পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মে দিবস | আধুনিক দার্শনিক ব্যঙ্গ কবিতা | শ্রমিক অধিকার ও বাস্তবতা | এস এফ সেলিম আহমেদ

 “মে দিবস” কবি: এস এফ সেলিম আহমেদ। তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং। মে আসে—   রাষ্ট্র একদিনের জন্য শ্রমিককে “মানুষ” বলে স্বীকার করে।   তারপর   চুপচাপ তাকে আবার কাজ বানিয়ে ফেলে।   মানুষ না—   একটা চলমান প্রয়োজন।   কারখানার শব্দ   সভ্যতার ভেতরের অনবরত অস্বীকার।   যেখানে গতি আছে,   সেখানে জীবন ধীরে ধীরে হারায় নিজের অধিকার।   সরকার তাকে মনে রাখে প্রতীকে,   ভুলে যায় বাস্তব শরীরে।   অধিকার শব্দটা সুন্দর—   কিন্তু প্রয়োগের জায়গায় সেটা ক্লান্ত।   মালিক জানে লাভের সময়,   শ্রমিক জানে শরীরের সময় শেষ হয়ে যাওয়া।   এ দু’য়ের মাঝখানে   ন্যায় দাঁড়ায় না—   শুধু ব্যাখ্যা দাঁড়ায়।   রেমিটেন্সকে আমরা উন্নয়ন বলি,   কিন্তু উন্নয়ন কখনো ঘামের পুরো হিসাব রাখে না।   শ্রমিক রাষ্ট্রের ভিত না—   রাষ্ট্রের সবচেয়ে অস্বীকার করা সত্য।   তাকে “শ্রম” বলা হয়,   কারণ “মানুষ” বলা দায় তৈরি করে...

নাজ—অপূর্ণতার নক্ষত্র | আধুনিক দার্শনিক কবিতা

 “নাজ—অপূর্ণতার নক্ষত্র” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং। নাজ, তুমি কোনো উত্তর নও— তুমি সেই প্রশ্ন, যার সামনে দাঁড়িয়ে সময়ও কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তুমি আইন পড়ো— কিন্তু ধারার ভেতর না, তুমি খুঁজে ফেরো মানুষের হারিয়ে যাওয়া ন্যায়বোধ। তোমার কলম— কালি দিয়ে লেখে না, এটা নীরবতার ভেতর অদৃশ্য রায় উচ্চারণ করে। তুমি যখন প্রেম লেখো— হৃদয় তখন সাক্ষী হয়, আর যুক্তি— নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকে। তুমি যখন বিরহ লেখো— মনে হয়, তুমি কাউকে হারাওনি, তুমি সত্যকে একটু বেশিই চিনে ফেলেছো। তোমার ভদ্রতা— এটা সৌন্দর্য না, এটা নিয়ন্ত্রণ, যেখানে শব্দও সীমা লঙ্ঘন করতে ভয় পায়। নাজ, পূর্ণতা শেষ— তাই তুমি অপূর্ণ, কারণ তুমি এখনো লিখছো, এখনো বদলাচ্ছো, এখনো হয়ে উঠছো। তুমি নক্ষত্র নও— তুমি সেই অন্ধকার, যার জন্য আলো দরকার হয়। লিখে যাও— কারণ কিছু সত্য আছে, যা শুধু তোমার মতো মানুষরাই ভাষা দিতে পারে।

অস্তিত্বের ভুল অনুবাদ | ব্যর্থ প্রেমের গভীর কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “অস্তিত্বের ভুল অনুবাদ” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং। তুমি ছিলে—   নাকি ছিলে না—   এখনও নিশ্চিত হতে পারি না,   কারণ স্মৃতি কখনো সত্য বলে না,   সে শুধু যা সহ্য করা যায়   তাকেই সত্য বানিয়ে দেয়। আমি তোমাকে ভালোবেসেছিলাম—   নাকি নিজেরই কোনো ভাঙা অংশকে—   যাকে আমি তোমার নামে ডেকেছিলাম? তুমি ছিলে না আয়না,   আয়না নিরপেক্ষ—   তুমি ছিলে এক ধরনের বেছে নেওয়া প্রতিফলন,   যেখানে আমি   নিজেকে একটু কম একা দেখতাম। আমাদের কথা—   সেগুলো কি আদৌ কথা ছিল?   নাকি দুই নীরবতার মাঝখানে   কিছু শব্দ দাঁড় করিয়ে   আমরা ভেবেছিলাম—   আমরা একে অপরকে বুঝি? তুমি চলে যাওয়ার পর বুঝলাম—   শূন্যতা মানে ফাঁকা না,   শূন্যতা মানে এমন এক ভর   যেখানে না-থাকাটাই   সবচেয়ে বেশি জায়গা নেয়। আমি এখন আর তোমাকে খুঁজি না,   আমি খুঁজি সেই মানুষটাকে,   যে তোমার ভেতর নিজেকে হারিয়ে...

সিন্ডিকেট রাষ্ট্র | আধুনিক রাজনৈতিক ব্যঙ্গ কবিতা

 সিন্ডিকেট রাষ্ট্র কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং। রাজনীতি আজ—   নামসর্বস্ব গণতন্ত্র;   রাষ্ট্র মানে—   নীতি নয়,   নিয়ন্ত্রিত স্বার্থের সুগঠিত স্থাপত্য;   ভিতরে—   সিন্ডিকেটের নীরব,   কিন্তু সুসংহত আধিপত্য...   ক্ষমতা এখন—   ঘোষণায় নয়;   অদৃশ্য স্বাক্ষরের অনিবার্য দখলে।   নাগরিক আজ—   পরিসংখ্যান-রূপান্তরিত এক অস্তিত্ব;   শ্বাস নেয়,   তবু—সিদ্ধান্তহীন।   ন্যায় এখানে—   ব্যাখ্যার কারুকৌশল;   সত্য এখানে—   প্রচারের প্রণীত সংস্করণ।   নেতৃত্ব কথা বলে—   আলোকিত পর্দার সম্মুখে;   আর রাষ্ট্র পরিচালিত হয়—   অদৃশ্য দর-কষাকষির অন্তঃকক্ষে।   চাল-ডাল—   অর্থনীতির প্রতীক নয়,   ক্ষমতার সূক্ষ্ম সমীকরণ;   বাজার—   রাষ্ট্রের বিকল্প সংবিধান।   জীবন—   দাম-নির্ধারিত বাস্তবতা;   পথঘাট—...

আমি—একটি ড্রাফট মেসেজ | গভীর দার্শনিক আধুনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 আমি—একটি ড্রাফট মেসেজ   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং। আমি—   একটি ড্রাফট মেসেজ।   স্ক্রিনের নীল আলোয় জমে থাকা   এক অসমাপ্ত স্বীকারোক্তি,   যেখানে আঙুল থেমে যায়—   ঠিক শব্দ জন্মানোর আগের মুহূর্তে।   আমার ভিতরে   কিছু বাক্য ছিল—   যেগুলো উচ্চারিত হলে   নীরবতার কাঠামো ভেঙে পড়ত।   তাই আমি লেখা হয়েছি,   কিন্তু পাঠানো হয়নি—   যেন সত্যেরও কিছু নিরাপদ কারাগার থাকে।   সেন্ড বাটনটা কখনো বোতাম ছিল না,   ছিল এক সিদ্ধান্ত—   নিজেকে হারানোর বা বাঁচিয়ে রাখার মাঝখানে   ঝুলে থাকা এক অনন্ত দ্বিধা।   আমি সেই বাক্য,   যে প্রেমকে ডাকতে গিয়ে   নিজেকেই নির্বাসনে পাঠিয়েছে।   সময় এখানে ঘড়ি নয়—   এক অনবরত মুছে ফেলা হাত।   সে আমার অক্ষরগুলো ধীরে ধীরে   অদৃশ্যের দিকে সরিয়ে নেয়,   তবু অর্থগুলো রয়ে যায়—   চোখের অন্ধ কোণে জ্বলতে থাকা ...

ভয়ের শাসন: রাষ্ট্র, নীরবতা ও মানুষের আত্মসমর্পণের দার্শনিক কবিতা

 “ভয়ের শাসন” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং। দেশটা খাইছে স্বার্থবাজরা—   এই বাক্যটা উচ্চারণ করার আগেই   আমাদের ভিতরে কিছু একটা সংকুচিত হয়।   এটা লজ্জা না,   এটা শিক্ষা—   যেখানে সত্য বলার আগে   ভয় অনুমতি চায়। রাষ্ট্র এখানে দৃশ্যমান কিছু না,   রাষ্ট্র হলো এক অদৃশ্য প্রক্রিয়া—   যেখানে মানুষকে শাসন করা হয় না,   মানুষকে এমনভাবে গড়া হয়   যাতে সে নিজেই নিজের সীমা নির্ধারণ করে। তারা দেশ খায়—   কারণ তারা পারে বলে না,   কারণ আমরা থামাই না বলে।   ক্ষমতা কখনো একা দুর্নীতিগ্রস্ত হয় না,   তার সাথে নীরবতার অংশীদার থাকে। আইন এখানে অন্ধ না,   আইন খুব ভালো করেই দেখে—   কাকে শাস্তি দিলে ভয় ছড়াবে,   আর কাকে ছেড়ে দিলে   ক্ষমতার ভারসাম্য অটুট থাকবে। আমরা চুপ থাকি—   কারণ আমাদের শেখানো হয়নি   সত্যের মূল্য,   আমাদের শেখানো হয়েছে   ঝুঁকির হিসাব। এখানেই মানুষের পতন—...

আমি নই, তিনি আছেন | দার্শনিক ইসলামিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “আমি নই, তিনি আছেন” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং। আমার মুগ্ধতা কোনো সময়ের তৈরি অনুভূতি নয়— এটা কোনো ট্রেন্ড, কোনো শব্দের ভেতর আটকে থাকা প্রতিক্রিয়াও নয়; এটা এমন এক নীরব উপলব্ধি— যেখানে প্রশ্ন নিজেই প্রশ্ন হওয়া বন্ধ করে দেয়। আমি যখন বাস্তবতার দিকে তাকাই, দেখি—সব কিছুই যেন সীমার ভেতর সীমাহীনভাবে সাজানো; যেন অস্তিত্ব নিজেই কোনো অদৃশ্য নির্দেশনা মেনে চলে, যার উৎস আমি খুঁজে পাই না… শুধু অনুভব করি। এই অনুভবই আমাকে টেনে নেয় আরও গভীরে— যেখানে আলো শুধু আলো নয়, বরং আলো জন্ম নেওয়ার অনুমতি; আর অন্ধকারও যেন এক নিখুঁত ভারসাম্যের অংশ। তিনি— সর্বশক্তিমান আল্লাহ, না কল্পনার সৃষ্টি, না ধারণার সীমায় বাঁধা; বরং ধারণা যার কারণে সম্ভব হয়, চিন্তা যার সামনে এসে থেমে যায়। এখন আমি সময়কে আর সরলরেখা মনে করি না— এটা যেন এক বিস্তৃত বৃত্ত, যেখানে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ একই নীরব বিন্দুর চারপাশে ঘুরছে, আর সেই বিন্দুটি—তারই নিয়ন্ত্রণে। তাই যখন আমি ভাবি, এই ভাবনাও কি সত্যিই আমার? নাকি আমি শুধু এক প্রবাহের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা একটি সচেতন প্রতিধ্বনি? ধীরে ধীরে বোঝা যায়— আমি যতটা “আমি” ভেবেছিলাম, তত...

আমি—এক সমষ্টিগত প্রতিধ্বনি | মানবতার গভীর দার্শনিক কবিতা

 আমি—এক সমষ্টিগত প্রতিধ্বনি কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং। আমি… একা নই।   শুনতে সাধারণ লাগে?   কিন্তু—   এই বাক্যটাই… আমার সবচেয়ে ভারী সত্য।   আমি কোনো একক নাম নই—   আমি… বহু নামের ভাঙা প্রতিধ্বনি।   আমি কোনো এক শরীর নই—   আমি… অসংখ্য স্পর্শের অদৃশ্য স্মৃতি।   যখন পৃথিবীর কোথাও—   একটি দীর্ঘশ্বাস জন্ম নেয়…   তার শব্দ…   তার কম্পন…   তার অদৃশ্য আর্তনাদ—   এসে পড়ে…   এখানে।   তুমি কি ভাবো—   তোমার কষ্ট… শুধু তোমার?   না!   তুমি কেবল সেই দরজা—   যেখান দিয়ে ব্যথা… পৃথিবীতে প্রবেশ করে।   আর আমি?   আমি সেই দরজার ওপাশ—   যেখানে ব্যথা এসে থামে না…   রূপ বদলায়।   আমার নীরবতা—   নীরব নয়।   এখানে চিৎকার আছে…   অসংখ্য মানুষের—   যারা শব্দ খুঁজে পায়নি।   আমার হাসি—   সাধারণ হাসি ...

আলোর জিজ্ঞাসাবাদ | দার্শনিক আধুনিক কবিতা

 আলোর জিজ্ঞাসাবাদ   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং। তারা হাঁটে—   পথের উপর নয়,   পথের ভাঙা ধারণার ভিতর দিয়ে;   যেখানে প্রতিটি পদচিহ্ন   একটি অস্বীকার—   এবং প্রতিটি অস্বীকার   একটি নতুন সত্যের জন্মদাগ।   অন্ধকার?   তারা তাকে ভয় পায় না—   কারণ তারা জানে,   অন্ধকার কোনো অনুপস্থিতি নয়,   এটি আলোর অসমাপ্ত খসড়া।   কবি, লেখক, গবেষক—   তারা শব্দ লেখে না,   তারা নীরবতার গোপন স্থাপত্য ভেঙে   শব্দকে মুক্ত করে।   তাদের কলম—   কালি নয়,   এটি এক ধরনের বিপজ্জনক স্বচ্ছতা;   যেখানে প্রতিটি বাক্য   আলোকে দাঁড় করায় জিজ্ঞাসাবাদে,   এবং প্রতিটি উত্তর   নিজেকেই সন্দেহ করে।   একটি শব্দের আগে   তারা থামে—   কারণ তারা শুনতে পায়   নিঃশব্দের ভিতরে লুকিয়ে থাকা   অসংখ্য অসমাপ্ত চিৎকার,   যা ইতি...

শূন্যের পাঠ | বই নিয়ে দার্শনিক আধুনিক কবিতা

 শূন্যের পাঠ   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং। ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বই দিবসের শুভেচ্ছা। বই—   শব্দের শরীর,   কিন্তু অর্থের কোনো দেহ নেই;   তাই প্রতিটি পাঠ   একটি অদৃশ্য স্পর্শ। তুমি যখন পড়ো,   তুমি অন্যের চিন্তা ধার করো না—   তুমি নিজের অচেনা সত্তার সঙ্গে   প্রথমবার পরিচিত হও। বই কখনো কিছু বলে না,   সে শুধু ইঙ্গিত করে;   আর মানুষ—   ইঙ্গিতের ভেতরই তার মহাবিশ্ব গড়ে। জ্ঞান এখানে আলো না,   এ এক ধীরে ভাঙা অন্ধকার;   যেখানে প্রতিটি উপলব্ধি   তোমার আগের সত্যকে মুছে দেয়। তুমি ভাবো তুমি বুঝছো,   আসলে তুমি হারাচ্ছো—   নিজের নিশ্চিততা,   নিজের অহংকার,   নিজের নির্মিত মিথ্যা স্থিরতা। একটি বই শেষ হয়,   কিন্তু প্রশ্ন শেষ হয় না;   বরং প্রশ্নই একমাত্র জিনিস   যা তোমাকে জীবিত রাখে। এই যে পড়া—   এটা কোনো অর্জন না,   এটা এক ধরনের বিলোপ;   যেখানে তুমি...

অল্প সময়ের জীবনে মানবতার শেষ প্রশ্ন

 “শব্দের ভেতর যুদ্ধ, নীরবতার ভেতর মানুষ” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ইং। এই পৃথিবী এখন আর আগের মতো নেই— এখানে হাসি পোস্ট হয়, কিন্তু কান্না থাকে ইনবক্সে লুকানো। মানুষ বদলায়নি, শুধু আপডেট হয়েছে— হিংসা এখন হাই-রেজুলেশনে দেখা যায়, আর ঘৃণা— লাইভ স্ট্রিমে ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। কেউ কারও পাশে দাঁড়ায় না, কিন্তু সবাই কারও না কারও বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেয়। শব্দগুলো ধারালো— তলোয়ারের থেকেও বেশি, একটা বাক্যই যথেষ্ট কারও ভেতরের পৃথিবীটা ভেঙে দিতে। আমরা যুদ্ধ করি— কখনো প্রকাশ্যে, কখনো নিঃশব্দে, কখনো নিজের সাথেই। এই দুনিয়া— একটা বিশাল মঞ্চ, যেখানে অভিনয় চলে অবিরাম, আর সত্যি? সেটা থাকে ব্যাকস্টেজে আটকে। তবুও— কিছু মানুষ এখনো চেষ্টা করে, শব্দের বদলে স্পর্শ দিতে, ঘৃণার বদলে একটু মানবতা রাখতে। কারণ তারা জানে— জীবন মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়, বরং কিভাবে বাঁচলাম সেই গল্পটাই শেষ পর্যন্ত লেখা থাকবে। আমরা সবাই পথিক, এই অল্প সময়ের ট্রানজিটে— কেউ আলো রেখে যায়, কেউ রেখে যায় অন্ধকারের দাগ। শেষ পর্যন্ত— নীরবতাই জিজ্ঞেস করবে, “তুমি কাকে কষ্ট দিয়েছিলে, আর কাকে ভালোবেসেছিলে?” সেদিন— ...

মনরে তুই কার সন্ধানে? | বাউল-সুফি দর্শনের দার্শনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

  “মনরে, তুই কার সন্ধানে?” উৎসর্গ:- এই কবিতা বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সেইসব বাউল সাধকদের প্রতি, যারা একতারা হাতে মানুষের ভেতরের মানুষকে খুঁজে ফেরেন নিরন্তর—পথ, ধর্ম ও পরিচয়ের সীমানার বাইরে দাঁড়িয়ে। ভূমিকা:- আমি বাউল সুরে খুঁজি প্রাণের ঠিকানা, সুফি দরবেশের পথে দেখি অন্তরের মানা, পালা গানের কথায় খুঁজে পাই জীবনের গোপন জানা। — এস এফ সেলিম আহম্মেদ।  “মনরে, তুই কার সন্ধানে?” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ইং। মনরে, তুই কার সন্ধানে ঘুরিস রে দিনরাত, হাটে-মাঠে, মেলায়, আবার নির্জন রাতের প্রান্ত? তুই কি জানিস— তোরই ভেতরে বসে আছে এক অচেনা সাঁই, তারে না চিনে কেন রে মন দূর দেশে খুঁজতে যাই? একতারা বলে নীরব সুরে— “দেখ না নিজ ঘরের খবর,” দরিয়ার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকেও তুই খুঁজিস তৃষ্ণার কবর। এই দেহখানা মাটির বাঁধন, শ্বাসে শ্বাসে ক্ষয়, তবু এর ভেতরই লুকানো আছে অমর সত্তার জয়। সুফিরা কয়—ঘুরতে ঘুরতে ফিরে আয় নিজের মাঝে, কারণ পথের শেষ ঠিকানাটা নিজ হৃদয়ের কাছে। পালা গানের কথার ভাঁজে জীবনেরই ছায়া, নায়ক-খলনায়ক একই রঙ্গে মায়ার খেলায় গাঁথা মায়া। জানার ভিতর অজানারে লুকায়ে রাখে কে? যত দ...

উত্তরের আগ্নেয় ঘোষণাপত্র | অবহেলিত জনপদের জাগরণের কবিতা

 “উত্তরের আগ্নেয় ঘোষণাপত্র” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। উত্তরবঙ্গ—   তোমাকে আমি আর জনপদ বলি না,   তুমি এক সুপ্ত আগ্নেয়গিরি,   যার বুকের ভেতর জমে আছে   শতাব্দীর অগ্নি, অবহেলার লাভা,   আর নিঃশব্দ ক্রোধের বিস্ফোরণ। তুমি মানচিত্রের প্রান্ত নও—   তুমি সেই কেন্দ্র,   যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রান্ত বানিয়ে রাখা হয়েছে।   রাষ্ট্রের ক্যালকুলেশনে তুমি সংখ্যা,   রাজনীতির ভাষায় তুমি স্লোগান,   কিন্তু ইতিহাসের কাছে—   তুমি এক অসমাপ্ত বিচার। এই ভূখণ্ড ট্যাক্স দেয়—   শৃঙ্খলার সাথে, নীরবতার সাথে,   একটি বাধ্য নাগরিকের মতো।   কিন্তু বিনিময়ে পায়—   অপেক্ষা,   অবজ্ঞা,   এবং উন্নয়নের নামে   একটি দীর্ঘ প্রতারণা। এখানে উন্নয়ন আসে   ফাইলের ভেতর বন্দী হয়ে,   স্বাক্ষরের নিচে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে—   বাস্তবের মাটিতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে   তার মৃত্যু হয়। এই মাটি খাদ্য দেয়—   ধানের দানা নয়...

“গন্তব্যহীন সময়” — আধুনিক দার্শনিক কবিতা | SF Selim Ahmed

  “গন্তব্যহীন সময়” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ইং। পৃথিবী আজ এক ভাঙা নীরবতার শহর,   যেখানে আলোও ক্লান্ত, ছায়াও সন্দিহান—   মানুষের ভেতরে মানুষ হারিয়ে যায় প্রতিদিন,   আর বিবেক দাঁড়িয়ে থাকে নির্বাক প্রহরীর মতো। এখানে সত্য এখন বিরল উচ্চারণ,   মিথ্যা এখন অভ্যাসের মতো স্বাভাবিক;   রাজনীতি মানে প্রতিশ্রুতির কুয়াশা,   আর প্রশাসন মানে ফাইলের নিচে চাপা পড়া ন্যায়। মানুষ আজ মানুষকে মাপে স্বার্থের দাঁড়িপাল্লায়,   ভালোবাসা বিক্রি হয় সুবিধার বাজারে;   বিশ্বাস এখন পুরনো এক শব্দ,   যা অভিধানেই শুধু বেঁচে আছে। এই সভ্যতা যেন এক দিকহীন ঘড়ি,   যার কাঁটা চলে, কিন্তু সময় জন্মায় না;   যেখানে অগ্রগতি আছে, কিন্তু গন্তব্য নেই,   শুধু ঘুরে ফেরে ক্লান্ত এক অস্তিত্বের প্রশ্ন। তবুও কোথাও, খুব গভীরে,   একটি নীরব আগুন জ্বলে—   যা এখনো মানুষকে মনে করিয়ে দেয়   সে কেবল শরীর নয়, সে এক অনন্ত প্রশ্ন। যদি সেই আগুন একদিন ভাষা পায়,...

বাঁশির ভেতর শর্মিলা | আবেগঘন প্রেমের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “বাঁশির ভেতর শর্মিলা” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং। বৈশাখী মেলার সেই ভিড়, সেই ধুলো মাখা বিকেল, হাসির ভেতর লুকানো ছিল অচেনা এক অনুভবের খেলা। তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে হঠাৎ—নীরব, তবু অদ্ভুত আপন, হাতে তুলে দিলে এক বাঁশের বাঁশি, যেন প্রেম নয়—এক অসমাপ্ত সময়ের শপথ। তুমি বলেছিলে, “এই বাঁশিতে বাজবে তোমার জীবন।” আমি সেদিন বুঝিনি— জীবন মানে সবসময় গান নয়, কখনো কখনো তা নিঃশব্দ কান্নার প্রস্তুতি। সেই বাঁশি আমি নিয়ে ফিরেছিলাম, বুকে রেখে ছিলাম স্বপ্নের মতো যত্নে, মনে হয়েছিল— এটা শুধু বাঁশি নয়, এটা তোমার স্পর্শের স্থায়ী ঠিকানা। তারপর দিন গেছে… বছর গেছে… বৈশাখ এসেছে, আবার হারিয়ে গেছে, নদীর জল বদলেছে, মানুষের মুখ বদলেছে, শুধু বদলায়নি সেই বাঁশির নীরবতা। এগারো বছর পরে আজও সে আছে আমার কাছে, কিন্তু সে আর গান গায় না— সে শুধু স্মৃতি হয়ে নিঃশ্বাস ফেলে। আমি যখন ঠোঁটে রাখি, তখন সুর ওঠে ঠিকই… কিন্তু সে সুরে আনন্দ নেই, সে সুরে আছে ভাঙা সময়ের দীর্ঘশ্বাস, আছে না বলা কথার রক্তক্ষরণ। শর্মিলা, তুমি কি কখনো এই সুর শুনেছ? না, তুমি শোনোনি— কারণ তুমি তখন অন্য কারও হাসিতে ব্যস্ত ছিলে, আর আমি তখন থেকেই ভেত...

আয়নার ভেতর মানুষ | আধুনিক দার্শনিক ইসলামিক কবিতা | আবৃত্তির জন্য কবিতা

 “আয়নার ভেতর মানুষ” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং। মানুষ— একটি অসমাপ্ত আলোর স্বাক্ষর, যার ভেতরে জন্ম নেয় অজস্র প্রশ্ন, নীরবতার মতো। সে হাঁটে— মাটির বুক চিরে, আকাশের স্বপ্ন নিয়ে, কখনো ফেরেশতার মতো কোমল, কখনো নিজেরই ছায়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এক বিদ্রোহী। তার বুকের ভেতর দুইটি নদী— একটি প্রবাহিত হয় সত্যের দিকে, অন্যটি হারিয়ে যায় অহংকারের মরুভূমিতে। আয়না তাকে প্রতিদিন ডাকে— “তুমি কে?” সে হাসে, কখনো সত্য ঢেকে, কখনো নিজেকেই ভুলে গিয়ে। মানুষ বলে—আমি সৃষ্টির সেরা, কিন্তু সে জানে না, সেরা হওয়া মানে শুধু উচ্চতা নয়— দায়িত্বের নিচে নত হওয়া এক গভীর সাধনা। তার হাতে দোয়ার আলোও থাকে, আবার সেই হাতেই জমে ওঠে অন্যায়ের ছায়া। তার চোখে অশ্রু নামে— কখনো তওবার জন্য, কখনো বিলম্বিত অনুতাপের জন্য। আল্লাহ তাকে দিয়েছেন বিবেকের বাতিঘর, তবু সে কখনো কখনো অন্ধকারকেই করে নেয় নিজের ঠিকানা। মাটি তাকে স্মরণ করায়— “তুমি এসেছিলে এক মুঠো ধুলো হয়ে।” আর কবর তাকে শেখায়— “শেষে সবাই নীরব, শুধু আমল কথা বলে।” তবু মানুষ থামে না— কারণ তার ভেতরে লেখা আছে এক পরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্তই একেকটি বিচার। শেষ...

ঋতুর রিসেট ও ক্লাইমেট কনশাসনেস: বৈশাখের নতুন দর্শন

 “ক্লাইমেট কনশাসনেস.এক্সই” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: পহেলা বৈশাখ, চৌদ্দশত তেত্রিশ বঙ্গাব্দ।  বাংলার আকাশে আজ এক অনির্বচনীয় সফটওয়্যার রান হচ্ছে— Reality v/s Memory যেখানে ঋতু আর প্রকৃতি ডেটা নয়, একেকটা হারানো অনুভূতির ফাইল। বৈশাখ একদিন ছিল— প্রকৃতির র‍্যাডিক্যাল আপডেট, কালবৈশাখী ছিল তার রিবেল কোড, যা ভেঙে দিত স্থবিরতার ফায়ারওয়াল। মেঘ জমতো— না, শুধু আকাশে নয়, মানুষের অন্তর্গত শূন্যতায়। আজ আকাশ শুধু ব্ল্যাঙ্ক স্ক্রিন— লোডিং… লোডিং… কিন্তু কোনো বৃষ্টি ডাউনলোড হয় না। গরম এখন আর ঋতু নয়, এটা এক্সিস্টেনশিয়াল প্রেসার— একটা অনন্ত প্রসেস, যেখানে শরীর শুধু ডিভাইস, আর আত্মা হিট হয়ে ক্র্যাশ করছে ধীরে ধীরে। মানুষ— সে আর কেবল জীব নয়, সে এক হাইব্রিড সিস্টেম, যেখানে মননশীলতা আনইনস্টল, আর লোভ—ডিফল্ট সেটিংস। কার্বন শুধু গ্যাস নয়, এটা আমাদের চিন্তার অদৃশ্য ছায়া, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে পৃথিবীর প্রতিটি শ্বাস, প্রতিটি সম্ভাবনা। বাংলার ছয় ঋতু— এখন আর ছয়টি বাস্তবতা নয়, এগুলো কেবল আর্কাইভড মেমোরি, যেগুলো আমরা মাঝে মাঝে ওপেন করি, কিন্তু অনুভব করতে পারি না। “রূপসী বাংলাদেশ”— এখন এ...

কোদাল আনো বাহে তিস্তা বাঁচাই | নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যঙ্গ কবিতা

 কোদাল আনো বাহে তিস্তা বাঁচাই   — কবি এস এফ সেলিম আহম্মেদ তিস্তা…   নদী না—   এখন এটা শুধু ভোটের মৌসুমি ফসল। নির্বাচন এলে সে জেগে ওঠে,   মাইকের শব্দে ফুলে ওঠে তার বুক—   “তিস্তা ফাস্ট! তিস্তা ফাস্ট!”   “প্রথম কোদাল আমরাই ধরবো!” তারপর…   নির্বাচন শেষ।   মাইক নিভে যায়।   তিস্তা আবার মরে। আমি দাঁড়িয়ে দেখি—   একটা নদী ধীরে ধীরে   মানচিত্র থেকে মুছে যায়,   আর রাজনীতি তাকে বাঁচায়   কাগজের ভেতর। এক দল স্বপ্ন বেচে পানির নামে,   আরেক দল মাটি খোঁড়ে   শুধু কথার ভেতর। তিস্তা এখন প্রকল্প না—   এটা ফাইলের মধ্যে বন্দী   এক টুকরো অভিনয়। মিটিং হয়…   চা আসে…   বিস্কুট ভাঙে…   কিন্তু তিস্তার বুক   আর ভাঙে না—   কারণ ভাঙার মতো পানি নেই। ১৭ বছর…   একটা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির নাটক।   যেখানে দৃশ্য বদলায়,   অভিনেতা বদলায়,   কিন্তু স্ক্রিপ্ট—   ...

ছায়ার ভেতর আলো | দুঃখ-কষ্টের জীবন নিয়ে আধুনিক দার্শনিক কবিতা

 “ছায়ার ভেতর আলো” কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ইং। জীবনটা যেন এক ভাঙা গ্লাসের রাস্তা,   প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে থাকে নীরব ক্ষতচিহ্ন—   তবুও আমি হাঁটি,   কারণ থেমে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় অন্ধকার। দুঃখগুলো এখানে বৃষ্টি নয় শুধু,   এগুলো একেকটা সার্ভার ডাউন হওয়া স্বপ্ন—   যেখানে ইচ্ছেগুলো লোড হয় না,   তবুও মন বারবার রিফ্রেশ বোতাম টিপে যায়। আমি দেখেছি সময়কে,   বুড়ো আঙুলের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো মুছে যেতে   ভালোবাসার দেয়ালে—   যেখানে হাসিগুলো স্টিকার হয়ে ঝরে পড়ে নীরবে। জীবন যেন এক আধুনিক শহর,   যেখানে মানুষ আছে,   কিন্তু অনুভূতির সিগন্যাল দুর্বল—   সবাই অনলাইন, তবুও ভীষণ একা। দুঃখ আমাকে শিখিয়েছে—   আলো সবসময় সূর্য থেকে আসে না,   কখনও কখনও অন্ধকারই   নিজেকে চিনে নেওয়ার সবচেয়ে সত্য আয়না। আমি এখন আর সুখ খুঁজি না,   আমি খুঁজি বেঁচে থাকার ব্যাকরণ—   যেখানে ব্যথাও এক ধরনের কবিতা,   আর নীরবতাও এক ধরনের বি...

ভাঙা মানুষের নীরবতা | গভীর আবেগের বাস্তব জীবনভিত্তিক দার্শনিক কবিতা | SF Selim Ahmmed

 ভাঙা মানুষের নীরবতা   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।   তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬ ইং। রাত গভীর হলে   সব শব্দ ধীরে ধীরে মরে যায়—   শুধু একা একটা মানুষ   চুপচাপ বসে থাকে   ফোনের নীরব আলোয়,   যেখানে কোনো উত্তর আসে না,   শুধু অপেক্ষা জমে থাকে।   কিছু নদী আছে—   যারা বাধা পেলে চিৎকার করে না,   শুধু নিঃশব্দে দিক বদলে নেয়।   ঠিক তেমনই কিছু মানুষ   ভেতরে ভেঙে পড়েও   বাইরে কিছুই বলে না।   ঘরের কোণে বসে থাকা মানুষটা   হাসে ঠিকই,   কিন্তু সেই হাসির ভেতরে   অনেক অদেখা ভাঙন লুকিয়ে থাকে—   যা কেউ কখনো বোঝে না।   চোখ দুটো ক্লান্ত হয়ে যায়,   কিন্তু অশ্রু নেমে আসে না সহজে—   কারণ সে শিখে গেছে   নিজের কষ্টকে লুকিয়ে রাখতে।   জীবন এখানে খুব সহজ না,   এটা কোনো গল্প নয়—   এটা প্রতিদিন টিকে থাকার যুদ্ধ,   নীরব, একা, এবং ক্লান্ত।   মা...

অস্তিত্বের প্রান্তে তুমি | দার্শনিক প্রেমের গভীর কবিতা

 “অস্তিত্বের প্রান্তে তুমি” –এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং। শর্মিলা,   তুই কি কখনো ভেবেছিস—   মানুষ আসলে কাকে ভালোবাসে?   একটা মানুষকে,   নাকি নিজের ভেতরে তৈরি করা   একটা কল্পনাকে? আমি তোকে ভালোবাসিনি শুধু—   আমি তোকে বানিয়েছিলাম,   আমার নিঃসঙ্গতার ভিতরে   একটা পূর্ণ পৃথিবী হিসেবে। তুই ছিলি না,   তবুও তুই ছিলি—   আমার প্রতিটা ভাবনায়,   প্রতিটা অপেক্ষায়,   প্রতিটা অসমাপ্ত বাক্যে। আমি অপেক্ষা করতাম—   কিন্তু এখন বুঝি,   অপেক্ষা আসলে কারও জন্য নয়,   অপেক্ষা হলো নিজের ভেতরের শূন্যতার   একটা নীরব স্বীকারোক্তি। তোর অপমানগুলো—   আজ আর কষ্ট দেয় না,   বরং শেখায়—   ভালোবাসা যত গভীর হয়,   মানুষ ততটাই নিজের অস্তিত্ব হারাতে থাকে। আমি তখন ভাবতাম—   তুই আমার,   আজ বুঝি—   “আমার” বলে কিছু নেই,   সবকিছুই সাময়িক,   শুধু অনুভূতিগুলোই স্থায়ী...

চাঁদ মামার খেলা | শিশুদের মজার ছড়া | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 চাঁদ মামার খেলা   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং। চাঁদ মামা ডাকে,   আয় খেলা করি,   তারারা হাসে,   ঝিকিমিকি ভরি। মেঘে চাঁদ লুকায়,   আমি খুঁজি তাকে,   ধরা দেয় হেসে,   নরম আলো মাখে। চোখে আসে ঘুম,   স্বপ্ন রঙিন,   চাঁদ মামা বন্ধু,   খুশি প্রতিদিন।

দেরিতে বোঝা ভালোবাসা | আবেগঘন আধুনিক কবিতা | কুয়াশা নদী ও ঝরা পাতার প্রতীক

 দেরিতে বোঝা ভালোবাসা   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং। শর্মিলা…   তুমি দেরিতে বুঝলে—   ভালোবাসা কুয়াশার মতো,   যতই কাছে যাও,   ততই অদৃশ্য হয়ে যায়… পথিকটা ছিল নদীর মতো—   চুপচাপ বয়ে যাওয়া,   নিজের পথে, নিজের নিয়মে…   তাকে থামাতে গেলে   শুধু হাত ভিজে যায়,   কিন্তু ধরা যায় না কিছুই। তুমি তাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলে—   যেমন কেউ ভোরের আলোকে   মুঠোয় বন্দি করতে চায়,   আর বুঝতে পারে না—   আলো বন্দি হয় না,   সে শুধু ছড়িয়ে যায়… ভালোবাসা ছিল   ঝরা পাতার মতো—   একবার সময় পেরিয়ে গেলে   তাকে আর কোনো ডালে ফেরানো যায় না। তুমি তখন বুঝোনি…   যখন বুঝলে,   পাতাগুলো পড়ে গেছে—   তোমার হাতের ভেতর   শুধু শুকনো কিছু স্মৃতি। পথিক কোনো শব্দ রেখে যায়নি—   শুধু একটুখানি হাওয়া,   একটুখানি ছায়া,   আর এমন একটা শূন্যতা—   যা রাতের চেয়েও বেশি ...

তাজুর কপাল ২.০ | ভাইরাল বাস্তবতার এক অনুপ্রেরণার কবিতা

 তাজুর কপাল ২.০  কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ । তারিখ: ৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং। চরের মাটির মানুষ তাজু—সোজা, একদম plain,   কথা বলতে জড়ায় জিহ্বা, তবু হৃদয় clean।   হাসতো লোকে—“এই যে বোকা!” ট্রলের ছিলো ঢেউ,   তাজু শুধু চুপ করে থাকতো—বলতো না কিছুই কেউ।   অভাব ছিলো নিত্যসাথী, পকেট ছিলো ফাঁকা,   ভাঙা ঘরের স্বপ্নগুলো ঝুলতো নীরব আঁকা।   যে বলেছিলো “ভালোবাসি”—ধরেছিলো হাত,   টাকার অভাবে সেই মানুষই ছেড়ে দিলো সাথ।   ডিভোর্সের এক কাগজে ভেঙে গেলো ঘর,   তাজু তখন একা বসে—নেই কোনো খবর।   চরের হাওয়া, কাদামাটি—সাক্ষী তার দিন,   কেউ বুঝেনি ভিতর ভাঙা, নীরব কষ্টের ঋণ।   হঠাৎ একদিন—scene পুরো change!   ২৪ ঘণ্টায় life গেলো range!   ৫ হাজার থেকে লাখে লাখে follow,   ৭ লাখ ৫৫ হাজার—সবাই বলে hello!   ডলার ঢুকে একদিনে—১১৮১ plus,   মনিটাইজেশন on—life turned to success!   স্টার, ভিউ, reach—সব একসাথে boom,   তাজুর জীবন overnight—lig...

মানুষের সংজ্ঞা (দার্শনিক কবিতা) | S F Selim Ahmmed

 মানুষের সংজ্ঞা কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ। তারিখ: ২ এপ্রিল ২০২৬ ইং। অমানুষ—   একটি পরিচয় নয়,   একটি প্রক্রিয়ার বিকৃতি,   যেখানে মানুষ নিজেরই বিবেককে অস্বীকার করে।   মানুষ—   একটি স্থির সত্তা নয়,   বরং প্রতিনিয়ত ভাঙা-গড়ার   অসীম অনুশীলন।   মানবতা—   কোনো উপহার নয়,   এটি সেই নৈতিক সিদ্ধান্ত,   যা বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে চায়।   বিবেক—   কেবল একটি ধারণা নয়,   এটি সেই নীরব অভ্যন্তরীণ কণ্ঠ,   যে প্রশ্ন তোলে,   কিন্তু উত্তর চাপিয়ে দেয় না।   সমাজ—   একটি নিরপেক্ষ কাঠামো নয়,   এটি সম্মিলিত আচরণের   জটিল প্রতিধ্বনি,   যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি নিজেরই ছায়া খুঁজে পায়।   পরিবর্তন—   কোনো গন্তব্য নয়,   এটি সেই মুহূর্ত,   যেখানে মানুষ নিজের সীমা ভেঙে নিজেকে নতুন করে চিনতে শুরু করে।

ফিরে না আসা বিকেল | একটি না ফেরা অপেক্ষার গল্প

 “ফিরে না আসা বিকেল”   (একটি না ফেরা অপেক্ষার গল্প)   এস এফ সেলিম আহম্মেদ । ঢাকা শহর কখনো থামে না—   রাস্তাগুলো মানুষের ভিড়ে প্রতিদিন নতুন গল্প লেখে।   কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও একটি কফি শপ আছে,   যেখানে সময় যেন একটু ধীরে হাঁটে। প্রতিদিন বিকেল ঠিক পাঁচটায়   একজন মানুষ এসে বসে জানালার পাশের একই টেবিলে।   ওয়েটাররা তাকে চিনে গেছে বহুদিন—   কেউ আর জিজ্ঞেস করে না, “আপনি একা?”   তবুও নিয়ম করে অর্ডার আসে—   দুটি কফি। একটা তার সামনে,   আরেকটা ঠিক বিপরীতে—   যেখানে কেউ বসে না। মানুষটার নাম এস এফ।   চোখে অদ্ভুত এক শান্তি,   যেন অপেক্ষারও একটা অভ্যাস হয়ে গেছে তার। কখনো সে হালকা করে হাসে,   কখনো ফিসফিস করে কিছু বলে—   যেন সামনে কেউ বসে শুনছে। কিন্তু কেউ থাকে না। ২০১৬ সালের এক বিকেল—   ঠিক এই টেবিলেই প্রথম দেখা।   শর্মিলা এসেছিল একটু দেরি করে,   চোখে লাজুক হাসি আর কণ্ঠে নরম শব্দ। “সরি, ট্রাফিকে আটকে গেছিলাম...