মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ

 মাতৃ ভাষা  

— এস এফ সেলিম আহম্মেদ  


একুশের ভোর মানেই—  

কুয়াশার ভেতর লাল এক সূর্য উঠে দাঁড়ায়।  

রক্তে ভেজা ইতিহাস  

আবারও দরজায় কড়া নাড়ে—  

বলতে চায়,  

“ভুলে যেও না…”  


আমি যখন “মা” বলি—  

এই শব্দ কি শুধু উচ্চারণ?  

না, এ তো বুকের গভীর থেকে উঠে আসা  

অস্তিত্বের প্রথম স্পন্দন।  

এই শব্দেই ছিল প্রথম কান্না,  

প্রথম হাসি,  

প্রথম পৃথিবী দেখা।  


১৯৫২—  

ঢাকার রাজপথে কাঁপছিল তরুণ বুক,  

গুলির শব্দ ছিঁড়ে দিচ্ছিল আকাশ।  

তবু থামেনি কণ্ঠ—  

“রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই!”  

এই উচ্চারণ ছিল বিদ্রোহ,  

এই উচ্চারণ ছিল ভালোবাসা,  

এই উচ্চারণ ছিল আত্মমর্যাদার আগুন।  


সালাম!  

বরকত!  

রফিক!  

জব্বার!  

তোমাদের নাম নিলেই  

আমার ভেতর কেঁপে ওঠে এক সমুদ্র।  

তোমাদের রক্ত শুকিয়ে গেছে রাজপথে,  

কিন্তু লাল হয়ে আছে আমার প্রতিটি বর্ণ।  


মাতৃভাষা মানে—  

শুধু ব্যাকরণ নয়,  

শুধু শব্দের সাজ নয়—  

এ এক জাতির আত্মা।  

যে ভাষায় মানুষ ভালোবাসে,  

যে ভাষায় প্রতিবাদ করে,  

যে ভাষায় সন্তান মায়ের কাঁধে মাথা রাখে।  


আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।  

বিশ্ব যখন ভাষার বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলে,  

আমি তখন শুনি  

ঢাকার সেই রক্তাক্ত বিকেলের প্রতিধ্বনি।  

শুনতে পাই—  

একটি জাতি মাথা নত করেনি।  


ডিজিটাল পর্দায় ঝলসে ওঠা অক্ষরগুলোর মাঝে  

যদি কখনো হারিয়ে যেতে চায় আমার বাংলা,  

আমি আবার একুশের কাছে ফিরে যাব।  

আমি আবার রক্তের গন্ধ শুঁকব,  

আবার শুনব মায়ের ডাকে  

আমার শিকড়ের শব্দ।  


মাতৃ ভাষা—  

তুমি আমার শিরায় প্রবাহিত নদী,  

তুমি আমার হৃদস্পন্দনের ছন্দ,  

তুমি আমার পতাকার লাল অংশের দীপ্তি।  


যতদিন পৃথিবীতে অন্যায় থাকবে,  

ততদিন একুশ জাগ্রত থাকবে।  

যতদিন সন্তানের মুখে “মা” উচ্চারিত হবে,  

ততদিন বাংলা বেঁচে থাকবে।  


আজ আমি ফুল দিই না শুধু—  

আমি শপথ নিই।  

আমার কলমে,  

আমার কণ্ঠে,  

আমার সন্তানের স্বপ্নে—  

বাংলা থাকবে।  


কারণ—  

মাতৃভাষা মানে জীবন।  

মাতৃভাষা মানে স্বাধীনতা।  

মাতৃভাষা মানে—  

আমার সমগ্র অস্তিত্বের আর্তনাদ ও অহংকার।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা