনুভূতি। কেন জানো— আজকাল পথগুলোও আলাদা লাগে, কারণ প্রতিটি পথেই তোমার দিকে হেঁটে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আবেগ মানে হয়তো এই— হঠাৎ কোনো গন্ধে থেমে যাওয়া, কারও নাম না লিখেও ডায়েরির পাতায় জায়গা রেখে দেওয়া। তুমি পাশে থাকলে সময় খুব দ্রুত হাঁটে, আর দূরে গেলে একটি বিকেলও শতাব্দীর মতো দীর্ঘ হয়। বসন্ত আমাকে শিখিয়েছে— ভালোবাসা ক...

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

 "ছায়া" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ কখনো কখনো মনে হয়   আমরা কেউ কাউকে ছেড়ে যাই না,   শুধু একটু দূরে সরে দাঁড়াই—   যেমন বিকেলের আলো   নীরবে গাছের পাতা থেকে সরে যায়। তোমার সাথে আমার যে দিনগুলো ছিল,   সেগুলো এখন আর স্মৃতি নয়,   একটা দীর্ঘ করিডোর—   যেখানে হাঁটলে   পায়ের শব্দে নিজেই চমকে উঠি। তোমার হাসির ভেতরে   আমি একসময় ঘর বানিয়েছিলাম,   জানালায় ঝুলিয়েছিলাম স্বপ্ন,   আর দরজার পাশে রেখে দিয়েছিলাম   ফিরে আসার অজুহাত। কিন্তু প্রেম কখনো ভাঙে না—   সে শুধু রূপ বদলায়।   আজ তুমি নেই,   তবুও ভিড়ের মাঝখানে   হঠাৎ মনে হয় কেউ আমার নাম ধরে ডাকছে। আমি ফিরে তাকাই—   শুধু একটা ছায়া,   আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়। জানো,   মানুষ চলে গেলে তার উপস্থিতি ফুরায় না,   বরং আরও স্পষ্ট হয়—   নীরবতার মতো স্পষ্ট,   অপূর্ণ চিঠির মতো স্পষ্ট। তোমাকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করিনি কখনো, ...

গর্ব — আমি উত্তরবঙ্গের সন্তান | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  গর্ব — এস এফ সেলিম আহম্মেদ যারা দূর থেকে হাসে, তাচ্ছিল্যের ঠোঁটে বলে— “মফিজ”, তারা জানে না, এই মাটির ধুলোতেও ইতিহাসের স্পন্দন আছে। আমরা নাকি নিজের ভালো বুঝি না! তবু প্রশ্ন রাখি— ভালো কি শুধু ভাতের নিশ্চয়তা, নাকি মাথা উঁচু রাখার অধিকার? পলাশীর পর যখন আশা ছিল নির্বাসনে, এই উত্তরের মাটিতেই জেগেছিল প্রতিরোধ— ফকির–সন্ন্যাসীর শপথে কেঁপেছিল সাম্রাজ্য। দাসত্ব মেনে নিলে হয়তো মিলত স্বস্তি, কিন্তু আমরা বেছে নিয়েছিলাম সম্মান। দেবী চৌধুরানীর চোখে ছিল বিদ্রোহের দীপ্তি, নুরুলদিনের কণ্ঠে ছিল বজ্রের ডাক— “জাগো বাহে, কোনঠে সবাই!” হেরে যাওয়ার ভয় নয়, অন্যায়ের কাছে নত হওয়াই ছিল লজ্জা। স্বাধীনতার প্রভাতে রংপুরের এক কিশোর বুক এগিয়ে বলেছিল— “রক্ত যদি লাগে, নাও; তবু স্বাধীনতা থামিও না।” তার পতনে নয়, তার দাঁড়িয়ে থাকাতেই জন্ম নিয়েছিল বিজয়। সময় ঘুরে আবার প্রমাণ— যখন প্রয়োজন, এই জনপদ থেকেই উঠে আসে অদম্য সাহস; কেউ বুক চিতায়, কেউ দেয় আলো, কেউ হয়ে যায় পথের দিশা। আমরা যোগ্যকে সম্মান করি— পদবী দেখে নয়, প্রজ্ঞা দেখে; প্রলো...

মনের শিকল | সাহস, স্বাধীনতা ও আত্মজাগরণের কবিতা

 কবিতার নাম: মনের শিকল   লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ গোলাম যদি একদিন নিজের শিকলকেই অলংকার ভেবে নেয়, তবে তাকে মুক্ত করার মতো শক্তি পৃথিবীর কোথাও জন্মায় না। কারণ শিকল সবসময় চোখে দেখা যায় না— কিছু শিকল লোহার, আর কিছু শিকল অদৃশ্য, নরম, নীরব… তবু পাহাড়ের থেকেও ভারী। সেগুলো বাঁধা থাকে মানুষের চিন্তায়, অভ্যাসে, ভয়ে, নীরবতায়। ধীরে ধীরে মানুষ মানিয়ে নিতে শেখে— অন্যায়কে বলে “এটাই তো নিয়ম”, অপমানকে ভাবে “ভাগ্য”, আর ভয়কে বানিয়ে ফেলে নিজের নিরাপদ আশ্রয়। তারপর একদিন সে আর আকাশের দিকে তাকায় না। স্বপ্ন দেখাও বন্ধ করে দেয়। যে মানুষ নিজের অধিকার ভুলে যায়, সে আসলে শুধু হারায় না তার স্বাধীনতা— হারায় তার আত্মা, তার ভেতরের আলো, তার ‘না’ বলার ক্ষমতা। মনে রেখো, মুক্তি কখনো দান নয়। মুক্তি কোনো পুরস্কার নয় যা কেউ এসে তোমার হাতে তুলে দেবে। মুক্তি জন্ম নেয় ভেতরের অস্বস্তি থেকে, এক অদ্ভুত অস্থিরতা থেকে, হৃদয়ের গভীর অন্ধকারে জ্বলে ওঠা এক ফোঁটা আলোর মতো প্রশ্ন থেকে— “আমি কি সত্যিই এভাবেই বাঁচতে চাই? নাকি আমি জন্মেছি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য?” যেদিন এই প্রশ্ন তোমার ঘুম ভাঙিয়ে দেবে, যেদিন আয়নায় নিজের চো...

নতুন ভোরের গান | এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

 নতুন ভোরের গান -এস এফ সেলিম আহম্মেদ  রাত পেরিয়ে রাঙা আকাশ, জাগে সোনালি ভোর, স্বপ্নগুলো ডানা মেলে ডাকে বারংবার। ত্যাগের রক্ত শুকায়নি এখনও মাটির বুকে, সাহস নিয়ে দাঁড়াও সবাই—সত্য থাকুক মুখে। ভয়কে আজ দূরে সরাও, হাতে রাখো হাত, ঐক্যের এই শক্তিতেই বদলাবে প্রভাত। তোমার আমার একটুকু ভোট, একটুকু বিশ্বাস, গড়বে আগামী দিনের সুখী বাংলাদেশ। শপথ নাও—অন্যায় দেখে নীরব থাকবো না আর, ন্যায়ের পথে চলবো সবাই, যতই আসুক ঝড়। শহীদদের সেই অঙ্গীকার বাজে হৃদয়জুড়ে, ইনসাফেরই পতাকা ওড়াও ঘরে ঘরে, দূরে। আল্লাহর নামে শুরু হোক নতুন দিনের পথ, সততায় লিখি ভবিষ্যৎ, মুছে যাক সব ক্ষত। কারণ যারা সত্য ধরে, হারেনা তারা কভু— রহমতেরই আলো নামে ধরণীর সব রবু। এসো গড়ি এমন দেশ—শান্তি যেখানে বাস, মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, নেই কোনো হতাশ। নতুন সূর্য উঠবেই দেখো, কাটবে আঁধার ঘোর— বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে এক নতুন ভোর।

ভোট কেন্দ্র পাহারা দে | শক্তিশালী রাজনৈতিক আবহের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 "ভোট কেন্দ্র পাহারা দে" এস এফ সেলিম আহম্মেদ গভীর রাত— নিস্তব্ধ নয়, উত্তেজনায় থরথর দেশ। অন্ধকারের বুক চিরে জেগে আছে গণতন্ত্রের শেষ প্রহর। কে যেন ফিসফিস করে বলে— “সাবধান! এই রাতেই ইতিহাস চুরি হয়, এই রাতেই ব্যালটের রঙ বদলে যায়, মানুষের অধিকার হারায় নিঃশব্দ ষড়যন্ত্রে।” তাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে আগুন চোখ, যুবকের হাতে জাগরণের মশাল, বৃদ্ধও দাঁড়িয়ে আছেন প্রহরী হয়ে— কারণ একটি ভোট মানে একটি জাতির সম্মান। শোনো ক্ষমতার লোভীরা! এই বাক্স কাগজের নয়— এখানে জমা আছে ক্ষুধার্ত মানুষের স্বপ্ন, নদীভাঙা জনপদের কান্না, বেকারের দীর্ঘশ্বাস, মায়ের অশ্রু, সন্তানের ভবিষ্যৎ। আজ পাহারা শুধু কেন্দ্র নয়, পাহারা দিতে হবে সত্যকে, পাহারা দিতে হবে স্বাধীন সিদ্ধান্তকে, পাহারা দিতে হবে রক্তে কেনা অধিকারকে। যদি আবার নামে কারচুপির কালো হাত, যদি আবার ছায়া নামে গণরায়ের ওপর— তবে জেনে রেখো, জেগে থাকা জনতা ভোরের সূর্যের মতোই অপ্রতিরোধ্য। হে প্রহরী! আরও শক্ত করে দাঁড়াও, ভয়কে পায়ে দলো— এই রাত পার হলেই নতুন সকাল জন্ম নেবে। ভোট কেন্দ্র পাহারা দে— যেন আগামী প্রজন্ম বলতে পারে, “সেই রাতে মানুষ জেগেছিল, তাই বেঁচে ...

মমতার ছায়া | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 মমতার ছায়া   এস এফ সেলিম আহম্মেদ  আজ শূন্য হয়ে গেল ঘরটা,   যেখানে হেসে ভরতো আলো।   মমতার হাতের উষ্ণতা   চোখে এসে মিলায় না কোনো ছায়ার সাথে।   মামী, তোমার কণ্ঠের সুর এখনও বাজে,   মনের গভীরে গোপন কণ্ঠে।   প্রিয় স্মৃতিগুলো ছুঁয়ে যায় হৃদয়,   বেদনা হয় নীরব শিরায়।   যেখানে ছিলে তুমি,   সেখানে যেন বয়ে চলে শান্ত নদী।   মামী, তোমার হাসি আর নেই,   শূন্যতার ঘ্রাণে ভেসে যায় দিন-রাত্রি।   তোমার রান্নার ঘ্রাণ,   তোমার গল্পের নরম ছোঁয়া,   সবই আজ মনে পড়ে,   মিষ্টি স্মৃতিতে ভরে ওঠে হৃদয়।   মরুতে একাকী পথ চলা,   তবুও তোমার স্মৃতিই পথ দেখাবে।   মামী, অস্তিত্ব হারিয়লে তুমি,   কিন্তু হৃদয়ের কোণে চিরকাল বাঁচবে।   তোমার ভালোবাসা ছাড়া জীবনটা অর্ধেক,   তবু জানি, তুমি আছো প্রতিটি বুকে,   প্রতি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি প্রার্থনায়,   মমতার ছায়া হয়ে, চিরক...

উৎসবের ভোট | কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

উৎসবের ভোট — এস এফ সেলিম আহম্মেদ ভোরের সোনার রোদে জাগে জনতার স্রোত, আজকে যেন ঈদ নেমেছে— এ যে উৎসবের ভোট। পথে পথে হাসির ঢেউ, প্রাণে নতুন সুর, একটি ছাপেই লিখবে সবাই আগামীরই নূর। রঙিন শাড়ি, সাদা পাঞ্জাবি, মুখে আলো ঝরে, স্বপ্নগুলো সারি বেঁধে দাঁড়ায় ভোটের ঘরে। বৃদ্ধ বলে— “এই অধিকার রাখবো প্রাণে ধরে,” তরুণ বলে— “দেশ গড়ার দিন এসেছে ফিরে!” কোলাহলে আকাশ ভাসে, তবু শৃঙ্খলা সাথে, গণতন্ত্রের দীপ জ্বলে মানুষেরই হাতে। ভেদাভেদ সব ভুলে গিয়ে এক কাতারে দাঁড়াই, আমার ভোটে আমার দেশ— এই শপথটাই চাই। উৎসব হোক আনন্দময়, তবু মনে রবে, সত্য ন্যায়ের পথ ধরেই ভবিষ্যৎটা গড়ে। ছোট্ট চিহ্ন, অমল শক্তি, বদলে দেয় যত— জাতির আশা, মানুষের ভাষা— এই তো আমার ভোট। তাই হাসিমুখে বলি আজ, উঠুক আলোর রথ— ঈদের সুখের মতো পবিত্র হোক প্রতিটি ভোট।

টাইটেল: গণভোটের দিন | মহাকাব্যিক কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 গণভোটের দিন   — এস এফ সেলিম আহম্মেদ যুগের সীমানায় দাঁড়িয়ে আজ   সময়ের মহাঘণ্টা বাজে,   ইতিহাস তার অগ্নিশিখা নিয়ে   নতুন অধ্যায় সাজে। ফেব্রুয়ারির এই প্রভাতে   সূর্য ওঠে রক্তিম আলোয়,   জনতার কণ্ঠ নীরব হলেও   শক্তি জমে ঢেউয়ের ঢলায়। বাতাস জুড়ে প্রশ্ন ভাসে—   কোন পথে যাবে দেশ?   অতীতের বাঁধন রাখবে ধরে,   নাকি ছুঁবে বদলের রেশ? দীর্ঘ পথের ক্লান্ত জাতি   স্বপ্ন বুকে নিয়ে দাঁড়ায়,   একটি ব্যালট—ছোট্ট কাগজ,   তবু ভবিষ্যৎ তাতেই গড়ায়। এ কাগজ নয়, এ যেন তলোয়ার,   অন্যায় ভাঙার শপথ;   এ যেন আলো, অন্ধকার ভেদে   দেখায় আগামী রথ। নীরব বুথের চার দেয়ালের মাঝে   কাঁপে না কোনো হাত,   কারণ জানে—এই ক্ষুদ্র চিহ্নেই   লিখিত হবে প্রভাত। সংবিধানের পৃষ্ঠায় নাকি   জাগবে নতুন ভাষা,   ক্ষমতার ভারসাম্যে গড়বে   সমতার প্রত্যাশা। অধিকারের দীপ জ্বলবে কি আরও,   ন্যায় হবে ক...

Title: ন্যায়ের রহমতের গান | ন্যায়, সত্য ও মানবতার কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  ন্যায়ের রহমতের গান কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ ন্যায় যদি না দাঁড়ায় দৃঢ়, রহমত নামে না ধরা, অন্যায়ের কালো মেঘে ঢেকে যায় দিগন্ত সারা। বিবেক যদি ঘুমিয়ে থাকে স্বার্থেরই মোহে, মানুষ তখন পথ হারায় অচেনা এক দোহে। সত্য যদি শিকল বাঁধা ক্ষমতার প্রাচীরে, আশার প্রদীপ নিভে যায় অন্ধকারের নীড়ে। অশ্রুভেজা দীর্ঘশ্বাস ভাসে নীরব রাতে, বিচারহীন পৃথিবী ডুবে হতাশারই ঘাতে। ন্যায় হলো ভোরের রবি, রাঙা আলোর ঢেউ, তারই ডাকে জেগে ওঠে সাহসী মানুষের ঢেউ। মিথ্যার যত উচ্চ দেয়াল একদিন হবে ক্ষয়, সত্যের জয়ধ্বনি উঠবে—ন্যায়েরই হবে জয়। অন্যায়ের সিংহাসন কাঁপে ক্ষণিক দম্ভ ভরে, ন্যায়ের শক্তি শিকড় গাঁথে যুগে যুগে ঘরে। ঝড় এলে যে বৃক্ষ থাকে মাটির সাথে মেশা, ন্যায় তেমনি অটল থাকে, না হয় কখনো শেষা। যেখানে বিচার বিকায় না স্বর্ণের মোহর দামে, সেই সমাজে রহমত নামে শান্তির স্নিগ্ধ থামে। হৃদয়ে হৃদয়ে গড়ে ওঠে বিশ্বাসেরই সেতু, মানবতার হাসি ফোটে—মুছে যায় সব ক্ষত। এসো তবে শপথ করি সত্যকে ভালোবেসে, ন্যায়ের পথে চলবো সবাই হাত রাখি হাতে মিশে। ভয় যদি আসে ...

ফাইলের ভেতর অন্ধকার | সত্য, ক্ষমতা ও ন্যায়ের প্রতীকী কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  ফাইলের ভেতর অন্ধকার — এস এফ সেলিম আহম্মেদ বন্ধ দরজার শহরে কোথাও জমে থাকে নীরব চিৎকার, কাগজের ভাঁজে ঘুমিয়ে থাকে অসংখ্য রাতের অন্ধকার। নামগুলো সব ঝলমলে যেন, আলোয় ঢাকা মুখ— তবু ছায়ারা জানে ঠিকই কোথায় লুকায় দুঃখ। ফাইল খুললেই ধুলো উড়ে, ইতিহাস কাঁপে ধীরে— সত্য যেন কাঁটার মুকুট পরে দাঁড়ায় ভয়ের নীড়ে। ক্ষমতার দেয়াল উঁচু বড়, কণ্ঠগুলো হয় ক্ষীণ— তবু একদিন শব্দ ভেঙে জেগে ওঠে রুদ্ধ দিন। প্রশ্নেরা সব আগুন হয়ে জ্বলে ওঠে কাল, ন্যায় কি শুধু শব্দ হবে, নাকি পাবে ডানা আর? ফাইল মানে শুধু কাগজ নয়, অগণিত না-বলা কথা— মানবতার আদালতে একদিন হবেই তাদের ব্যাখ্যা। অন্ধকার যত গভীর হোক, আলো হারায় না পথ— সত্য দেরিতে এলেও আসে, ভাঙতে মিথ্যার রথ। ```0

নিবেদন | মাধুর্যময় ছন্দে লেখা প্রেম ও অনুভূতির কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  নিবেদন — এস এফ সেলিম আহম্মেদ তোমার দ্বারে রাখলাম আজ নীরব মনের গান, অপ্রকাশিত স্বপ্নগুলো করুক তোমায় দান। শব্দ যতই কম হোক না, অনুভূতির ঢেউ— নিবেদন এই হৃদয়খানি, ফিরিয়ে দিও না কেউ। ভোরের শিশির কাঁপে যেমন ঘাসের সবুজ বুকে, তেমনি করে নামটি তোমার জাগে আমার সুখে। চাওয়া-পাওয়ার হিসেব ভুলে এসেছি শুধু তাই— এক মুঠো আলো দিলে তুমি অন্ধকারও গাই। যদি কখন পথ হারাই দূরের কোনো বাঁকে, হাত রেখো এই হাতের উপর নিঃশব্দ অনুরাগে। নিবেদন এই ভালোবাসা, নিবেদন এই প্রাণ— তোমার ছোঁয়ায় পূর্ণ হোক আমার সব গান।