পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অফুরন্ত তুমি | গভীর দার্শনিক আধুনিক কবিতা | আবৃত্তির জন্য সেরা | অনুভূতির কবিতা | স্মৃতি ও ভালোবাসা

 অফুরন্ত তুমি   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং। তোমার উপস্থিতি—   একটা নীরব ঘটনার মতো,   যা শব্দে ধরা যায় না,   তবুও অস্তিত্বের প্রতিটি কোণে   অদৃশ্যভাবে সত্য হয়ে থাকে।   তুমি এসেছিলে,   যেন কোনো অজানা সমীকরণের   হঠাৎ সমাধান—   যার মান বের করার আগেই   আমি বুঝে গিয়েছিলাম,   এই অনুভূতির কোনো শেষ নেই।   দর্শনটা ছোট ছিল,   কিন্তু তার ভেতরে   লুকিয়ে ছিল অসীমতা—   একটি মুহূর্তে   যেন সময় নিজেই   নিজের সীমা হারিয়ে ফেলেছিল।   আমি এখনো বুঝি না—   তুমি বাস্তব ছিলে,   নাকি আমার ভেতরের   সবচেয়ে সত্য কোনো স্বপ্ন।   তবুও এই দ্বিধার মাঝেই   তুমি হয়ে গেছো   আমার সবচেয়ে নির্ভুল সত্য।   সাত জনম—   এই শব্দটাও তোমার সামনে ছোট মনে হয়,   কারণ তুমি   সময়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা   একটা চেতনা...

রক্তিম নীরবতা এক আধুনিক দার্শনিক কবিতা

 রক্তিম নীরবতা কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ । তারিখ: ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং। আকাশ লাল— একটা নীরব স্বীকারোক্তি ভেসে উঠল, নিজের ভেতর থেকে দিনভর আমরা নিজেকে লুকাই; রাত নামলেই সত্যটা চোখ মেলে তাকায় আমি ঠিক আছি— এটাই সবচেয়ে নিখুঁতভাবে বলা মিথ্যা সূর্য ডোবে, কেউ জিজ্ঞেস করে না, তার ভেতরে কী ভাঙল আমরা আলো খুঁজি— কারণ অন্ধকারেই আমরা সত্য জীবন, একটা সাজানো দৃশ্যপট; কষ্টগুলো পড়ে থাকে ফ্রেমের বাইরে ধীরে ধীরে— নিজের কাছেই অচেনা হয়ে যাই এই সন্ধ্যা, কিছু দাবি করে না; শুধু খুলে দেয় সব অপ্রয়োজনীয় শব্দ— নিঃশব্দে ঝরে যায়; আর থেকে যায়— যা অস্বীকার করা যায় না যারা বোঝে, তারা চুপচাপ থাকে বাকিরা— আকাশের লালটাই দেখে।

দাবিহীন নারী: সৌন্দর্য, স্বাধীনতা ও ভালোবাসার নতুন দর্শন

 দাবিহীন   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ সে—   জঙ্গলের ফুল না,   একটা অবস্থান। দেখতে সুন্দর—   কিন্তু “দেখানোর” জন্য না। সে নারী—   যার ভেতরে অভাব নেই,   তাই তার ভালোবাসায়   কোনো দরকষাকষি নেই। পুরুষরা তাকে চায়—   কারণ সে সহজ না,   আর মানুষ সবসময়   কঠিন জিনিসকে জয় করতে চায়। কিন্তু সে—   জয় করার কিছু না।   সে কোনো ট্রফি না,   কোনো গল্পের শেষ লাইনও না। সে নিজেই এক সম্পূর্ণ টেক্সট—   যার কোনো সারসংক্ষেপ নেই। তার কাছে গেলে   নিজের ভেতরটা স্পষ্ট হয়ে যায়—   কারণ সে কিছু দেয় না,   শুধু আয়নার মতো ফিরিয়ে দেয়। তুমি যদি ভাঙা হও—   সে তোমাকে জোড়া লাগাবে না।   তুমি যদি পূর্ণ হও—   সে তোমার সাথে হাঁটবে। এটাই তার ভাষা। সে কাছে আসে—   কিন্তু ধরে না।   সে ভালোবাসে—   কিন্তু রাখে না। কারণ সে জানে—   যাকে ধরে রাখতে হয়,   সে কখনো সত্যি নিজের হয় না...

স্লো-মোড বিকেল: নিজের ভেতরের নির্মলতার সন্ধান

 স্লো-মোডের ভেতরের সত্য   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ ।  বিকেলটা আজ নিজে থেকেই স্লো-মোডে ঢুকে গেছে,   যেন সময়ও ক্লান্ত হয়ে একটু বসে পড়েছে।   নোটিফিকেশনগুলো নিঃশব্দ—কিন্তু ভেতরের শব্দগুলো?   সেগুলোই আজ বেশি স্পষ্ট, বেশি জোরে বাজে।   স্ক্রিন অফ করতেই দেখি—আকাশ বদলায়নি একটুও,   বদলেছি শুধু আমি, ব্যস্ততার অ্যালগরিদমে।   যে জীবনকে আপডেট করতে গিয়ে এত দৌড়,   সেই জীবনই কখন যেন আমার বাইরে চলে গেছে।   সূর্যের ডুবন্ত আলোয় ভেসে ওঠে অদেখা প্রশ্ন,   আমি আসলে কতটা ‘অন’, আর কতটা শুধু ‘অ্যাকটিভ’?   যা হারিয়েছি—তা কি সত্যিই হারানো,   নাকি নিজেকেই একটু একটু করে মুছে ফেলা?   চা-কাপের ধোঁয়ায় উঠে আসে অদ্ভুত স্বীকারোক্তি,   সবকিছু পাওয়ার ভিড়ে নিজেকে হারানো খুব সহজ।   নির্মলতা খুঁজতে গিয়ে দূরে যাই বারবার—   অথচ সেটাই চুপচাপ বসে ছিল আমার ভেতরেই।

কবির গোপন চ্যাটবক্স: শব্দের জন্ম, একাকীত্ব ও অনুভূতির দার্শনিক ভ্রমণ

 কবির গোপন চ্যাটবক্স কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। কবিরা একা—এই উচ্চারণটা আসলে ভুল ব্যাকরণ। কারণ কবি কখনো একা না, সে বহুস্বরের ধারক— নিজের ভেতরে বহন করে অসংখ্য অনুচ্চারিত মানুষের কণ্ঠ। একাকীত্ব তার কাছে শূন্যতা না, এটা এক ল্যাবরেটরি— যেখানে অনুভূতি ভেঙে যায়, আবার নতুন রূপে গঠিত হয় শব্দের অণুতে, বাক্যের অণুবীক্ষণে। কবি সারাক্ষণ অনলাইনে থাকে না, সে বরং অফলাইনের গভীরে ডুবে থাকে— যেখানে নেটওয়ার্ক নেই, কিন্তু সংযোগ আছে— নিজের অস্তিত্বের সবচেয়ে গোপন সার্ভারের সাথে। ইনবক্স ফাঁকা— কিন্তু তার ভেতরে অসংখ্য আনরিড মেসেজ, যেগুলো কখনো পাঠানো হয়নি, কখনো গ্রহণও করা হয়নি— সেগুলোই একসময় কবিতা হয়ে ওঠে। শব্দ— কবির কাছে শব্দ শুধু উচ্চারণ না, এটা একেকটা জীবন্ত কণা, যার জন্ম হয় নীরবতার গর্ভে, আর বড় হয় অনুভূতির আলো-অন্ধকারে। তুমি যদি জানতে চাও, কবিতা কীভাবে জন্ম নেয়— তবে বুঝতে হবে, একটি শব্দ আসার আগে কবি শতবার ভেঙে পড়ে, হাজারবার নিজেকে নতুন করে গড়ে। বন্ধু তালিকা ছোট— কারণ সে জানে, সবাই অনুভূতির ওজন বহন করতে পারে না। অনেকেই শব্দ পড়ে, কিন্তু শব্দের ভেতরে যে নীরব বিস্ফোরণ, তা খুব কম মানুষই অনুভব করে। কবির ভালোবা...

আলোর জন্য

 আলোর জন্য   কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ। আমি, এই লেখক, দেখি রক্তে লেখা স্মৃতি,   দামাল ছেলেদের ডাক এখনও কানে বাজে।   কবি আমার অন্তরে বলে—“আর নয় অন্যায়, আর নয় ভয়,”   বুক পেতে গিয়েছিল তারা, স্বপ্ন ছোঁয়ায় আলোকিত। মা বলেছিলো—“ফিরে আনা দেশটাকে আলোতে,”   আমি লিখি, আমি কল্পনা করি, আমি চাই।   লাল-সবুজ পতাকা আজও বলছে নতুন ভোরের গল্প,   কিন্তু ধূসর ছায়া আছে স্বপ্নের কোণে,   নামে স্বাধীনতা, তবু শৃঙ্খল বুকে বাঁধা। অন্যায় এখনও টিকে আছে, মুখোশে লুকিয়ে,   শোষণ নতুন আঙ্গিকে, অদৃশ্য রূপে।   কবির চোখে জ্বলে তীব্র আশা, হৃদয়ে আগুন,   আমি বলি—আমরা চাই পূর্ণ স্বাধীনতার আলো।   তাই ডাক ওঠে, আমার কলম, আমার কণ্ঠে,   “অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও, ন্যায়ের পথে।”   হাতের অস্ত্র নয়, কণ্ঠে শক্তি, আশা, প্রেরণা,   এটাই নতুন যুদ্ধ, নতুন ভোর, নতুন ধ্বনি,   এই কবিতায়—আমি, তুমি, আমরা সবাই একসাথে।

গগনে সূর্য, নেমেছে রাত্রি – আধুনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 গগনে সূর্য, নেমেছে রাত্রি   কবি:এস এফ সেলিম আহম্মেদ। গগনে সূর্য, তবুও নেমেছে রাত্রি—   আজকের দিনটা যেন এক অদ্ভুত glitch,   সব কিছু online, আলো full brightness,   তবুও ভেতরে চলছে silent darkness।   timeline ভরা হাসি, filter করা সুখ,   inbox-এ নীরবতা—কেউ রাখে না খোঁজ।   status-এ sunshine, story-তে glow,   real life-এ কোথাও যেন low battery flow।   notification আসে, but feels like noise,   heartটা চায় শুধু একটু real voice।   গগনে সূর্য থাক, বা নেমে আসুক রাত—   মনটা যদি dark mode, কোথায় খুঁজবো প্রভাত?   screen-এ হাসি, theater-এ empty scene,   DM-এ বার্তা, reply নেই,   emoji দাও, কিন্তু emotion হারায়,   caption perfect, কিন্তু feeling stray।   gadget full charge, body drained,   সব কিছু show, কিন্তু inside unexplained।   গগনে সূর্য থাক, বা রাত আসুক,   মনটা dark  mode, কোথায় খুঁজবো প্র...

আমি লেখক, আমার যুদ্ধ কলমে – কবিতা by এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 আমি লেখক, আমার যুদ্ধ কলমে,   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।   শব্দ আমার তলোয়ার, ভাব আমার ঢাল,   নীরবতার ভেতর গর্জে ওঠে আমার আঘাত।   প্রতিটি লাইন খুঁড়ে দেয় সময়ের স্তর,   অদেখা গভীরতা ফোটে কাগজের ফাঁকে।   নদীর মতো ভাঙা মাটির গল্প আমি লিখি,   যেখানে আশা মিশে হতাশার সাথে।   শহরের আলো ভাঙা কাঁচের মতো ঝলমল,   আমি তা ধরে রাখি কলমের আলোয়।   প্রাচীরের ফাটল আমার প্রেক্ষাপট,   সূর্য লুকায় অদেখা আলো তার পেছনে।   পথের কঙ্কর, মানুষের নিঃশব্দ হাসি,   সবই আমার রঙ, আমার যুদ্ধের ছাপ।   আমি সৈনিক, আমার অস্ত্র শব্দ,   আমার যুদ্ধক্ষেত্র কাগজ, বিজয় অন্তরের নিঃশ্বাস।   শব্দ ছুঁয়ে যায় অতীত, আঁকে ভবিষ্যতের ছায়া,   লাইন লাইন করে আমি আঁকি সময়ের মানচিত্র।   ভাঙা স্বপ্নও আমার কালি মেখে বসে,   নীরব কণ্ঠের গান ছড়ায় আলো পৃষ্ঠায়।   আমি লেখক, আমি সৈনিক,   আমার যুদ্ধ শান্ত, কিন্তু তীক্ষ্ণ—কলমই আমার অ...

দূরত্বের আলতো ছোঁয়া | প্রিয় শর্মিলাকে লেখা এক আবেগঘন কবিতা

দূরত্বের আলতো ছোঁয়া   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ তোমার জন্য কবিতা লিখতে বসলে   শব্দগুলোও আজ একটু ধীরে হাঁটে—   যেন পুরনো কোনো বিকেলের মতো,   যেখানে রোদটা নরম ছিল,   আর তুমি ছিলে আমার পাশে। প্রিয় শর্মিলা,   তুমি ছিলে আমার মনের বাগানের প্রথম ফুল,   যাকে ছুঁতে গিয়ে আঙুলে লেগেছিল সুগন্ধ—   যা এখনো মুছে যায়নি,   শুধু একটু ফিকে হয়েছে সময়ের ধুলায়। ঈদের মার্কেট করেছিলাম তোমার জন্য—   স্বপ্নের রঙিন কাপড়,   অপেক্ষার কাঁচের চুড়ি,   আর কিছু না বলা ভালোবাসা—   সবই জমে আছে এখনো বুকের আলমারিতে,   তুমি শুধু নিতে আসোনি। দুঃসময়ে দিতে পারিনি কিছুই,   সেই আফসোসটা এখনো   রাতের বালিশে নীরবে কাঁদে—   আর আজ, যখন হাতভর্তি সামর্থ্য,   তখন তুমি নেই,   ঠিক যেন ভরা নদীতে নৌকা নেই। তুমি এখন অন্য কারো আকাশে জ্বলা তারা,   আমি শুধু দূর থেকে দেখি—   ঝিলমিল করো কিনা,   নাকি মেঘে ঢেকে থাকো! বলতো শর...

ঈদ মোবারক | আধুনিক স্মার্ট কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 ঈদ মোবারক   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ । আকাশে আজ নতুন নোটিফিকেশন—   চাঁদ উঠেছে, নরম আলোয় লেখা   একটি শব্দ: আনন্দ।   ত্রিশ দিনের ধৈর্যের সফর শেষে   হৃদয়টা যেন আপডেটেড ভার্সন,   মনটা ক্লিয়ার ক্যাশ,   ভালোবাসা ফুল এইচডি রেজোলিউশন।   সাদা পাঞ্জাবির সরল স্টাইল,   চোখে শান্তির সফট লাইট,   হাসি যেন ভাইরাল মুহূর্ত   ছড়িয়ে পড়ে ঘর থেকে মহল্লায়।   আজ কোলাকুলি শুধু প্রথা নয়—   এটা হৃদয়ের কানেকশন,   মানুষ থেকে মানুষের   লাইভ স্ট্রিম ভালোবাসা।   অভিমানগুলো আজ ডিলিট,   ক্ষমাগুলো ডাউনলোড,   মায়া আর দোয়ার আলোয়   ভরে উঠুক প্রতিটি রোড।   চাঁদের নরম আলোয়   শান্তি নামে ধীরে ধীরে,   ভালোবাসার নতুন সকাল   জেগে ওঠে হৃদয়ের নীড়ে।   তাই আজ মনের জানালায়   আলোর উৎসব ঝরে—   শান্তি থাকুক প্রতিটি প্রাণে,   মমতা থাকুক ঘরে ঘরে। ...

অবুঝ কিশোর — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “অবুঝ কিশোর” — এস এফ সেলিম আহম্মেদ সে ছিল এক অবুঝ কিশোর—   ভালোবাসা তার কাছে ছিল সরল,   একটা “হাই”, একটা “মিস ইউ”,   আর রাত জেগে কারও জন্য অপেক্ষা করা। তার পৃথিবী ছোট,   কিন্তু আকাশটা পূর্ণ ছিল একজন মানুষ দিয়ে।   ফোনে নোটিফিকেশন এলেই   বুকটা ধক করে উঠত,   মনে হতো—   এই বুঝি সে লিখেছে,   “তুমি না থাকলে আমার দিন অসম্পূর্ণ।” কিশোরটি বিশ্বাস করত,   কথাগুলো সত্যি।   কারণ সে অভিনয় জানত না,   ভালোবাসার ভেতরে ফাঁকি খুঁজতে শিখেনি।   কিন্তু একদিন হঠাৎ   চ্যাটবক্সটা নীরব হয়ে গেল।   “লাস্ট সিন”টা দূরে সরে গেল,   আর কথাগুলো হারিয়ে গেল   অচেনা অন্ধকারে। প্রথমে সে ভেবেছিল—   হয়তো ব্যস্ত,   হয়তো একটু অভিমান…   তারপর বুঝল,   সে আর কারও প্রয়োজন নয়,   সে শুধু একটা সময় ছিল,   একটা ফাঁকা বিকেলের গল্প।   সেদিন রাতে   কিশোরটা খুব কাঁদেনি,   শুধু চ...

অন্য বাগানের প্রজাপতি | না পাওয়ার আক্ষেপে এক প্রেমের কবিতা

অন্য বাগানের প্রজাপতি কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ । প্রজাপতি, তুমি কার বাগানে উড়ো? আমি তো শুধু দাঁড়িয়ে থাকি— রঙিন ডানার শব্দ শুনে চমকে ওঠা এক নিঃশব্দ মানুষ। একদিন তোমার রঙে চোখ আটকে গিয়েছিল, মনে হয়েছিল— এই উড়ান, এই আলো, হয়তো একদিন আমার জানালাতেও বসবে। আমি ভেবেছিলাম, একদিন তুমি ক্লান্ত ডানা মেলে আমার বিকেলের রোদে একটু থামবে। আমার নীরব বাগানের ফুলগুলো তোমার ছোঁয়ায় রঙিন হয়ে উঠবে। কিন্তু বুঝতে দেরি হলো না— তোমার ডানা অন্য ফুলের ঘ্রাণে ভেজা, তোমার পথ অন্য বাগানের দিকে খোলা। আমি ডেকেছিলাম— হয়তো বাতাস শুনেছিল, হয়তো আকাশও একবার তাকিয়েছিল, হয়তো সন্ধ্যার মেঘ একটু থমকে ছিল, কিন্তু তুমি থামোনি। তুমি উড়ে গেলে— যেন আমার সমস্ত অপেক্ষাকে পেছনে ফেলে রেখে। আমি দাঁড়িয়ে রইলাম অপেক্ষার শুকনো ডালে, যেখানে প্রতিদিন একটু করে ঝরে পড়ে অপূরণীয় স্বপ্নের পাতা। এখন যখন বিকেলের আলো নিভে আসে, আর আকাশে ভেসে বেড়ায় নীরবতার নীল ধোঁয়া— আমি চুপচাপ ভাবি, সব প্রজাপতি কি সবার বাগানে নামে? না— কিছু প্রজাপতি শুধু চোখে লাগে, হৃদয়ে লাগে, মনে গোপন ঝড় তোলে, কিন্তু হাতে ধরা দেয় না কখনো। তুমি সেই প্রজাপতি— যাকে ...

তোর বিহনে | আধুনিক আবেগের কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 তোর বিহনে   — এস এফ সেলিম আহম্মেদ   তোর বিহনে শহরটা এখনো জেগে থাকে—   নিয়ন আলো, ব্যস্ত ট্রাফিক,   কফিশপে ধোঁয়া ওঠা আড্ডা…   সবই আগের মতো।   শুধু আমার ভেতরের শহরটা   ধীরে ধীরে   অন্ধকার হয়ে গেছে।   মোবাইলের স্ক্রিন হঠাৎ জ্বলে ওঠে—   নোটিফিকেশন…   একটার পর একটা।   কেউ লিখে— “কেমন আছো?”   কেউ পাঠায় ইমোজি,   কেউ শুধু একটা “হাই”…   কিন্তু তোর নামটা   আর কখনো ভেসে ওঠে না।   সেই মুহূর্তে বুকের ভেতর   কেমন যেন একটা শব্দ হয়—   যেন পুরোনো কোনো সেতু   নিঃশব্দে ভেঙে পড়ে।   চেনা সেই ক্যাফের কোণায়   আজও মাঝে মাঝে বসি—   সামনে কফির কাপ,   চারদিকে মানুষের হাসি।   তবু গল্পগুলো জমে না আর—   কারণ যাকে বলার ছিল   সে তো এখন   অন্য কোনো আকাশের নিচে।   রাত যত গভীর হয়   শহর তত আলোয় ভরে ওঠে— ...

শালিকদের বিচরণ ভূমি — গ্রামবাংলার ভোরের গল্প

 শালিকদের বিচরণ ভূমি — এস এফ সেলিম আহম্মেদ ভোরের আলো ধীরে নামে, মসজিদে ডাকে আযান, শালিকেরা ডানা মেলে জাগে গ্রামের প্রাণ। জমি নিরানি, মাটির বুকে শিশির ভেজা ধান, হালচাষের পেছনে পেছনে শালিকদের ছোট ছোট দল। সেচের পানি ছিটিয়ে পড়ে ক্ষেতে রোদের খেলা, ডানা মেলে শালিকেরা মাঠে খোঁজে আনন্দের খেলা। গমের বীজ বুনুনের দিনে শিশির ভেজা মাটি, শালিকেরা দল বেঁধে নেমে পায়ে খোঁজে বীজ গুটি। ধান কাটার সময় মাঠে শালিকেরা নামে দলবেঁধে, ক্ষুদ্র পোকা খেয়ে ফসল বাঁচায় মানুষের সঙ্গে তাল মিলবেঁধে। শালিকদের খাদ্য সংকট কালে, বেগুন, মরিচ, সবজি খেয়ে,,, ফেলতো কৃষক কে  মহা বিপাকে। তবুও হাসিত কৃষক  করিত না কোন রাগ,  জীব বৈচিত্র্যর আর কৃষিতে শালিকদের অনেক অবদান। ডানার নাচন, কিচিরমিচির ভোরের মিঠে গান, সবুজ মাঠে ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের সহজ প্রাণ। আলপথ বেয়ে বাতাস আসে ধানের শিষে দেয় দোলা, শালিকেরা খেলায় মাতে খোলা মাঠের বেলা। চোখ বুজিলে মনে ভাসে সেই নির্মল ভূমি— মাটি, ফসল, শালিক, কৃষক মিলে গড়ে তোলে শালিকদের বিচরণ ভূমি। ভোরের কুয়াশা ছোঁয়ায় মাখে সবুজ ঘাসের কোমল দোলা, শালিকেরা ডানা মেলে প্রকৃতির সঙ্গে, মি...

তবুও ভালোবাসি | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 "তবুও ভালোবাসি" এস এফ সেলিম আহম্মেদ আমি তোমাকে ভালোবেসে   পেয়েছি শূন্যের হাওয়া,   ভাঙা ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকেছে ঠাণ্ডা বাতাসের মতো।   তোমার নামের পাশে ঘৃণা, অবহেলা,   অপদস্থের ছায়া—   আমি চুম্বন করেছি সব আঘাতকে,   ভেতরে জ্বলে থাকা আগুনের মতো।   প্রিয়ার হাসি ভেসে আসে দূর থেকে—   নদীর ঢেউয়ের মতো আঘাত করে,   কিন্তু ফিরে আসে না।   আমি একা—   অন্ধকার রাতের মাঝখানে   শহর নিঃশব্দ,   আমার হৃদয় কাঁপছে।   ভাঙা রাস্তা, ধুলোমাখা দোকান,   সবই তোমার সঙ্গে ছিল,   এখন শুধু স্মৃতির ছায়া বাতাসে ভেসে আসে,   প্রত্যেক কান্না যেন মনে বাজে।   তবুও ভালোবাসি—   যেন একক মোমবাতি ভাঙা দেয়ালে জ্বলছে,   অন্ধকার যত বড়ই হোক,   আমার ভালোবাসা নিভে না।   ঘৃণার দাগ, একাকীত্বের গভীরতা—   সবই ভিতরে জ্বলছে,   ভালোবাসা চিরকাল, নীরবে,   অদৃশ্য কিন্তু অম্লান। ...

রাষ্ট্র তোমার বাগানে রক্তের ফুল | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 রাষ্ট্র তোমার বাগানে রক্তের ফুল কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ উৎসর্গ: সীতাকুণ্ডের ছোট্ট শিশু ইরা— যাকে এক নরপশু বনের ভিতর হাত ধরে নিয়ে গিয়েছিল, আর ফিরিয়ে দিয়েছিল নিথর নীরবতা। তার নিষ্পাপ শৈশবের স্মৃতির প্রতি এই কবিতা উৎসর্গ। রাষ্ট্র, তোমাকে আমরা বলেছিলাম— তুমি হবে এক বিশাল বাগান, যেখানে শিশুরা হবে ফুল, আর আকাশ হবে তাদের নীল খেলার মাঠ। কিন্তু আজ দেখি— তোমার বাগানে মালী কম, শিকারি বেশি। তিন বছরের একটি শিশু এখনো ঠিকমতো “মা” শব্দটাও উচ্চারণ করতে শেখেনি— তার পৃথিবী ছিল একটি ছোট পুতুল, একটি মাটির হাঁস, আর মায়ের কোলের উষ্ণতা। কিন্তু এই সভ্যতার নগরে তার কান্না রাতের কুয়াশায় হারিয়ে যায়— যেন ভোরের আগে একটি শিশিরবিন্দু পাথরের আঘাতে ভেঙে গেল। রাষ্ট্র তখন নতুন সেতুর উদ্বোধনে ব্যস্ত। তোমার শহরের বাতিগুলো রাতভর জ্বলে— কিন্তু আশ্চর্য, তাদের আলো পৌঁছায় না ফুটপাতের সেই কোণে যেখানে একটি পথশিশু ক্ষুধাকে বালিশ বানিয়ে ঘুমায়। ওরা স্কুলের ঘণ্টা শোনেনি, কিন্তু পুলিশের সাইরেন চেনে। ওরা কবিতার বই পড়েনি, কিন্তু শহরের গালাগালি মুখস্থ জানে। রাষ্ট্র, তোমার মানচিত্রে নদী আছে, পাহাড় আছে— কিন্তু ওই শিশুদে...

ফাগুনের মালা | কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 ফাগুনের মালা এস এফ সেলিম আহম্মেদ আমি ফুলকে ভালোবাসি— এটা কোনো সাধারণ ভালো লাগা নয়, এটা আমার হৃদয়ের নীরব এক সাধনা। যেমন নদী ভালোবাসে তার তীর, যেমন ভোর ভালোবাসে প্রথম আলোর স্পর্শ, তেমন করেই আমি ভালোবাসি ফুলকে— আর সেই ফুলের ভেতর লুকিয়ে থাকা তোমার স্মৃতিকে। ফাগুন এলেই মনে হয় পৃথিবী যেন হঠাৎ করে একটা লাল-কমলা স্বপ্নের শাড়ি পরে। শিমুলের আগুন রঙ আকাশ ছুঁতে চায়, পলাশের ডালে ডালে জ্বলে ওঠে বসন্তের উল্লাস। কৃষ্ণচূড়া দোলে হাওয়ায়, আর বাতাসে ভেসে আসে অচেনা এক মিষ্টি ঘ্রাণ— যেন কোথাও খুব কাছে তোমার পায়ের শব্দ লুকিয়ে আছে। আমি তখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি— ফুলের দিকে তাকিয়ে তোমার কথা ভাবি। একদিন তোমার জন্য অনেক ফুলের মালা গেঁথেছিলাম। শিমুলের লাল, পলাশের দীপ্ত আগুন, বুনো ফুলের সরল সৌরভ— আর তার সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলাম আমার হৃদয়ের সমস্ত মাধুরী। সেদিন ভেবেছিলাম— তুমি এলে নিজ হাতে সেই মালাটা তোমার গলায় পরিয়ে দেবো। আর পৃথিবীটা একটু থমকে দাঁড়াবে, বাতাস একটু থেমে যাবে, ফাগুন একটু লজ্জা পাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে। কিন্তু জীবন তো সব স্বপ্নকে সত্যি হতে দেয় না। ফাগুন আসে— আবার চলে যায়। বছরের পর ...

নদীর ধারে একাকী আমি | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 "নদীর ধারে একাকী আমি"  এস এফ সেলিম আহম্মেদ । নদীর ধারে বসে আছি,   শহরের রঙিন আলো আর শব্দ সব পেছনে ফেলে।   মোবাইল স্ক্রিনে মিলছে না কোনো খুশির নোটিফিকেশন।   পাওয়া আর না পাওয়া—   সব হিসাব ফিডে মাপা যায়,   কিন্তু ভেতরে থাকা এই শূন্যতা কেউ মাপতে পারে না।   পানি ফিসফিস করছে,   আমি শুনতে পাচ্ছি শুধু নিজের নিঃসঙ্গতার প্রতিধ্বনি।   জ্যোৎস্না নেমে এসেছে নদীর বুকে,   চোখে জমে সেই আলো,   কিন্তু হৃদয়টা আজ নিঃসঙ্গ, ভাঙা, অস্থির।   কতোবার ভেবেছি—   যা চাই, তা পাবো নিশ্চয়;   কতোবার হাত বাড়িয়েছি—   কিন্তু সময়, মানুষ, সুযোগ—   সবই ফুরিয়ে যায়।   নদীর পানি যেমন ফিরিয়ে আনে না,   ঠিক তেমনই জীবনের কিছু মুহূর্ত আর ফিরে আসে না।   ছায়ার মতো দীর্ঘ, ভাঙা, অস্থির—   আমার নিজের ছায়া জ্যোৎস্নার আলোয়।   সফলতার মান এখন লাইক,   ভালোবাসার মান এখন মেসেজে,   বন্ধুত্বের মান এখন স্ট্...

বৃষ্টির রাতে জন্ম নেওয়া অপ্রকাশিত প্রেম

"বৃষ্টির রাতে জন্ম নেওয়া এক অপ্রকাশিত প্রেম" - এস এফ সেলিম আহম্মেদ। ভূমিকা: কখনো কখনো একটি বই শুধু পড়া হয় না—  তা মানুষের ভেতরের নীরব দরজাগুলো খুলে দেয়। শ্রাবণের এক গভীর বৃষ্টির রাতে, একজন কবি একটি উপন্যাস পড়তে পড়তে হঠাৎ আবিষ্কার করেন— তার নিজের ভেতরেও লুকিয়ে আছে অসংখ্য অপ্রকাশিত প্রেমের শব্দ। এই কবিতাটি সেই আবিষ্কারের গল্প। কবিতা: শ্রাবণের এক দীর্ঘ ও গভীর রাতে বৃষ্টি পড়ছিল ধীরে ধীরে, মনে হচ্ছিল আকাশ যেন নিজের অজানা দুঃখগুলো পৃথিবীর কাছে জমা দিচ্ছে। জানালার পাশে বসে ছিলাম আমি— একটি নরম আলো, একটি নিঃশব্দ ঘর, আর হাতে খোলা একটি বই। বইটির নাম — “শ্রাবণ মেঘের দিন”। পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ মনে হলো আমি যেন আর পাঠক নই, আমি ঢুকে পড়েছি এক ভেজা গ্রামে— যেখানে কুয়াশার মতো ভাসে মানুষের নিঃশব্দ প্রেম, আর বৃষ্টির ভেতরেও শোনা যায় অপ্রকাশিত হৃদয়ের শব্দ। বৃষ্টি তখন শুধু আকাশে পড়ছিল না, বৃষ্টি পড়ছিল মানুষের ভেতরেও। কেউ হয়তো কাউকে ভালোবেসেছিল, কিন্তু সেই কথাটি সময়ের ভয়ে কখনো উচ্চারণ করেনি। কিছু চোখের ভাষা থাকে যেগুলো কোনোদিন চিঠি হয় না, কিছু ভালোবাসা থাকে যেগুলো কোনোদিন গল্প ...

সত্যের দায় | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 সত্যের দায় এস এফ সেলিম আহম্মেদ আমি লিখি— কারণ নীরবতা আমার কাছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা। কলম ধরি— কারণ শব্দেরা আমাকে ঋণী করেছে অন্ধকার ভেদ করার জন্য। সত্য যখন কাগজে নামে, বন্ধুত্বের মুখোশ খুলে যায়, চেনা মানুষও অচেনা হয়ে ওঠে। হাসির আড়ালে জন্ম নেয় সযত্নে পালিত শত্রুতা। তারা বলে— “এত খোলামেলা কেন?” আমি বলি— “কারণ জানালাগুলো বন্ধ রাখলে ঘরেই আগুন ধরে।” সত্য প্রকাশের পর ফোন কমে যায়, আমন্ত্রণপত্র হারিয়ে যায়, কিন্তু বিবেকের আয়নাটা আর ঝাপসা থাকে না। আমি জানি— সত্যের পাশে দাঁড়ানো মানে একাই দাঁড়ানো। তবু এ একাকীত্বে অদ্ভুত এক স্বাধীনতা আছে। শত্রুর সংখ্যা বাড়ুক— যদি শব্দের মেরুদণ্ড সোজা থাকে। কারণ ইতিহাস শেষ পর্যন্ত ভীরুদের নাম মনে রাখে না, মনে রাখে যারা আগুনের ভিতর দাঁড়িয়ে বলেছিল— “আমি লিখেছি, কারণ সত্য ছিল।”

ভঙ্গুর প্রজাতন্ত্র | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 ভঙ্গুর প্রজাতন্ত্র — এস এফ সেলিম আহম্মেদ এই প্রজাতন্ত্র কাঁচের তৈরি— সংবিধানের অক্ষরগুলো স্বচ্ছ, কিন্তু তার ভেতরে জমে আছে অদৃশ্য ফাটলের ইতিহাস। চত্বরজুড়ে মাইক্রোফোনের বৃষ্টি, সত্য দাঁড়ায় ছাতা ছাড়া— মিথ্যা পরে থাকে রেইনকোট, ভিজেও ভিজে না। রাজপথে এখন আয়নার মিছিল— প্রতিটি মুখে আরেকটি মুখ, প্রতিটি স্লোগানে আরেকটি হিসাব, কেউ ক্ষমতার, কেউ প্রতিশোধের, কেউ কেবল টিকে থাকার। এই রাষ্ট্রের দেয়াল স্বচ্ছ বলে সবাই দেখে সবাইকে, তবু কেউ দেখে না নিজের ভেতরের পাথর। একটি পাথরই যথেষ্ট— ভাঙতে পুরো স্থাপত্য, আর টুকরোগুলো রক্তাক্ত করে ফেলে দর্শককেও। এখানে আইন এক নীরব প্রহরী, তার চোখ বাঁধা নয়— কিন্তু তার দৃষ্টি নির্দেশিত। ভঙ্গুর প্রজাতন্ত্রে নাগরিকেরা হাঁটে সাবধানে, কারণ মেঝেটাও কাঁচের— একটু জোরে পা ফেললেই ইতিহাসে নতুন দাগ পড়ে। সময় অপেক্ষায় আছে— কারা ফাটল বাড়াবে, আর কারা হাত বাড়িয়ে ধরবে ভেঙে পড়া স্বচ্ছতাকে। এই প্রজাতন্ত্র টিকে থাকবে কিনা জানি না, তবে এটুকু নিশ্চিত— যারা পাথর ছোঁড়ে, তাদের হাতও কাঁচেরই তৈরি।

সিংহাসনের সেলফি | আধুনিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

সিংহাসনের সেলফি   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ   রাজনীতি এখন লাইভ সম্প্রচার,   মুখে গণতন্ত্র, ভেতরে বাজার।   কেউ নিজেকে ডাকে রাজরানী,   নীতির চেয়ে বড় তার বাণী। মাইকে আগুন, পোস্টে ঝড়,   ভোটের পরে সবই থরহর।   হ্যাশট্যাগে বিপ্লব সাজে,   কাজের বেলায় ক্যালকুলেটর বাজে। চেয়ার মানেই চূড়ান্ত প্রেম,   জনগণ শুধু ভোটের মেম।   পাঁচ বছর এক লম্বা ঘুম,   জাগরণ শুধু ভোটের রুম। বক্তৃতাতে স্বপ্ন বিক্রি,   হিসেব নিলে লাভই দিক্রি।   সিংহাসনটা সোনার ফ্রেম,   ভেতরটা কেবল ক্ষমতার গেম। তাই বলি হে নাগরিক ভাই,   চমকে নয়, বিবেকে ঠাঁই।   রাজরানী নয়, চাই নেতৃত্ব—   যেখানে মানুষই সর্বশ্রেষ্ঠ।