দেশপ্রেমিক রাজাকারদের ভূমিধস বিজয়। ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ ইং।

 # ডাকসু নির্বাচন ২০২৫: ছাত্ররাজনীতির পালাবদল ও জাতীয় ইঙ্গিত।।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে।  

২০২৫ সালের নির্বাচন এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কারণ এই নির্বাচনে ছাত্ররাজনীতির পুরনো সমীকরণ ভেঙে গিয়ে গড়ে উঠেছে এক নতুন চিত্র।


## ফলাফলের চিত্র

- **ভিপি পদে বিজয়ী:** মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) – ১৪,০৪২ ভোট  

- **জিএস পদে বিজয়ী:** এস এম ফরহাদ – ১০,৭৯৪ ভোট  

- সম্পাদকীয় ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় পদের বেশিরভাগেই শিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের জয়  


ছাত্রদল এই নির্বাচনে কার্যত ভরাডুবির শিকার হয়েছে। তারা বহু প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামলেও ফলাফল তাদের জন্য ছিল একেবারেই হতাশাজনক। 


## ছাত্রদলের অভিযোগ: সান্তনার অজুহাত?

ফলাফল ঘোষণার পর ছাত্রদল ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলে।  

তাদের দাবি ছিল—কিছু হলে অনিয়ম হয়েছে, প্রভাব খাটানো হয়েছে।  


কিন্তু বাস্তবতা হলো—  

- ক্যাম্পাসে ভোটগ্রহণ ছিল উৎসবমুখর, ব্যাপক অংশগ্রহণে সম্পন্ন।  

- প্রশাসনিক ও শিক্ষার্থী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচন ছিল তুলনামূলক স্বচ্ছ।  

- ছাত্রদলের অভিযোগকে অধিকাংশ শিক্ষার্থী "সান্তনার অজুহাত" হিসেবেই দেখছে।  


জনগণ ও শিক্ষার্থীদের কাছে ছাত্রদলের এই দাবি বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বরং তারা দেখেছে ছাত্রদল সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভেতরের বিভক্তির কারণে পরাজিত হয়েছে।


## শিবিরের জয়ের কারণ

1. **সংগঠনী পুনরুত্থান** — দীর্ঘদিন পরে শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসে মাঠে নেমেছিল।  

2. **ভোটার আস্থা অর্জন** — শিক্ষার্থীরা প্রচলিত নেতৃত্বে আস্থা হারিয়ে নতুন বিকল্পকে বেছে নিয়েছে।  

3. **একক শক্তি** — বিরোধীদের বিভক্তির সুযোগ নিয়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থেকে বিজয় নিশ্চিত করেছে।


## জাতীয় রাজনীতির ইঙ্গিত

ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ কেবল ক্যাম্পাসের প্রতিযোগিতা নয়।  

এটি দেখিয়েছে—তরুণরা পরিবর্তন চাইছে এবং সেই পরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলিত হতে পারে।  


**যুবশক্তি এখন রাজনীতির কেন্দ্রে**  

**প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হবে**  

**শিবিরের এই জয় জাতীয় পর্যায়েও আলোচনার ঝড় তুলেছে** 


## ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা

এই জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা কেবল সাংগঠনিকভাবে নয়, বরং নীতিগতভাবেও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।  

তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা, দৃঢ় মনোবল এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের জন্য তারা অবশ্যই অভিনন্দন ও ধন্যবাদ প্রাপ্য।  


**শুভেচ্ছা রইল (দেশপ্রেমিক রাজাকারদের) শিবির প্যানেলকে — তাদের এই বিজয় আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।**


✍️ কলমে: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ