বাঁশির ভেতর শর্মিলা | আবেগঘন প্রেমের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 “বাঁশির ভেতর শর্মিলা”

কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।

তারিখ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং।


বৈশাখী মেলার সেই ভিড়, সেই ধুলো মাখা বিকেল,

হাসির ভেতর লুকানো ছিল অচেনা এক অনুভবের খেলা।

তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে হঠাৎ—নীরব, তবু অদ্ভুত আপন,

হাতে তুলে দিলে এক বাঁশের বাঁশি,

যেন প্রেম নয়—এক অসমাপ্ত সময়ের শপথ।


তুমি বলেছিলে,

“এই বাঁশিতে বাজবে তোমার জীবন।”


আমি সেদিন বুঝিনি—

জীবন মানে সবসময় গান নয়,

কখনো কখনো তা নিঃশব্দ কান্নার প্রস্তুতি।


সেই বাঁশি আমি নিয়ে ফিরেছিলাম,

বুকে রেখে ছিলাম স্বপ্নের মতো যত্নে,

মনে হয়েছিল—

এটা শুধু বাঁশি নয়,

এটা তোমার স্পর্শের স্থায়ী ঠিকানা।


তারপর দিন গেছে… বছর গেছে…

বৈশাখ এসেছে, আবার হারিয়ে গেছে,

নদীর জল বদলেছে, মানুষের মুখ বদলেছে,

শুধু বদলায়নি সেই বাঁশির নীরবতা।


এগারো বছর পরে আজও সে আছে আমার কাছে,

কিন্তু সে আর গান গায় না—

সে শুধু স্মৃতি হয়ে নিঃশ্বাস ফেলে।


আমি যখন ঠোঁটে রাখি,

তখন সুর ওঠে ঠিকই…

কিন্তু সে সুরে আনন্দ নেই,

সে সুরে আছে ভাঙা সময়ের দীর্ঘশ্বাস,

আছে না বলা কথার রক্তক্ষরণ।


শর্মিলা,

তুমি কি কখনো এই সুর শুনেছ?

না, তুমি শোনোনি—

কারণ তুমি তখন অন্য কারও হাসিতে ব্যস্ত ছিলে,

আর আমি তখন থেকেই ভেতরে ভেতরে হারাতে শুরু করেছিলাম।


এই বাঁশির প্রতিটি সুর এখন

একটা অসমাপ্ত গল্পের মতো,

যেখানে শুরু আছে,

কিন্তু শেষটা কোথাও লেখা হয়নি।


রাত গভীর হলে,

বাঁশিটা নিজেই যেন কাঁদে,

তার ভেতর থেকে বের হয় অচেনা হাহাকার—

যেন কোনো পুরোনো প্রেম

নিজের অস্তিত্ব খুঁজে ফিরছে অন্ধকারে।


আমি তখন বুঝি—

কিছু উপহার মানুষকে আনন্দ দেয় না,

কিছু উপহার শুধু মানুষকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয় ধীরে ধীরে।


শর্মিলা,

তোমার দেওয়া এই বাঁশি আজ আমাকে শিখিয়েছে—

প্রেম মানে পাওয়া নয়,

প্রেম মানে হারিয়ে যাওয়ার পরও

কাউকে নিজের ভেতরে বাঁচিয়ে রাখা।


আর সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা হলো—

মানুষ চলে যায়,

কিন্তু কিছু সুর থেকে যায়…

আজীবন বাজতে থাকা নীরব কান্না হয়ে।


এই বাঁশির ভেতর এখন তুমি আছো,

আর আমি আছি—

এক অশেষ অপেক্ষার ভেতর হারিয়ে যাওয়া মানুষ হয়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

নীল আকাশের প্রান্তে | প্রেমময় আধুনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ