পোস্টগুলি

মে, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রাণের অন্ন | প্রেম ও জীবনের দার্শনিক কবিতা | এস এ ফ সেলিম আহম্মেদ

 প্রাণের অন্ন কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৩১ মে ২০২৬ ইং। উদরের ক্ষুধা কিসে মেটে? অন্নকণার দানে; তৃষিত অধর কিসে ভিজে? নির্মল সলিলপানে। কিন্তু কহ, হে মনুষ্য, কহ— প্রাণের ক্ষুধা কিসে যায়? অন্তর-মরুর শুষ্ক প্রান্তর কোন্ বরিষণে স্নিগ্ধতায়? স্বর্ণরাশি কি তাহা পারে? রত্নভাণ্ডার পারে কি? যাহা আজিকে দীপ্তিমান, কাল তাহা ধূলির সম। যশের মালা কি চিরস্থায়ী? ক্ষমতা কি অমর হয়? দিনের গৌরব সন্ধ্যা নামিলে নিশার আঁধারে বিলয় লয়। তবে সে ধন কোথায় রহে, যাহার নাহি ক্ষয়? তবে সে দীপ কোথায় জ্বলে, যাহা কভু নাহি নিভয়? প্রেমের মাঝে রহে সে ধন, প্রেমে জ্বলে সে দীপ; কালের ঝড়ে যাহা নাহি টলে, মৃত্যুতেও থাকে সজীব। প্রেম কাহাকে বলে তবে? শুন হে মন, নির্ভয়ে— ‘আমি’ যেথায় বিলীন হইয়া যায়, ‘তুমি’ জাগে হৃদয়ে। সুখ কাহাকে বলে তবে? প্রাপ্তির অহংকার নয়; অপরের হাসির সহিত নিজ হাসিখানি লয়। জীবন কাহাকে বলে তবে? বৎসরগণনার নাম? নহে, নহে—প্রেমের তরে আত্মসমর্পণের পথ। অন্নে শরীর পুষ্টি পায়, জ্ঞান আলো দেয় মনে; প্রেমবিহীন জীবনখানি শুষ্ক তরুর সম বনে। ভাতে মেটে উদরের ক্ষুধা, জলে তৃষার দাহ; প্রেমবিহীন জীবন কেবল দেহের স...

অন্তর্লীন উত্তর | দার্শনিক প্রেমকাব্য | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অন্তর্লীন উত্তর  কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৩০ মে ২০২৬ ইং। তোমারে দর্শন করিলে অন্তর হইতে শব্দের অধিকার লুপ্ত হয়; যেন অনন্তের সহিত ক্ষণিকের এক গুপ্ত সন্ধি সম্পন্ন হইয়াছে। চন্দ্র তখন আকাশে থাকে বটে, কিন্তু তাহার আর কোনো সংবাদ থাকে না; কারণ আলোককে অতিক্রম করিয়া আমি আলোকের কারণ সম্বন্ধে চিন্তা করিতে থাকি। পুষ্প তখনও প্রস্ফুটিত হয়, কিন্তু সৌরভের প্রতি মন যায় না; যেন রূপের অন্তরালে রহিয়াছে আর-এক রূপ, যাহার তুলনায় দৃশ্যমান জগৎ নিজেকেই স্বপ্ন বলিয়া সন্দেহ করে। তোমার নয়নে চাহিয়া বারংবার এই বোধ জাগে— সত্য কি তবে দৃশ্য নহে, দৃশ্য কি তবে সত্যের কেবল ছায়া? কাল তখন গমন করে, কিন্তু তাহার গতি অনুভূত হয় না; যেন অতীত, বর্তমান ও অনাগত এক বিন্দুতে আসিয়া আপন আপন নাম বিসর্জন দিয়াছে। তোমারে দেখিয়া মুগ্ধতা জন্মে না— মুগ্ধতা তো বিস্ময়ের ক্ষুদ্রতম রূপ; বরং এক গভীর নীরবতা অবতীর্ণ হয়, যাহার সম্মুখে চিন্তাও আপন সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে। আর তখন মনে হয়— এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড, ইহার অসংখ্য নক্ষত্র ও সহস্র বর্ষের ইতিহাসসহ, কেবল এক প্রশ্ন; আর তুমি— সেই প্রশ্নের অন্তর্লীন নীরব উত্তর।

প্রতীক্ষার পূর্বমুহূর্ত | দার্শনিক প্রেমের কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  প্রতীক্ষার পূর্বমুহূর্ত    কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৯ মে ২০২৬ ইং। আজিকার এই প্রতীক্ষা   কেবল কোনো নারীর আগমনের নিমিত্ত নহে—   ইহা যেন সময়ের সহিত   আত্মার এক গুপ্ত সন্ধি।   মনে হয়,   দূর নক্ষত্রলোকের নীরবতা ভেদ করিয়া   অদৃশ্য নিয়তি   ধীরে ধীরে নিকটবর্তী হইতেছে।   আমি স্থির আছি বটে,   কিন্তু অন্তরের সমস্ত পথ   বহুকাল পূর্বেই   তোমার অভিমুখে গমন করিয়াছে।   চারিদিকের কোলাহল আজ   এক রহস্যময় স্তব্ধতায় নিমগ্ন;   যেন পৃথিবী নিজেই   কাহারো আগমনের পূর্বে   নিশ্বাস রুদ্ধ করিয়া রহিয়াছে।   তুমি আসিবে—   এ বিশ্বাসের মধ্যেই   এক গভীর অনন্ত লুকায়িত;   কারণ কখনো কখনো   একটি দৃষ্টির মধ্য দিয়াই   মানুষ চিরকালের আভাস লাভ করে।

অস্তিত্বের কুরবানি | ঈদুল আযহা ভিত্তিক দার্শনিক উচ্চাঙ্গ কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অস্তিত্বের কুরবানি কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৭ মে ২০২৬ ইং। শুধু অনন্ত মমতাটুকু রহুক—   অবশিষ্ট সকল উচ্চাভিলাষ, সকল আত্মাভিমান, সকল পার্থিব মোহ   মহাকালের নিঃশব্দ চুল্লিতে দগ্ধ হইয়া যাক।   কারণ—   মানুষ মূলত মাংস নহে,   মানুষ এক দীর্ঘ দহন;   এক অনির্বচনীয় অন্তর্গত ক্ষুধা,   যাহা যুগে যুগে   নিজ অন্ধকারকেই ভক্ষণ করিয়া   আলোর দিকে অগ্রসর হইতে চাহিয়াছে।   এই ঈদ—   কেবল রক্তের লাল উপাখ্যান নহে;   ইহা আত্মার গহ্বরস্থিত পশুত্বের বিরুদ্ধে   ঘোষিত এক মহাপ্রলয়ী নৈঃশব্দ্য।   যে ব্যক্তি   ছুরির ধার শাণিত করে, অথচ হৃদয়ের অন্ধকার অক্ষত রাখে—   সে কেবল মাটি রঞ্জিত করে,   আসমান নহে।   আর যে মানুষ   নিজ অহংকারের কণ্ঠদেশে   করুণার ফলক স্থাপন করিতে পারে,   মহাবিশ্ব তাহার নীরবতার প্রতিই সিজদাবনত হয়।   হে মানবসভ্যতা,   তোমার সমস্ত যুদ্ধ মূলত   তোমার নিজের সহ...

ঈদের শহরে ফুটপাত | ঈদুল আযহা নিয়ে মানবিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 ঈদের শহরে ফুটপাত কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৬ মে ২০২৬ ইং। ঈদের রাত। শহর ভরে যায় আলোয়, দোকানের কাঁচে ঝুলে থাকে নতুন জামা। মসজিদ থেকে তাকবীর আসে। আর ফুটপাতে একটা শিশু পলিথিন টেনে ঘুমায়। তার পাশে অর্ধেক খাওয়া রুটি, একটা ছেঁড়া বোতল, আর শুকিয়ে যাওয়া কাদা। দূরে কোথাও মাংস কাটা হচ্ছে। গন্ধ আসে। শিশুটার ঘুম ভাঙে না। রাস্তায় বসে থাকা নারীটা চুপচাপ নিজের হাত দেখে। পুরনো মেহেদি কালচে হয়ে আছে এখনো। তার কোলে ঘুমিয়ে পড়া বাচ্চা— মাঝে মাঝে মশা তাড়ায় হাত নেড়ে। একটা মানুষ ফুটপাতের শেষ মাথায় চাদর বিছায়। সারাদিনের ধুলো এখনো লেগে আছে পায়ে। সে আকাশ দেখে না, পাশ ফিরেই শুয়ে পড়ে। ঈদের শহর তখনও জেগে— হাসি, ছবি, ধোঁয়া ওঠা রান্না, গাড়ির শব্দ। আর ফুটপাত ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে যায়। একটা কুকুর ডাস্টবিন ঘাঁটে। একটা শিশু ঘুমের ভিতর কেঁপে ওঠে। দূরে তাকবীর চলতে থাকে। এই শহরে সবাই ঈদ পায় না। কেউ কেউ শুধু রাত পায়।

অসমাপ্ত বজ্রধ্বনি | নজরুল জন্মদিনে এক আধুনিক কাব্যিক শ্রদ্ধাঞ্জলি

 অসমাপ্ত বজ্রধ্বনি কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৫ মে ২০২৬ ইং। নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে,,,, আজও   “কারার ঐ লৌহকপাট”   পুরোপুরি ভাঙেনি, নজরুল।   শুধু কারাগারের রূপ বদলেছে।   মানুষ এখন   নিজের ভিতরেই বন্দি থাকে। — কাজী নজরুল ইসলাম / তুমি লিখেছিলে—   “গাহি সাম্যের গান”   আর পৃথিবী   সেই গান মুখস্থ করে   মানুষকে ভাগ করার নতুন নতুন উপায় আবিষ্কার করেছে। : “আমি চির বিদ্রোহী বীর”—   এই উচ্চারণ আজও আকাশে ওঠে,   কিন্তু বিদ্রোহ এখন   তলোয়ার হাতে আসে না;   এখন   একটি সত্য কথা বলার সাহসই   সবচেয়ে বিপজ্জনক আগুন। / তুমি বলেছিলে—   “মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী,   আর হাতে রণতূর্য।” এই দুই হাতের মাঝখানেই   আটকে আছে পৃথিবী—   একদিকে মানুষ যুদ্ধ শেখে,   অন্যদিকে   ভালোবাসার ভাষা ভুলে যায়। : আজ তোমার জন্মদিনে   বাংলার আকাশে আবার   অসংখ্য কণ্ঠ উচ্চারণ করে—   “...

বাংলাদেশ : শেষ আলোর ভূগোল | আধুনিক রাজনৈতিক ও দার্শনিক কবিতা

 “বাংলাদেশ : শেষ আলোর ভূগোল” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ । তারিখ: ২৪ মে ২০২৬ ইং। পৃথিবী এখন   টাই-পরা কসাইদের নিয়ন্ত্রণে।   মানচিত্রের ভেতর   ক্ষুধার্ত দাঁত।   সমুদ্রের নিচে   চুক্তির মাইন পুঁতে রাখা।   বড় পতাকাগুলো   ছোট পতাকার ঘাড়ে   বুট রেখে দাঁড়ায়।   এখন যুদ্ধ শুরু হয়   মিসাইল ছোঁড়ার আগেই—   স্টক মার্কেটের হাসিতে।   শিশুরা   আকাশে পাখি কম,   ড্রোন বেশি চেনে।   মানুষের মুখে এখন   হাসির চেয়ে   আইডেন্টিটি কার্ড বেশি ঝুলে।   ধর্ম—   অনেকের কাছে   আর আত্মার দরজা না,   বরং নিরাপদ বাংকার।   সভ্যতা এত দূর গেছে   যে ফিরে আসার পথটাই   মুছে ফেলেছে।   পৃথিবী আসলে   ধীরে ধীরে   নিজের ভেতরের আলো খেয়ে ফেলছে।   : তবুও   এই ধ্বংসস্তূপের সময়েও   একটি সবুজ ভূখণ্ড   এখনো সন্ধ্যায় ...

রোদের উৎসবে জীবন | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 রোদের উৎসবে জীবন                  — এস এফ সেলিম আহম্মেদ তারিখ: ২২ মে ২০২৬ ইং। ছোট্ট এই জীবনটা—   ভোরের নদীতে ভেসে থাকা   একটি রোদমাখা পালতোলা নৌকা।   মন চায়   সাদা পাল তুলে   দিগন্তের নীল দরজায় গিয়ে   বাতাসের হাতে হাত রেখে   দুলতে দুলতে হারিয়ে যাই।   চারদিকে শুধু আলো—   জলের বুকে সোনালি কম্পন,   ঢেউয়ের ভিতর ঝিকিমিকি দুপুর,   আর আকাশ   তার নীল সুখগুলো   অবিরাম ছড়িয়ে দেয় পৃথিবীর গায়ে।   কত পাখি উড়ে যায়   রোদের গোপন সুর বুকে নিয়ে,   কত বাতাস   চুপিচুপি ছুঁয়ে দেয়   অবসন্ন হৃদয়ের জানালা।   তখন মনে হয়—   জীবন আসলে কোনো ভার নয়,   জীবন মানে   অকারণ ভালো লাগার আলো,   নদীর জলে ভেসে থাকা   এক মুঠো আনন্দের প্রতিচ্ছবি।   সময়গুলো ফুরিয়ে যাক   হাসির ভিতর,   উৎসবের ভিত...

এই দেশ পোস্ট লিখে ঘুমায় | ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদী কবিতা

 এই দেশ পোস্ট লিখে ঘুমায়   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২১ মে ২০২৬ ইং। আজও টাইমলাইনে আগুন :   “ফাঁসি চাই”   “ধর্ষকের বিচার চাই”   “মানববন্ধন সফল হোক”   তারপর —   সবাই রাত দশটার মধ্যে   ডালভাত খেয়ে   কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমায়।   এই দেশ পোস্ট লিখে ঘুমায়।   :   শিশুটির ছেঁড়া জামা   এখনও আদালতে সাক্ষী দেয়,   আর রাষ্ট্র   ফাইলের ভাঁজে ভাঁজে   ন্যায়বিচারের লাশ লুকায়।   ধর্ষককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় —   ক্যামেরা অন,   মাইক্রোফোন অন,   দেশপ্রেম অন।   এক সপ্তাহ পরে :   ধর্ষক বাড়ি ফিরে আসে   বীর মুক্তিযোদ্ধার মতো অভ্যর্থনা নিয়ে।   শুধু শিশুটি ফেরে না।   কারণ মৃত শিশুরা   জামিন পায় না।   :   ত্রিশ লক্ষ শহীদের দেশ নাকি এটা?   না —   এটা এখন   সভ্যতার লাইসেন্সধারী নরপশুর খামার।   এখানে পতাকা উড়...

চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন | ইসলামিক দার্শনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 চূড়ান্ত প্রত্যাবর্তন   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ তারিখ: ২০ মে ২০২৬ ইং। মানুষের হৃদয় আসলে   অস্থায়িত্বের এক সূক্ষ্ম প্রতারণা।   যেখানে আশ্রয় বলে কিছু নেই—   শুধু অভ্যাসের দীর্ঘ ভ্রমণ। এই দুনিয়া :   এক চলমান অনিত্যতার পাঠশালা।   এখানে সম্পর্কের গায়ে   নীরবে লেখা থাকে— “সময়সাপেক্ষ”। কারও চোখে যে তুই আপন খুঁজিস,   সেই চোখই একদিন   অন্য কারও গল্পে হারিয়ে যায়।   মানুষ এখানে মানুষকে ধরে না,   ধরে শুধু নিজের শূন্যতার ছায়া।   ভালোবাসাও তাই স্থায়ী নয়—   সে কেবল এক সাময়িক বিস্মরণ। সব হাতই শেষ পর্যন্ত ফাঁকা হয়,   সব নামই একদিন নিঃশব্দ হয়ে যায়।   জীবন নিজেই সাক্ষ্য দেয়—   কেউ কারও চূড়ান্ত ঠিকানা নয়। কবরের নীরবতা তখন স্পষ্ট করে দেয় :   সব সম্পর্ক ছিল কেবল   ক্ষণিক আলো আর দীর্ঘ অন্ধকারের মাঝের সেতু। তারপর আসে এক অনিবার্য সত্য—   সব প্রত্যাবর্তন মুছে দিয়ে   মানুষ ফিরে যায় তার উৎস...

একটি জীবিত প্রদীপের দিকে | আধুনিক বাংলা কবিতা | এস এ ফ সেলিম আহম্মেদ

 ## “একটি জীবিত প্রদীপের দিকে”   **কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।**   ***এই কবিতা নিবেদিত— সেই অনুচ্চারিত সত্তার প্রতি, যাহা আমার ভিতরে নীরবে প্রদীপ জ্বালাইয়া রাখে। **তারিখ: ১৯ মে ২০২৬ ইং।** ***************************************** তোমাকে পাওয়ার আগে   আমার সমস্ত দিনযাপন   একটি বিলম্বিত অস্তগমন ছিল : যেখানে রাত্রি   ধীরে ধীরে   নিজেরই ভিতরে নিমজ্জিত হইত। আমি তখন   নির্জনতার অনুবাদক মাত্র—   ধূলি, নৈঃশব্দ্য ও পরিত্যক্ত আকাশের   এক ক্ষুদ্র সহোদর। তারপর তুমি আসিলে। আগমনের কোনো শব্দ ছিল না,   তবু অনুভব করিলাম :   আমার অন্তর্গত শূন্যতার গভীরে   একটি সুদূর নক্ষত্র   ধীরে ধীরে আলো খুলিতেছে। সুখের যত বিস্মৃত উপকূল   অবহেলায় নিদ্রিত ছিল,   তোমার স্পর্শে তারা পুনরায় জলে নামিল।   বহু মৃত জানালা   হঠাৎ বাতাস চিনিতে শিখিল। ভালোবাসার যত মোহনা ছিল—   সবশেষে এসে   তোমার দুই চক্ষুর নীল গভীরতায়   নীরবে ...

ক্ষয়পক্ষ | আধুনিক দার্শনিক বাংলা কবিতা | এমোশনাল সিগনেচার পোয়েট্রি

 ক্ষয়পক্ষ   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৮ মে ২০২৬ ইং  আমি তো একদিন থাকব না :   বিষয়টা নতুন কিছু না।   মহাবিশ্ব শুরু থেকেই   ক্ষয়ের দিকে ঝুঁকে আছে।   মানুষ শুধু   ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট পায় বলে   তাকে ট্র্যাজেডি মনে হয়।   তবু তুমি   আমাকে এমনভাবে ভালোবেসেছিলে—   যেন আমি   তোমার জীবনের শেষ স্থায়িত্ব।   অথচ আমি ছিলাম :   কিছু অনিয়ন্ত্রিত অন্ধকার,   কয়েকটি দেরিতে নিভে যাওয়া মানসিক ঋতু,   আর ভিতরে ভিতরে   নিজের বিরুদ্ধেই চলতে থাকা এক মানুষ।   আমি জানতাম /   একদিন আমার না-থাকা   আমার থাকার চেয়েও বড় হয়ে যাবে।   ঠিক যেমন—   মৃত নক্ষত্রের আলো   অনেক পরে এসে পৌঁছায় পৃথিবীতে।   তারপর তুমি মাঝরাতে   হঠাৎ জেগে উঠবে।   কোনো শব্দ হবে না /   শুধু মনে হবে :   পৃথিবী থেকে   খুব নির্দিষ্ট কিছু উষ্ণতা কমে গ...

আমার ভিতরের বর্ষা | আধুনিক বাংলা বিরহের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 আমার ভিতরের বর্ষা কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৭ মে ২০২৬ ইং। সকালের ঝলমলে রোদ / অথবা পূর্ণিমার নরম সাদা আলো— কেউ জানে না, মানুষের ভেতরেও আলাদা এক আবহাওয়া থাকে। বাইরে রোদ উঠলেও ভেতরের বৃষ্টি থামে না। কত হেমন্ত এসে জানালার পাশে শুকনো পাতার শব্দ রেখে গেছে, কত বসন্ত ফুলের গন্ধ ছড়িয়ে অন্য কারও হাত ধরে চলে গেছে— তবুও আমার চোখে আজও শুধু বর্ষা। রাত গভীর হলে এই শহর অদ্ভুত নীরব হয়ে যায়। দূরের বাতিগুলোকে তখন মনে হয় ডুবে যাওয়া জাহাজের শেষ সংকেত। আমি জানালার পাশে বসে তোমার অনুপস্থিতির শব্দ শুনি। তুমি চলে যাওয়ার পর ঘড়িগুলোও যেন ধীরে হাঁটে। সময় এখন আর সময় না, একটা দীর্ঘ ক্লান্ত রাস্তা— যেখানে প্রতিটা মোড়ে তোমার স্মৃতি দাঁড়িয়ে থাকে। মাঝে মাঝে মনে হয়, তুমি আসলে মানুষ ছিলে না— একটা ঋতু ছিলে। তোমার আসার আগে আমার ভিতরে এত বৃষ্টি ছিল না। তোমার নিঃশ্বাসে জড়ানো যে প্রাণ, সে এখন নিস্তেজ : ধীরে নিভে যাওয়া পুরোনো নক্ষত্রের মতো। আমি এখনো বেঁচে আছি, কিন্তু ঠিক মানুষের মতো না। আমার ভিতরে প্রতিদিন একটু একটু করে ডুবে যায় শব্দ, ডুবে যায় ঘুম, ডুবে যায় ভবিষ্যৎ। শুধু ডুবে যায় না তোমার রেখ...

ভুল শতাব্দীর চাঁদ | এস এফ সেলিম আহম্মেদের আধুনিক দার্শনিক কবিতা

 ভুল শতাব্দীর চাঁদ   কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ : ১৬ মে ২০২৬ ইং । তুমি কিন্তু ভীষণ বোকা মানুষ—   বোকা না হলে   একটা ভাঙা ঘরের সামনে   এভাবে বারবার এসে দাঁড়াতে না।   তুমি বুঝো না ?   কিছু মানুষ থাকে—   যাদের ভিতরে   আস্ত একটা বিদ্যুৎহীন শহর মরে পড়ে থাকে ;   বাইরে শুধু হাসির পোস্টার টাঙানো থাকে।   তুমি সেই পোস্টার দেখে ভুল করেছো।   তোমার মতো এত সুন্দর চাঁদ   আমার সাথে যায় না—   আমি তো বহু আগে   নিজের রাতগুলো   সিগারেটের ছাইদানি আর   অর্ধেক ঘুমের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।   তবুও তুমি আসো :   জানালায় আলো রেখে যাও,   চোখে নরম বিপদ নিয়ে দাঁড়াও—   যেন ভালোবাসা এখনো   মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।   কিন্তু তুমি একটা জিনিস জানো না—   আমার ঘরে   চাঁদ রাখার মতো জায়গা নেই ;   এখানে শুধু   কিছু কাঁচা নিঃশ্বাস পড়ে আছে, ...

আমি একটা পাগল | দার্শনিক আধুনিক বাংলা কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 আমি একটা পাগল   কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৫ মে ২০২৬ ইং । সস্তা অনুভূতির এই মৌসুমে—   আমি এখনো   অমূল্য জিনিসের খোঁজ করি।   সভ্যতা এটাকে   ভুল বিনিয়োগ বলে।   আমি বলি :   আত্মার শেষ রুচি।   আমি একটা পাগল।   ভুল মানুষের হাতে   আমি ভবিষ্যতের অংক তুলে দিই,   তারপর ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে   ফলাফলের অপেক্ষা করি।   সময় আমাকে দেখে হাসে।   আমি তবুও অপেক্ষা করি।   কারণ—   সবচেয়ে নির্বোধ মানুষরাই   এখনো বিশ্বাস করতে জানে।   আমি একটা পাগল।   স্বপ্নকে আমি   কখনো কল্পনা ভাবিনি—   ওগুলো ছিল   বাস্তবতার আগাম ছায়া।   পৃথিবী শুধু আলো চিনেছে,   আমি শিখেছি   অন্ধকারের ভাষা পড়তে।   এই কারণেই বোধহয়   মানুষ আমাকে   স্বাভাবিকদের তালিকায় রাখেনি।   আমি একটা পাগল।   আমার ভিতরে এখনো   ...

লাইসেন্স করা বার — প্রথম পাঠ | সংলাপ-কবিতা

লাইসেন্স করা বার  _সংলাপ-কবিতা_ কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৩ মে ২০২৬ ইং। শর্মিলা: এই এস এফ— আজকাল দেখি তুই লাইসেন্স করা বারে বারে ঘুরিস, মদ্যপান করিস নাকি রে? এস এফ: হ্… যাই। তোর কি? মনের জ্বালা মেটাতে যাইরে… মনের জ্বালা মেটাতে! বারের ভিতর ধোঁয়া উড়ে, গ্লাসের গায়ে লবণ লাগে, আর মোর বুকের ভিতর পুরান কান্দন ফেনা তোলে। শর্মিলা: কিসের এত জ্বালা রে তোর? মানুষ এংকে পুইড়া যায় নাকি? এস এফ: ঐ যে চান্দেরপুরে এডা ছেরি আছিল না— নাজনীন… সুন্দর কইরা কথা কইত। চোখে কাজল দিত। হাসলে মনে হইত বর্ষার ভিতর রোদ উঠছে। হেই ছেরি মোর মুখে মদ তুলে দিছে। আগে মুই চায়ের দোকানে বসতাম, এখন বোতলের তলায় বসি। জ্বালা মিটাই রে… জ্বালা। শর্মিলা: হ্… মানসে কোনদিন মানষের মুখে মদ তুলে দেয় নাকি? এডি আমাক বিশ্বাস করা লাগবে? এস এফ: ছেরি লাং ধরতে চাইছিল। তাই মোর কাছে আইছিল। কইছিল— “এস এফ, তুই ভালো।” মুই বিশ্বাস করে অন্তর কাইটা দিছি। রাইতের পর রাইত মোবাইলের আলো জ্বালাইয়া রাখছি। হেই কল দিবে বইলা। কিন্তু ছেরির মন ভরে নি। চইলা গেছে… যা… যা… যা… বাইরে তখন বৃষ্টির পানিতে নিওন বাতির রং ভাইঙ্গা পড়তেছিল। শর্মিলা: কান্দস ...

প্রথম সংলাপ / নীরবতার ভেতর ভাঙন — এক দার্শনিক প্রেমের অভিজ্ঞতা

 প্রথম সংলাপ  কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৩ মে ২০২৬ ইং। প্রথম সংলাপ /   ভাষা নিজের ভেতরেই ভেঙে পড়ে :   শব্দ ডাকিনি / এসেছে   কিন্তু আমি ছিলাম না সেখানে   একটা কণ্ঠের অপর প্রান্তে   আমি নিজেকেই অচেনা পেলাম   কথা ছিল না বেশি   ছিল শুধু উপস্থিতির চাপ   যেন বাতাসও শুনছে নীরবতা   সালাম /   শিষ্টাচার নয়—   এটা দুই অস্তিত্বের প্রথম সংঘর্ষ   যাকে আমি জানি বলে ভাবতাম   সেই পরিচয় সরে যেতে লাগল   তুমি নাম নও / তুমি বাক্যও নও   তুমি নীরব প্রভাব   যা আমাকে ভেঙে দেয় আমার ভেতরে   ভাষা তখন আর মাধ্যম নয়   ভাষা তখন বাধা   প্রেম কি যোগাযোগ?   নাকি যোগাযোগের ব্যর্থতা   আমি উত্তর খুঁজি না   প্রশ্নগুলোও আর আমার নয়   শুধু এইটুকু সত্য—   যে মুহূর্তে কথা বলতে চেয়েছি   সেই মুহূর্তেই আমি ছিলাম না   এবং তুমি—   কোনো শব্দ না দিয়েও...

স্বল্প প্রেম || দার্শনিক আধুনিক বাংলা কবিতা || এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “স্বল্প প্রেম” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১২ মে ২০২৬ ইং। কিছু মানুষ আসে   থাকার জন্য না—   বরং   তোমার ভিতরে   সময়ের বিরুদ্ধে   একটি নিষিদ্ধ দরজা খুলে দিতে। / কারণ সময়   কখনো প্রেমের প্রমাণ না।   সময় শুধু   মৃত জিনিস দীর্ঘায়িত করতে জানে। জাদুঘরও   অনেক পুরোনো—   তবু সেখানে   কিছুই জীবিত না। : আজীবন—   মানুষের তৈরি   সবচেয়ে ধীর আত্মহত্যা। এখানে মানুষ   একজন আরেকজনকে ভালোবাসে না,   বরং   হারানোর ভয়ে   নিজেদের বন্দী রাখে। তারপর একদিন—   দুইজন মানুষ পাশাপাশি ঘুমায়,   কিন্তু   তাদের স্বপ্ন   আলাদা কবরস্থানে হাঁটে। = স্বল্প সময়ের প্রেমেরা   অদ্ভুত রকম বিপজ্জনক। কারণ তারা জানে :   ঘড়ি তাদের পক্ষে না। তাই তারা   ভবিষ্যতের নামে   বর্তমান হত্যা করে না।   অভিমান জমায় না।   অপেক্ষাকে ধর্ম বানায় না। তারা শুধু...

মায়ের ঘ্রাণ | মা দিবসের গভীর দর্শনের ইসলামিক কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 মায়ের ঘ্রাণ   কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১০ মে ২০২৬ ইং। মা :   আল্লাহ   মানুষকে দৃশ্যমান হওয়ার আগে   সম্ভবত এই শব্দটিই সৃষ্টি করেছিলেন।   /   আমার শৈশব—   একটি দরিদ্র ঘরের ভিতর   ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া   একজন নারীর দীর্ঘ আত্মজীবনী।   আমি তখন বুঝিনি :   আমার প্রতিটি নতুন জামার ভিতরে   মায়ের পুরোনো শাড়ির   নীরব কবর সেলাই করা ছিল।   আমার প্রতিটি ভাতের দানায়   একটি অদৃশ্য উপবাস   রক্তের মতো শুকিয়ে ছিল।   :   মায়েরা কখনো সরাসরি কাঁদেন না।   তারা   চুলার আগুনে কাঁদেন,   অন্ধকার ঘরে কাঁদেন,   সন্তান ঘুমিয়ে গেলে   দোয়ার ভিতরে কাঁদেন।   আল্লাহ সম্ভবত   এই কারণেই   দোয়ার শব্দকে   মায়ের কণ্ঠের মতো নরম বানিয়েছেন।   /   দারিদ্র্য :   খুব ভদ্র একটি আগুন।   এটি প্রথম...

ভালোবাসি তোমাকে | দার্শনিক আধুনিক প্রেমের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “ভালোবাসি তোমাকে”   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১০ মে ২০২৬ ইং। তোমাকে কখনো বলা হয়নি—   কারণ কিছু অনুভূতি   উচ্চারণে মারা যায়।   আমি তাই নীরবতাকে বেছে নিয়েছি,   যেন শব্দের আগেই   তুমি আমার হয়ে থাকো।   অল্প দিনের পরিচয়—   তবু অদ্ভুতভাবে   সময়ের চেয়েও গভীর।   যেন বহু জন্মের ক্লান্ত আত্মা   হঠাৎ এক পরিচিত আলোর কাছে   নিজেকে চিনে ফেলেছে।   তুমি আসার পর   পৃথিবীকে আর পুরোপুরি বাস্তব লাগে না,   সবকিছু এক ধরনের সিম্যুলেশন—   শুধু তোমার উপস্থিতিটাই অরিজিনাল।   মানুষ বলে প্রেম অন্ধ,   আমি বলি—   প্রেমই একমাত্র আলো   যা ইল্যুশনের দেয়াল ভেদ করতে পারে।   তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস   কোনো প্রতিশ্রুতির উপর দাঁড়ানো নয়,   বরং সেই অদৃশ্য অনুভূতির উপর   যেখানে আত্মা ভুল করে না।   তুমি পাশে না থেকেও   এক ধরনের নিরাপত্তা দাও— ...

নীল আকাশের প্রান্তে | প্রেমময় আধুনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 [ নীল আকাশের প্রান্তে ]   কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৯ মে ২০২৬ ইং। খুশিতে হারিয়ে যাও / ঐ নীল আকাশে,,,   আলো-আঁধারের চোরাবালিতে   ডুবে থাকে কিছু অসমাপ্ত স্পর্শ।। অজানা স্বপ্নের বিভোরে =   পুষ্পরা ডানা মেলে,,,   আর সময় / ধীরে বদলে ফেলে তার মুখ।। রঙ্গিন শুভেচ্ছার প্রান্তে,,,   কেউ তোমার অপেক্ষায় রয়েছে—   ঠিক লাল গোলাপ হাতে।। তোমার চোখের গভীর নীলিমায়   হারিয়ে যায় অবুঝ এই মন,,,   নরম অধরের অচেনা ভাষায়   জেগে ওঠে নিষিদ্ধ স্পন্দন।। নিভৃত রাতের বাতাসে   তোমার সুবাস ভেসে আসে—   যেন মৃত নক্ষত্রের আলো   এখনও পৌঁছায় পৃথিবীতে।। অস্পর্শ ভালোবাসার কোমল আগুনে   পুড়ে যায় সমস্ত অভিমান,,,   তবু হৃদয় / ফিরে যেতে চায়   সেই এক নামের কাছে।। খুশিতে হারিয়ে যাও ঐ নীল আকাশে,,,   তবু কোনো গোধূলির শেষ প্রহরে   ফিরে এসো— কারণ এখনও কেউ   সময়ের ভাঙা সিঁড়িতে বসে রয়েছে,,,   ঠিক লাল গোলাপ হাতে।...

রবীন্দ্রনাথ : আধুনিক সময়, নিঃসঙ্গতা ও মানুষের ভিতরের আলো

 রবীন্দ্রনাথ /   কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৭ মে ২০২৬ ইং। রবীন্দ্রনাথ / তিনি কোনো মানুষ নন এখন আর — একটি দীর্ঘ প্রতিধ্বনি, যা বাংলা ভাষার ভিতর এখনও হাঁটে খালি পায়ে। আমরা প্রযুক্তির আলোয় ক্রমশ অন্ধ হয়ে যাচ্ছি, স্ক্রিনে অসংখ্য মুখ জ্বলে, কিন্তু কারও ভিতরে কেউ আর বাস করে না। ঠিক তখনই দূর থেকে ভেসে আসে — “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য...” আর মনে হয়, সভ্যতা এখনো সম্পূর্ণ মানুষ হতে শেখেনি। রবীন্দ্রনাথ জানতেন / সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগারের নাম — নিজের ভিতরের অন্ধকার। তাই তিনি বলেছিলেন — “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।” এই একটি লাইন / শুধু গান নয়, সমস্ত একা মানুষের অদৃশ্য মেরুদণ্ড। তিনি প্রেম লিখেছেন / কিন্তু তা কেবল কারও হাত ধরা নয় — বরং, একজন মানুষের ভিতরে আরেকটি মহাবিশ্ব আবিষ্কার করা। তাই আজও কেউ নীরবে বলে ওঠে — “আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ।” কারণ অপেক্ষাও কখনো কখনো ভালোবাসার সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ। আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী / তবু পৃথিবী আগের চেয়ে বেশি ক্লান্ত, মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা, আর সম্পর্কগুলো — দ্রুত টাইপ করা কিছু শব্দের মতো ক্ষণস্থায়ী। তবু তিনি এখনও শেখান — “বিপদে মোরে রক্...

রসের আম | হাসির কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আমের রসের টুপটুপে ছন্দ

 রসের আম   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৬ মে ২০২৬ ইং । বৈশাখ আসে—   ঢেউ তোলে দিগন্তে / রোদের ভিতর রোদ /   ডালে ডালে দোলে সোনালি ঘোষণা = “আম”   পাতা কাঁপে—   টুপটাপ / টুপটাপ /   শব্দে ঝরে মিষ্টি স্রোত /   মনে হয়—   সূর্য গলে নেমে আসে / ফলের ছদ্মবেশে   কাঁচা আম—   টক তীর ছুঁড়ে দেয় জিভের গভীরে /   চোখ কুঁচকে যায় / মুখ আঁকে বক্ররেখা /   জীবন হঠাৎ হয়ে ওঠে   এক সমীকরণ—   যেখানে হাসি = কষ্ট ÷ মজা   পাকা আম—   নরম নেশা / ধীর প্রলোভন /   এক কামড়ে—   সময় থামে / দিন ঢলে পড়ে /   ঠোঁটের কোণে জমে ওঠে   অঘোষিত আনন্দের ভাষা   একজন—   ছুরি দিয়ে কাটে / শৃঙ্খলার মতো   আরেকজন—   দাঁত বসিয়ে চুষে নেয় / বুনো উল্লাসে   তৃতীয়জন—   মুখে নয়, গালে লেখে রস /   নিজেকেই বানায় ফলের উৎসব   আমি—   দু’হাতে ধরি / নিয়ম ভাঙি /...

হতাশার কালো ছায়া | এক নিঃশব্দ ডুবে যাওয়ার কবিতা

 "হতাশার কালো ছায়া" কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৬ মে ২০২৬ ইং। রাত নামে— তবুও ঘুম নামে না। বুকের ভেতর অদৃশ্য এক ভার, শ্বাস নিতে গেলেই মনে হয়—ডুবে যাচ্ছি নিজেরই গভীরে। আমি এখনো হাসি— মানুষ দেখে, বিশ্বাস করে; শুধু চোখ দুটো নীরবে বিশ্বাসঘাতকতা করে যায়। হতাশা কোনো ঝড় নয়— এটা ধীরে ডোবা, শব্দহীন, কারও কাছে পৌঁছায় না যার আর্তনাদ। একসময় নিজের সাথেই কথোপকথন থেমে যায়, আয়নার ভেতর দাঁড়ানো মানুষটাকেও অচেনা লাগে। সবচেয়ে ভয়ংকর— মরে যেতে ইচ্ছে করে না, তবু বেঁচে থাকাটাও অসহনীয় হয়ে ওঠে। এই মাঝখানে— আমি ঝুলে আছি, নামহীন এক অন্ধকারে, যেখানে সময়ও থেমে থাকে না, শুধু আমি থেমে যাই।

মন-মন্দিরে অনস্তিত্ব | দার্শনিক প্রেমের কবিতা

 মন-মন্দিরে অনস্তিত্ব কবি: এস এফ সেলিম আহমেদ। তারিখ: ০৫ মে ২০২৬ ইং। তোমার মন-মন্দিরে— আমার কোনো আসন নেই, তবু আমি সরে যাইনি— নীরবতার গভীরতম স্তরে স্থির হয়ে আছি। আমি প্রতিমা নই, যাকে স্পর্শে পূর্ণতা দেওয়া যায়; আমি সেই শূন্যতা— যেখানে স্পর্শের আগেই হাত কেঁপে ওঠে। ভালোবাসা এখানে কোনো বাচন নয়, নিজেকেই ধীরে ধীরে বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া— যার অদৃশ্য তাপে নাম, পরিচয়, ক্রমে নিজেকেই ত্যাগ করে। তুমি যখন আমাকে জানতে চাও, আমি জ্ঞানের সীমানা ছেড়ে অজ্ঞেয়ের অন্তরালে সরে যাই; তুমি যখন আমাকে ধরতে চাও— হঠাৎই খুব কাছে এসে আমি হারিয়ে যাই। এই সহাবস্থান— না মিলন, না বিচ্ছেদ, বরং এক সূক্ষ্ম ভারসাম্য— যেখানে থাকা মানেই অল্প অল্প করে না-থাকা। তুমি ভাবো—আমি আছি, আমি দেখি— তোমার ভেতরেই আমার অনুপস্থিতি জেগে আছে। এবং এক সময়— খুব নিঃশব্দে, তুমি আর আমি— দু’জনেই ঝরে পড়ি একই অনস্তিত্বের ভিতরে। তবু— শেষ পর্যন্ত, যা থেকে যায়— তা কোনো ‘আমি’ নয়, কোনো ‘তুমি’ নয়, শুধু এক অব্যক্ত সত্তা, নিজেকেই অনুভব করে।

Unseen Alignment | অদেখা মিল — আধুনিক দার্শনিক প্রেমের কবিতা

 অদেখা মিল কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৪ মে ২০২৬ ইং। ভালো লাগা— কোনো ঘোষণা না, বরং ভেতরে ভেতরে আপডেট হওয়া একটা নীরব সিস্টেম : যেখানে— একটা হাসি এসে পুরোনো দিনের উপর নতুন অর্থ বসায়, একটা চোখ অকারণে পরিচিত লাগে। আমরা বলি—হঠাৎ, কিন্তু হঠাৎ বলে কিছু নেই, আছে শুধু— অগণিত ছোট ছোট মিল যেগুলো একদিন একসাথে জেগে ওঠে। কেউ একজন— বিশেষ না, তবুও অদ্ভুতভাবে আমার ভিতরের এলোমেলো রেখাগুলোর সাথে নিজে থেকেই জুড়ে যায় : = তখন ভেতরে একধরনের হালকা বিস্ময়— যেন কিছু ঠিকঠাক বসে গেছে, যেন পৃথিবীটা হঠাৎ একটু কম বিশৃঙ্খল। ভালো লাগা— একটা খেলা, যেখানে নিয়ম নেই, তবুও সবকিছু অদ্ভুতভাবে ঠিক জায়গায় পড়ে। আমরা খুঁজি না, তবুও পেয়ে যাই— নিজের ভেতরের অচেনা অংশ অন্য কারো মধ্যে। আর তখন— সব ব্যাখ্যা অপ্রয়োজনীয় লাগে, সব প্রশ্ন নিজেই নিজের উত্তর হয়ে যায়। কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কোনো সিদ্ধান্ত না— শুধু ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়া একটা উজ্জ্বল অনুভূতি। কখন যে কাকে ভালো লাগে— তা জানার দরকারও নেই, কারণ জানার আগেই আমরা হালকা হয়ে যাই— আর এই হালকাভাবটাই সবচেয়ে নিখুঁত মিল।

ভাঙা আয়নায় শহর | একটি গভীর অনুভূতির বাংলা কবিতা | SF SELIM AHMMED

 ভাঙা আয়নায় শহর   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ : ০৩ মে ২০২৬ ইং । হয়তোবা এই ব্যস্ত ভিড়ের শহরে   তোমায় আমি নতুন করে চিনবো,,,,,   অচেনা আলোয় /   পুরনো মুখের ছায়া দেখে—   থেমে যাবো :   নাকি হাঁটবো পাশ কাটিয়ে =   তুমি কি তখনও   আমার নামটাকে   মনে রাখবে?   নাকি—   সময়ের ভাঙা আয়নায়   আমরা দু’জনেই   শুধু প্রতিচ্ছবি :   কেউ না / কারো না   এই শহর জানে—   কতবার মানুষ   মানুষকে চিনে   আবার হারায়।

জলভেজা নতুন শুরু | বৃষ্টি, প্রেম ও পুনর্জন্মের কবিতা

 জলভেজা নতুন শুরু কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৩ মে ২০২৬ ইং। এখনো ইচ্ছে হয়— বৃষ্টিতে ভিজি, কিন্তু আর সেই পুরোনো ভেজা না। তখন— জল ছিল স্মৃতি, ভিজতাম একা / অদৃশ্য কারো অভাবে। এখন— বৃষ্টি মানে দুইটি হাতের মাঝখানে একটা উষ্ণ পৃথিবী। হারানো দিনগুলো = ভেজা কাগজ, ছিঁড়ে যাওয়া শব্দ। আজ— তোমার আঙুলে আঙুল রেখে আমি আবার লিখি— জলভেজা নতুন শুরু। বৃষ্টি নামে, কিন্তু এবার আমি ডুবে যাই না— আমি জন্মাই।

বিলুপ্তি | হারানো প্রেমের দার্শনিক কবিতা – এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 বিলুপ্তি কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ০৩ মে ২০২৬ ইং। প্রেম— একটি সংজ্ঞাহীন নাম, যা ক্রমে নিজেকেই বাতিল করে। তুমি ছিলে— কিন্তু থাকা মানেই অস্তিত্ব নয়। স্পর্শ = স্মৃতির শেষ প্রমাণ শূন্যতা = সর্বাধিক নির্ভুল উপস্থিতি আমরা “আমরা” ছিলাম না, ছিলাম কেবল সময়ের একটি বিভ্রান্ত সংযোগ। যেখানে ভাষা থেমেছিল, সেখানেই প্রেম শুরু করেছিল তার নীরব অবক্ষয়। বিচ্ছেদ মানে দূরত্ব নয়— মানে অস্তিত্বের অপসারণ। শেষে থাকে শুধু একটি নামহীন অবশিষ্ট যা নিজেকেই প্রতিদিন অস্বীকার করে।