পোস্টগুলি

অনাদি জিজ্ঞাসা | সাধু ভাষার দার্শনিক প্রেমকাব্য | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অনাদি জিজ্ঞাসা কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬ ইং। তোমার নয়নপানে চাহিয়া আমি কেবল তোমার রূপই অবলোকন করি না— অবলোকন করি যুগযুগান্তসঞ্চিত কালক্লান্তির নীরব স্রোত, অবলোকন করি নক্ষত্রলোকের নিঃসঙ্গ পরিভ্রমণ, অবলোকন করি সেই অনাদি জিজ্ঞাসা, যাহার উত্তরান্বেষণে মানবাত্মা যুগ হইতে যুগান্তরে নিরবচ্ছিন্ন অভিযাত্রায় রত রহিয়াছে। তোমার অধরকম্পনে আমি কেবল প্রণয়ের আহ্বানই শ্রবণ করি না— শ্রবণ করি সৃষ্টির আদি নিঃশ্বাস, শ্রবণ করি মহাশূন্যের গূঢ় নীরব অনুনাদ। তোমার সান্নিধ্যে আসিয়া আমি কেবল এক মানবীর সম্মুখে আসি না— আসি এক অনির্বচনীয় রহস্যতত্ত্বের সম্মুখে, যেখানে প্রণয়, প্রজ্ঞা, বিষাদ ও লাবণ্য পরস্পরে অবিচ্ছেদ্য হইয়া রহিয়াছে। হে অনির্বচনীয়া, তুমি কি কেবল নশ্বরতার আবরণে আবৃত এক ক্ষণভঙ্গুর সত্তা? না কি তুমি চিরন্তনেরই এক আভাসমাত্র? আমি যবে তোমার করতল স্পর্শ করি, তবে স্পর্শ করি সময়ের প্রবাহ, জীবন ও মৃত্যুর অন্তর্বর্তী সমুদয় রহস্য। অতঃপর অনুধাবন করি— প্রণয় কোনো প্রাপ্তির নাম নহে; প্রণয় সেই উপলব্ধি, যেখানে দুইটি নশ্বর প্রাণ পরস্পরের অন্তরে অনন্তের নীরব আভাস প্রত্যক্ষ করে। এবং সে...

আত্মার অদৃশ্য সম্বন্ধ | দার্শনিক প্রেমের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 আত্মার অদৃশ্য সম্বন্ধ কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০১ জুন ২০২৬ ইং। কি অদ্ভুত এক মিলন রহিয়াছে— তুমি হাসিলে, আমিও হাসিয়া উঠি; তোমার অধরে ফুটিয়া ওঠা ক্ষণিক আলোর রেখা আমার অন্তর-আকাশে প্রভাতের সূচনা করে। তুমি বিষণ্ন হইলে, আমার হৃদয়-মন্দিরে নীরব ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়া উঠে; যেন অদৃশ্য কোনো বেদনাস্রোত এক আত্মা হইতে অপর আত্মায় প্রবাহিত হয়। তোমার আনন্দে আমার অস্তিত্বে উৎসবের আলো জ্বলে, তোমার অশ্রুতে আমার নয়ন সজল হয়; ইহা কি কেবল মনের খেলা, না কি সময়ের অন্তরালে লুকায়িত কোনো চিরন্তন বন্ধন? যখন তোমার মন আচ্ছন্ন হয় মেঘে, আমার অন্তঃকরণে বৈশাখী ঝড়ের আরম্ভ ঘটে; কারণ, পৃথক দেহে আবদ্ধ হইলেও সম্ভবত আমাদের বেদনার উৎস এক, এবং আনন্দের দীপও একই শিখা হইতে প্রজ্বলিত। মানুষ ভাবে— সে স্বতন্ত্র, সে একাকী, সে বিচ্ছিন্ন; কিন্তু মহাকালের গভীর নীরবতা কহে— সকল প্রাণ এক অনন্ত সাগরের তরঙ্গমাত্র। তাই তোমার হাসি আমার হাসি, তোমার কান্না আমার কান্না; আমরা দুইজন নহি— একই সত্যের দুইটি প্রতিবিম্ব, একই নীরবতার দুইটি প্রতিধ্বনি, একই অনন্তের দুইটি ক্ষণস্থায়ী নাম। / যাহা তুমি অনুভব কর, তাহারই অনুরণন আমি; আর যাহা আ...

প্রাণের অন্ন | প্রেম ও জীবনের দার্শনিক কবিতা | এস এ ফ সেলিম আহম্মেদ

 প্রাণের অন্ন কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৩১ মে ২০২৬ ইং। উদরের ক্ষুধা কিসে মেটে? অন্নকণার দানে; তৃষিত অধর কিসে ভিজে? নির্মল সলিলপানে। কিন্তু কহ, হে মনুষ্য, কহ— প্রাণের ক্ষুধা কিসে যায়? অন্তর-মরুর শুষ্ক প্রান্তর কোন্ বরিষণে স্নিগ্ধতায়? স্বর্ণরাশি কি তাহা পারে? রত্নভাণ্ডার পারে কি? যাহা আজিকে দীপ্তিমান, কাল তাহা ধূলির সম। যশের মালা কি চিরস্থায়ী? ক্ষমতা কি অমর হয়? দিনের গৌরব সন্ধ্যা নামিলে নিশার আঁধারে বিলয় লয়। তবে সে ধন কোথায় রহে, যাহার নাহি ক্ষয়? তবে সে দীপ কোথায় জ্বলে, যাহা কভু নাহি নিভয়? প্রেমের মাঝে রহে সে ধন, প্রেমে জ্বলে সে দীপ; কালের ঝড়ে যাহা নাহি টলে, মৃত্যুতেও থাকে সজীব। প্রেম কাহাকে বলে তবে? শুন হে মন, নির্ভয়ে— ‘আমি’ যেথায় বিলীন হইয়া যায়, ‘তুমি’ জাগে হৃদয়ে। সুখ কাহাকে বলে তবে? প্রাপ্তির অহংকার নয়; অপরের হাসির সহিত নিজ হাসিখানি লয়। জীবন কাহাকে বলে তবে? বৎসরগণনার নাম? নহে, নহে—প্রেমের তরে আত্মসমর্পণের পথ। অন্নে শরীর পুষ্টি পায়, জ্ঞান আলো দেয় মনে; প্রেমবিহীন জীবনখানি শুষ্ক তরুর সম বনে। ভাতে মেটে উদরের ক্ষুধা, জলে তৃষার দাহ; প্রেমবিহীন জীবন কেবল দেহের স...

অন্তর্লীন উত্তর | দার্শনিক প্রেমকাব্য | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অন্তর্লীন উত্তর  কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৩০ মে ২০২৬ ইং। তোমারে দর্শন করিলে অন্তর হইতে শব্দের অধিকার লুপ্ত হয়; যেন অনন্তের সহিত ক্ষণিকের এক গুপ্ত সন্ধি সম্পন্ন হইয়াছে। চন্দ্র তখন আকাশে থাকে বটে, কিন্তু তাহার আর কোনো সংবাদ থাকে না; কারণ আলোককে অতিক্রম করিয়া আমি আলোকের কারণ সম্বন্ধে চিন্তা করিতে থাকি। পুষ্প তখনও প্রস্ফুটিত হয়, কিন্তু সৌরভের প্রতি মন যায় না; যেন রূপের অন্তরালে রহিয়াছে আর-এক রূপ, যাহার তুলনায় দৃশ্যমান জগৎ নিজেকেই স্বপ্ন বলিয়া সন্দেহ করে। তোমার নয়নে চাহিয়া বারংবার এই বোধ জাগে— সত্য কি তবে দৃশ্য নহে, দৃশ্য কি তবে সত্যের কেবল ছায়া? কাল তখন গমন করে, কিন্তু তাহার গতি অনুভূত হয় না; যেন অতীত, বর্তমান ও অনাগত এক বিন্দুতে আসিয়া আপন আপন নাম বিসর্জন দিয়াছে। তোমারে দেখিয়া মুগ্ধতা জন্মে না— মুগ্ধতা তো বিস্ময়ের ক্ষুদ্রতম রূপ; বরং এক গভীর নীরবতা অবতীর্ণ হয়, যাহার সম্মুখে চিন্তাও আপন সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে। আর তখন মনে হয়— এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, ইহার অসংখ্য নক্ষত্র ও সহস্র বর্ষের ইতিহাসসহ, কেবল এক প্রশ্ন; আর তুমি— সেই প্রশ্নের অন্তর্লীন নীরব উত্তর।

প্রতীক্ষার পূর্বমুহূর্ত | দার্শনিক প্রেমের কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  প্রতীক্ষার পূর্বমুহূর্ত    কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৯ মে ২০২৬ ইং। আজিকার এই প্রতীক্ষা   কেবল কোনো নারীর আগমনের নিমিত্ত নহে—   ইহা যেন সময়ের সহিত   আত্মার এক গুপ্ত সন্ধি।   মনে হয়,   দূর নক্ষত্রলোকের নীরবতা ভেদ করিয়া   অদৃশ্য নিয়তি   ধীরে ধীরে নিকটবর্তী হইতেছে।   আমি স্থির আছি বটে,   কিন্তু অন্তরের সমস্ত পথ   বহুকাল পূর্বেই   তোমার অভিমুখে গমন করিয়াছে।   চারিদিকের কোলাহল আজ   এক রহস্যময় স্তব্ধতায় নিমগ্ন;   যেন পৃথিবী নিজেই   কাহারো আগমনের পূর্বে   নিশ্বাস রুদ্ধ করিয়া রহিয়াছে।   তুমি আসিবে—   এ বিশ্বাসের মধ্যেই   এক গভীর অনন্ত লুকায়িত;   কারণ কখনো কখনো   একটি দৃষ্টির মধ্য দিয়াই   মানুষ চিরকালের আভাস লাভ করে।

অস্তিত্বের কুরবানি | ঈদুল আযহা ভিত্তিক দার্শনিক উচ্চাঙ্গ কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অস্তিত্বের কুরবানি কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৭ মে ২০২৬ ইং। শুধু অনন্ত মমতাটুকু রহুক—   অবশিষ্ট সকল উচ্চাভিলাষ, সকল আত্মাভিমান, সকল পার্থিব মোহ   মহাকালের নিঃশব্দ চুল্লিতে দগ্ধ হইয়া যাক।   কারণ—   মানুষ মূলত মাংস নহে,   মানুষ এক দীর্ঘ দহন;   এক অনির্বচনীয় অন্তর্গত ক্ষুধা,   যাহা যুগে যুগে   নিজ অন্ধকারকেই ভক্ষণ করিয়া   আলোর দিকে অগ্রসর হইতে চাহিয়াছে।   এই ঈদ—   কেবল রক্তের লাল উপাখ্যান নহে;   ইহা আত্মার গহ্বরস্থিত পশুত্বের বিরুদ্ধে   ঘোষিত এক মহাপ্রলয়ী নৈঃশব্দ্য।   যে ব্যক্তি   ছুরির ধার শাণিত করে, অথচ হৃদয়ের অন্ধকার অক্ষত রাখে—   সে কেবল মাটি রঞ্জিত করে,   আসমান নহে।   আর যে মানুষ   নিজ অহংকারের কণ্ঠদেশে   করুণার ফলক স্থাপন করিতে পারে,   মহাবিশ্ব তাহার নীরবতার প্রতিই সিজদাবনত হয়।   হে মানবসভ্যতা,   তোমার সমস্ত যুদ্ধ মূলত   তোমার নিজের সহ...

ঈদের শহরে ফুটপাত | ঈদুল আযহা নিয়ে মানবিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 ঈদের শহরে ফুটপাত কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৬ মে ২০২৬ ইং। ঈদের রাত। শহর ভরে যায় আলোয়, দোকানের কাঁচে ঝুলে থাকে নতুন জামা। মসজিদ থেকে তাকবীর আসে। আর ফুটপাতে একটা শিশু পলিথিন টেনে ঘুমায়। তার পাশে অর্ধেক খাওয়া রুটি, একটা ছেঁড়া বোতল, আর শুকিয়ে যাওয়া কাদা। দূরে কোথাও মাংস কাটা হচ্ছে। গন্ধ আসে। শিশুটার ঘুম ভাঙে না। রাস্তায় বসে থাকা নারীটা চুপচাপ নিজের হাত দেখে। পুরনো মেহেদি কালচে হয়ে আছে এখনো। তার কোলে ঘুমিয়ে পড়া বাচ্চা— মাঝে মাঝে মশা তাড়ায় হাত নেড়ে। একটা মানুষ ফুটপাতের শেষ মাথায় চাদর বিছায়। সারাদিনের ধুলো এখনো লেগে আছে পায়ে। সে আকাশ দেখে না, পাশ ফিরেই শুয়ে পড়ে। ঈদের শহর তখনও জেগে— হাসি, ছবি, ধোঁয়া ওঠা রান্না, গাড়ির শব্দ। আর ফুটপাত ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে যায়। একটা কুকুর ডাস্টবিন ঘাঁটে। একটা শিশু ঘুমের ভিতর কেঁপে ওঠে। দূরে তাকবীর চলতে থাকে। এই শহরে সবাই ঈদ পায় না। কেউ কেউ শুধু রাত পায়।