১৮ টি বুলেটের পরে | অধ্যায় ৬ : সত্যের শত্রুরা

 ১৮ টি বুলেটের পরে  

(অধ্যায় ৬ : সত্যের শত্রুরা)

- এস এফ সেলিম আহম্মেদ 


মূল অংশ:


সত্য কখনো একা আসে না।

সত্যের সাথে আসে ভয়,

আর ভয়ের সাথে আসে শত্রু।


রাশেদ যখন প্রথম লেখাটা শেষ করল,

সে বুঝতে পারেনি—

এই লেখাটা আসলে তার নিজের মৃত্যুর খসড়া কিনা।


সে কোনো নাম লেখেনি।

কোনো তারিখ লেখেনি।

কোনো দলের নামও না।

সে শুধু ঘটনাগুলো লিখেছিল।

যেমন ঘটে।

যেমন কেউ কখনো লিখতে সাহস করে না।


রাষ্ট্রের সমস্যা এখানেই।

রাষ্ট্র মিথ্যা সামলাতে জানে,

কিন্তু সত্য সামলাতে জানে না।


কারণ সত্যে ব্যাখ্যা লাগে,

আর ব্যাখ্যা মানেই প্রশ্ন।


রাশেদের লেখাটা হাতে হাতে ঘুরতে শুরু করল।

বন্ধুর ফোনে।

একজন সাংবাদিকের কাছে।

একজন আইনজীবীর ড্রয়ারে।


লেখাটা ছড়ানোর সাথে সাথে

ভয়ও ছড়াতে শুরু করল।


এক রাতে শহীদের বাসার সামনে

অপরিচিত দুজন মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল।

কিছু বলেনি।

শুধু বলেছিল—

“ভাই, বেশি জানলে ঘুম কমে।”


এই বাক্যটাই ছিল হুমকি।

রাষ্ট্র খুব ভদ্রভাবে হুমকি দিতে জানে।


শহীদ সেই রাতেই বুঝেছিল—

এখন আর পেছন ফেরার জায়গা নেই।


নুরুর মায়ের কাছে একদিন একজন এসেছিল।

ভদ্র মানুষ।

ভালো কথা।

শেষে বলেছিল—

“মা, পুরোনো কথা মনে রাখলে বুক ভারী হয়।”


মা তখন ধীরে উত্তর দিয়েছিলেন—

“বুক ভারী না হলে মানুষ হালকা হয়ে যায়।”


এই কথাটা রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক।

কারণ এতে ভয় নেই।


রাষ্ট্র ভয় চায়।

ভীত মানুষ চায়।

ভুলে যাওয়া মানুষ চায়।


কিন্তু এই গল্পে কিছু মানুষ ভুলে যায়নি।

এইটাই ছিল রাষ্ট্রের ভুল হিসাব।


রাশেদ এক রাতে নিখোঁজ হয়।

কোনো লাশ পাওয়া যায় না।

কোনো মামলা হয় না।

খবরও খুব ছোট।


ঠিক যেমন হওয়া উচিত।


শহীদ তখন বুঝে যায়—

এখন সাক্ষ্য শুধু কথায় নেই,

সাক্ষ্য এখন শরীরে।


আর এই অধ্যায় এখানেই থামে,

কারণ সত্যের শত্রুরা

এখন আর ছায়ায় নেই।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ