বিশ্বাসের আগুন : যে ভাবনা পোড়ে না

 

বিশ্বাসের আগুন

লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ


বিশ্বাস বইয়ে থাকে না,
বিশ্বাস থাকে শিরার ভেতর,
চেতনায় গেঁথে থাকে অদৃশ্য অক্ষরে—
যে অক্ষর আগুনে পোড়ে না,
যে শব্দ ধোঁয়া হয়ে উড়ে যায় না।

বই তো কেবল কাগজের শরীর,
ভাবনাগুলো তার আত্মা।
শরীর পুড়লে আত্মা কি মরে?
না—
আত্মা মানুষের ভেতর আশ্রয় নেয়,
মানুষ থেকে মানুষে
নীরবে যাত্রা করে।

তুমি বই পুড়াও,
তোমার ভয়কে আগুন দাও—
কিন্তু ভয় জানে না
বিশ্বাস কোথায় লুকিয়ে থাকে।
বিশ্বাস লুকিয়ে থাকে
মায়ের দোয়ায়,
শিশুর প্রশ্নে,
নির্যাতিত মানুষের নীরব চোখে।

বিষাক্ত চিন্তা যদি জন্মায়,
তা কাগজে জন্মায় না—
তা জন্মায় চেতনায়।
আর যদি তার নির্যাস শুকাতে না দাও,
তবে হাজার বই পুড়িয়েও
একটি ভাবনাকেও হত্যা করা যাবে না।

আগুন বড়জোর
পাতার রং বদলাতে পারে,
কালোকে ছাই করতে পারে—
কিন্তু যুক্তিকে নয়,
বিশ্বাসকে নয়।

আমরা শত্রুর চিন্তাকেও
সহজে বিষ বলি না।
কারণ যারা যুক্তিকে ভয় পায়,
তারাই আগুন হাতে তোলে।
আমরা আগুন তুলি না,
আমরা প্রশ্ন তুলি,
যুক্তি তুলি,
বিশ্বাস তুলে ধরি।

শত্রুর ভাবনাকে
আমরা শুনতে চাই,
কারণ শুনেই তো খণ্ডন হয়।
অন্ধ ঘৃণা নয়,
দৃঢ় বিশ্বাসই
আমাদের প্রতিরোধ।

ভিন্ন মতামত বিষাক্ত হতে পারে,
কিন্তু প্রতিষেধকও তো আছে।
সে প্রতিষেধক
কোনো ল্যাবরেটরিতে বানানো নয়—
তা নেমে এসেছে আসমান থেকে,
নেমে এসেছে আল্লাহর নূর হয়ে।

যে বিশ্বাস অন্যায়ের সামনে মাথা নত করে না,
যে বিশ্বাস যুক্তির সাথে হাঁটে,
যে বিশ্বাস মানুষের বিবেককে জাগায়—
সেই বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় আগুন,
কিন্তু সে আগুন পোড়ায় না,
আলো দেয়।

আমরা বই বাঁচাতে চাই না,
আমরা মানুষকে বাঁচাতে চাই।
কারণ মানুষ বাঁচলে
ভাবনাও বাঁচে,
বিশ্বাসও বাঁচে।

যেদিন আগুনের ভাষা হারাবে শক্তি,
সেদিন যুক্তির কণ্ঠস্বর হবে আরও উঁচু।
সেদিন বোঝা যাবে—
বিশ্বাস কখনো পোড়ে না,
বিশ্বাস শুধু ছড়িয়ে পড়ে
মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে।


© এস এফ সেলিম আহম্মেদ

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ