মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় অপ্রাসঙ্গিক কেন? শহীদ সংখ্যা ও বাস্তবতার নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ
### মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সংখ্যা ৩০ লক্ষ নয় — বাস্তবতা, দ্বিচারিতা ও মন্ত্রণালয়ের প্রাসঙ্গিকতা,
মুক্তিযুদ্ধের শহীদ সংখ্যা ৩০ লক্ষ নয়। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও এই সংখ্যাটিকে ঘিরে বিভ্রান্তি, রাজনৈতিক ব্যবহার ও ঐতিহাসিক অস্পষ্টতা থেকে গেছে। অথচ রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ হিসাব তৈরি করা। কিন্তু আজও তা হয়নি।
#### গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বনাম শহীদ সংখ্যা,
বাংলাদেশে গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বর্তমানে **২৫৬,৪৭৬ জন**। এর মধ্যে জীবিত আছেন প্রায় **৯১,৯৯৮ জন**। অথচ শহীদ সংখ্যা হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচারিত হয় **৩০ লক্ষ**। এই বিশাল ব্যবধান প্রশ্ন তোলে—যদি এত বড় সংখ্যক শহীদ থাকে, তবে কেন তাদের তালিকা বা সঠিক রেকর্ড রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হয়নি?
#### ভাতা প্রাপকের বৈসাদৃশ্য
সরকারি হিসেবে ভাতা পাচ্ছেন প্রায় **২,০৮,০৫০ জন**, যার মধ্যে শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনারাও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু মোট গেজেটভুক্ত নামের সাথে এই ভাতা প্রাপকের সংখ্যা মেলে না। এর ফলে জনগণের মনে জন্ম নেয় **দ্বিচারিতা ও অনাস্থা**। অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়েছেন, আবার অভিযোগ আছে—অযোগ্য ব্যক্তিরাও তালিকায় ঢুকে পড়েছেন।
### মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা: অপ্রাসঙ্গিক নাকি সংস্কারযোগ্য?
অনেকে বলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। কারণ:
- ৫৪ বছরেও সঠিক শহীদ সংখ্যা প্রকাশ করতে ব্যর্থ।
- বারবার তালিকা পরিবর্তন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে জনগণের আস্থা হারিয়েছে।
- আর্থিক অপচয় ও ভাতার বণ্টনে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয়ের একেবারে প্রয়োজন নেই তা বলা যাবে না। বরং এর কাঠামো ও কার্যক্রমে **গভীর সংস্কার, স্বচ্ছতা এবং নতুন যাচাই কমিশন** গঠন করা জরুরি।
#### উপসংহার
স্বাধীনতার স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে হলে, মন্ত্রণালয়ের কাজ হতে হবে একেবারে স্বচ্ছ, পক্ষপাতহীন ও নির্ভরযোগ্য। মুক্তিযোদ্ধার শহীদ সংখ্যা ৩০ লক্ষ নয়—এটা আজ স্পষ্ট। সুতরাং আমাদের করণীয় হচ্ছে বিভ্রান্তিকর সংখ্যা নয়, বরং বর্তমান সময়ে এর সঠিক হিসাব নির্ভরযোগ্য ভাবে তৈরি করতে।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন