"সামাজিক মাধ্যমে নৈতিক অবক্ষয় ও সময় অপচয়"
আজকের ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই সুবিধার সঙ্গে এক অদৃশ্য বিপদও আসে—মানুষের নৈতিক অবক্ষয় এবং সময় অপচয়। উদাহরণস্বরূপ, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম সহ অন্যান্য জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোতে আমরা প্রায় একই ধরনের সমস্যা দেখতে পাই।
কেউ কেউ কনটেন্টের নামে মানুষের সঙ্গে তামাশা করছে। আমি কয়েকদিন আগে এমনই একটি শিক্ষামূলক ভিডিও ইউটিউবে দেখেছিলাম। বিষয়টি ছিল “কেওয়ার্ড কিভাবে YouTube-এ সেটিং করা যায়”, এবং ভিডিওটি মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে এটি প্রায় 27 মিনিট পর্যন্ত চলে। এই ধরনের ভিডিও আমাদের মূল্যবান সময় খেয়ে নিচ্ছে।
টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউবে এমন কনটেন্ট প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে যা শিক্ষামূলক নয়। অশ্লীল ভাষা এবং অশ্লীল দেহভঙ্গি পুরো সমাজকে প্রভাবিত করছে, বিশেষ করে যুবসমাজের উপর। এ ধরনের আসক্তি মানসিক ও নৈতিক দিক থেকে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আমার মতে, এরকম কনটেন্ট থেকে মানুষকে বের করে আনার একমাত্র পথ হলো সচেতনতা। আমাদের নিজস্ব সময় ব্যবস্থাপনা, সঠিক কনটেন্ট বাছাই এবং শিক্ষামূলক কনটেন্টের প্রচার নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও, যুবসমাজকে বোঝাতে হবে—অসামাজিক এবং সময় অপচয়কারী কনটেন্ট থেকে সরে আসা কতটা জরুরি।
সমাজকে সুস্থ ও নৈতিকভাবে সচেতন রাখতে আমাদের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। শুধুমাত্র নিজের কনটেন্ট বাছাই করা নয়, অন্যদেরকেও এ সম্পর্কে সচেতন করা আমাদের কর্তব্য। সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নিয়মিত সচেতনতা ছাড়া আমরা ডিজিটাল দুনিয়ার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারব না।
✍️ এস এফ সেলিম আহম্মেদ।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন