অক্ষরের আকাশগাঁথা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ
অক্ষরের আকাশগাঁথা
এস এফ সেলিম আহম্মেদ
অ আ ক খ—আদি অনন্তের ডাক,
অন্ধকার ভেঙে জ্বলে আলোর ফাঁক।
শূন্যের বুকে শব্দের শিখা,
অক্ষরে জাগে অস্তিত্ব-দীক্ষা।
অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ—
স্বরের সাগরে সুরের নৌ।
হ্রস্ব দীর্ঘ প্রাণের টান,
নিঃশ্বাস জুড়ে মহাগান।
ঋ-তে ঋষির ঋতুচক্র,
ঐ-তে ঐক্য বিশ্বমন্ত্র।
ও-তে ওমের অনুরণন,
ঔ-তে ঔজ্জ্বল্য চিরজাগরণ।
ক খ গ ঘ ঙ—কালের কাব্য,
খোলা আকাশে খুঁজে স্বরাভ্য।
গভীর গানে গোপন রাগ,
ঘূর্ণি ভেঙে জেগে ওঠে ভাগ।
ঙ-এর নীরব নীল উচ্চার,
অন্তঃস্বরের গোপন দ্বার।
চ ছ জ ঝ ঞ—চেতনার চূড়া,
ছায়ায় লেখা জীবনের সুরা।
জাগে জিজ্ঞাসা ঝলক-ঝরে,
জ্ঞানের ঢেউ অন্তরে ভরে।
ঞ-এর কোলে নীরব ধ্যান,
অদৃশ্য তবু গভীর জ্ঞান।
ট ঠ ড ঢ ণ—মাটির মান,
ঠাঁই দাঁড়ায় ঐতিহ্য প্রাণ।
ডুবেও ডাকে দৃঢ় ঢাল,
ঢেউ পেরিয়ে স্থির কাল।
ণ-এর বাঁকে স্মৃতির রেখা,
অন্তর-মাটির গোপন দেখা।
ত থ দ ধ ন—তরঙ্গ তীব্র,
থেমে না থাকে সময় শিব্র।
দহনে দগ্ধ ধৈর্য দীপ,
ধ্বংস পেরিয়ে জাগে স্নিগ্ধ নীপ।
নতুন নক্ষত্র নীরব রাতে,
নব স্বপ্ন নক্ষত্রপাতে।
প ফ ব ভ ম—প্রেমের পাল,
ফুটে ওঠে ভাষার জ্যোতিষ্ক জাল।
বেদনার বাঁশি ভোরের ভান,
ভাসে ভুবনে মানব গান।
মা’র মমতা মূলের মতো,
মহাকালের মৃদু যত্ন।
য র ল শ ষ স হ—যাপনের যাত্রা,
রক্তে লেখা রৌদ্র-মন্ত্রা।
লহরিতে লাগে লাবণ্য-ছোঁয়া,
শব্দে শুদ্ধির শাশ্বত বয়া।
ষ-এ কঠিন শৃঙ্খলার ডাক,
স-এ সরলতার স্বচ্ছ ফাঁক।
হ-এ হাহাকার, হাসির হিল্লোল,
হৃদয় জুড়ে মহাকোলাহল।
ড় ঢ় য়—বাঁকেরই বল,
ঝড়ে নত নয় অবিচল চল।
ক্ষ ত্র জ্ঞ—যুক্তির জাল,
ক্ষয় পেরিয়ে অক্ষয় কাল।
ত্র-তে ত্রাণ ত্রিকাল ধ্বনি,
জ্ঞ-তে জ্ঞানের দীপ্ত বাণী।
ং ঃ ঁ—নীরব চিহ্ন,
তবু তাদের গভীর গহীন।
অনুস্বরে অনন্ত ঢেউ,
বিসর্গে নিঃশ্বাস বয়ে যায় নৌ।
চন্দ্রবিন্দু চেতনা-চূড়া,
অদৃশ্য শক্তি জাগে সুরা।
বাংলা বর্ণমালা—ব্রহ্ম-সেতু,
অক্ষরে বাঁধা মহাজগত্তু।
প্রতিটি ধ্বনি নক্ষত্র-রেখা,
অন্ধকারে আলোর দেখা।
আমি যখন লিখি রাতের শেষে,
অক্ষর নামে নীরব দেশে।
তখন বুঝি—ভাষাই মুক্তি,
অক্ষর মানে আত্মশক্তি।
অ আ ক খ—আদি স্পন্দন,
সব বর্ণে বিশ্ব-চন্দন।
শব্দের ভিতর নিজেকে ধরি,
বর্ণেই পাই চিরন্তন স্মৃতি-নরি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন