মনের শিকল | সাহস, স্বাধীনতা ও আত্মজাগরণের কবিতা
কবিতার নাম: মনের শিকল
লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ
গোলাম যদি একদিন
নিজের শিকলকেই অলংকার ভেবে নেয়,
তবে তাকে মুক্ত করার মতো শক্তি
পৃথিবীর কোথাও জন্মায় না।
কারণ শিকল সবসময় চোখে দেখা যায় না—
কিছু শিকল লোহার,
আর কিছু শিকল অদৃশ্য,
নরম,
নীরব…
তবু পাহাড়ের থেকেও ভারী।
সেগুলো বাঁধা থাকে মানুষের চিন্তায়,
অভ্যাসে,
ভয়ে,
নীরবতায়।
ধীরে ধীরে মানুষ মানিয়ে নিতে শেখে—
অন্যায়কে বলে “এটাই তো নিয়ম”,
অপমানকে ভাবে “ভাগ্য”,
আর ভয়কে বানিয়ে ফেলে
নিজের নিরাপদ আশ্রয়।
তারপর একদিন
সে আর আকাশের দিকে তাকায় না।
স্বপ্ন দেখাও বন্ধ করে দেয়।
যে মানুষ নিজের অধিকার ভুলে যায়,
সে আসলে শুধু হারায় না তার স্বাধীনতা—
হারায় তার আত্মা,
তার ভেতরের আলো,
তার ‘না’ বলার ক্ষমতা।
মনে রেখো,
মুক্তি কখনো দান নয়।
মুক্তি কোনো পুরস্কার নয়
যা কেউ এসে তোমার হাতে তুলে দেবে।
মুক্তি জন্ম নেয় ভেতরের অস্বস্তি থেকে,
এক অদ্ভুত অস্থিরতা থেকে,
হৃদয়ের গভীর অন্ধকারে জ্বলে ওঠা
এক ফোঁটা আলোর মতো প্রশ্ন থেকে—
“আমি কি সত্যিই এভাবেই বাঁচতে চাই?
নাকি আমি জন্মেছি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য?”
যেদিন এই প্রশ্ন
তোমার ঘুম ভাঙিয়ে দেবে,
যেদিন আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে
নিজেকেই আর মিথ্যে বলতে পারবে না,
সেদিনই শুরু হবে পরিবর্তন।
সেদিন তোমার কণ্ঠ কাঁপবে,
তবু তুমি বলবে—
“অন্যায় মানি না।”
সেদিন তোমার হাঁটু কাঁপবে,
তবু তুমি দাঁড়াবে।
কারণ সাহস মানে ভয় না থাকা নয়—
সাহস মানে ভয়ের মাঝেও
এক পা সামনে ফেলা।
ইতিহাস সাক্ষী,
প্রতিটি স্বাধীনতার শুরু
কোনো অস্ত্র দিয়ে নয়,
একটি জাগ্রত মন দিয়ে।
যেদিন মানুষ শিখবে
নীরবতা কখনো নিরপেক্ষ নয়,
যেদিন মাথা নত করাকে লজ্জা মনে হবে,
যেদিন শিকলকে শিকল বলার সততা জন্মাবে—
সেদিনই ভোর হবে।
মনে রেখো,
শিকল হাতের শক্তিতে ভাঙে না,
ভাঙে সিদ্ধান্তে।
ভাঙে আত্মমর্যাদায়।
ভাঙে সেই আগুনে,
যা বলে—
“আমি মানুষ, আমি মাথা নত করবো না।”
একজন মানুষ জেগে উঠলে
একটি পরিবার বদলায়,
একটি পরিবার জেগে উঠলে
একটি সমাজ,
আর সমাজ জেগে উঠলে
ইতিহাস নতুন পথ খুঁজে পায়।
তাই অপেক্ষা করো না
কেউ এসে তোমাকে মুক্ত করবে বলে।
নিজের ভেতরের দরজায়
নিজেকেই কড়া নাড়তে হবে।
কারণ আসল স্বাধীনতা
বাইরে নয়—
তার জন্ম ভেতরে।
আর যে মানুষ
মনের শিকল ভাঙতে পারে,
তার পথ রোধ করার মতো
কোনো দেয়াল
এই পৃথিবীতে নেই।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন