দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৫ | পূর্ণিমার রাত ও চূড়ান্ত পরীক্ষা

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ৫

লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।


পূর্ণিমার রাত। চরাঞ্চলের আকাশে চাঁদ পূর্ণ, তার আলো নদীর পানিতে ঝলমল করছে। নদী এখনও উত্তাল, ঢেউয়ের শব্দ ঘিরে রাখছে গ্রাম ও চর। শর্মিলা ও এস এফ হাত ধরে নদীর ধারে হাঁটছে, বাতাস ভিজে গেছে, কিন্তু তাদের চোখে ভয় নেই—শুধু একে অপরের প্রতি দৃঢ় আস্থা।


শর্মিলা ধীরে বলল, “এস এফ, যদি নদী আরও ক্ষয় করে, আমরা কি পারবো?”


এস এফ চুপচাপ তার চোখে চোখ রাখল। “যদি আমরা একসাথে থাকি, নদী, ঝড়, দূরত্ব—কিছুই আমাদের ভাগ করতে পারবে না।”


শর্মিলা তার হাত আরও দৃঢ় করে ধরে নিল। তার মনে হলো—এই হাত ধরে প্রতিটি ঝড়, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ, তারা একসাথে জয় করবে।


নদীর চর ভেঙে যাচ্ছে—কাদা উঁচু হয়ে উঠছে, ভাঙা ঘর ও নদীর ঢেউ। গ্রামের মানুষ আতঙ্কিত। কেউ ঘর সংরক্ষণে, কেউ নৌকায় চেষ্টা করছে। শর্মিলা ও এস এফও সাহায্যে এগোচ্ছে।


এস এফ চিঠি নিয়ে আসে, যা সে আগে লিখেছিল। চিঠির প্রতিটি শব্দ শর্মিলার মনে ফিরছে—কতদিন অপেক্ষা, কত দূরত্ব, কত অনিশ্চয়তা। তারা একে অপরকে তাকিয়ে থাকে, কোনো কথা বলা লাগে না।


“চিঠি আর প্রয়োজন নেই,” শর্মিলা মৃদু বলল। “তুমি এখন এখানে।”


বাতাসে আরও শক্তি এসেছে। নদী ফুঁসে উঠেছে। শর্মিলা ও এস এফকে সাঁতার কাটতে হতে পারে। কিন্তু তারা জানে—একসাথে, সাহসী হলে কিছুই অসম্ভব নয়।


নৌকায় উঠে নদী পার হওয়া শুরু হলো। ঢেউ তাদের দুলাচ্ছে, বাতাস তাদের চামড়ায় ছুঁয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্তে ভয় ও উত্তেজনার মিশ্রণ। শর্মিলা এক মিনিটও হাত ছাড়ে না। এস এফও তার দিকে চেয়ে বলছে—“আমরা মাঝি, এবং আমরা পার হব।”


ঢেউ যতই উঁচু হোক, তারা একে অপরকে ধরে রাখছে। নৌকা দুলছে, পানি ভাঙছে, চর ভাঙছে—কিন্তু দুজনের বন্ধন অটুট।


পানি শান্ত হতে শুরু করে। নৌকা নিরাপদে চরান্তরে পৌঁছায়। তারা দাঁড়িয়ে একে অপরের দিকে তাকায়। চাঁদের আলো দুই জনের চোখে পড়ে—প্রতিফলন মৃদু, শান্ত, কিন্তু দৃঢ়।


শর্মিলা ধীরে বলল, “এই পথে আমরা দুজন একসাথে। দূরত্ব আর কোনো বাধা নয়।”


এস এফ হেসে বলল, “মাঝি হতে গেলে ঝড়ে নামতেই হয়। আর এবার আমরা দুজন।”


বাইরে নদী এখনো প্রবাহিত। চরাঞ্চল ধীরে ধীরে নতুন আলো পায়। কিছু ঘর ভাঙা, কিছু মানুষ আতঙ্কিত। কিন্তু শর্মিলা ও এস এফ—দূরত্বের মাঝি দুজন—একসাথে।


নদীর ঢেউ বইছে, বাতাসের শব্দ ভেসে যাচ্ছে চারপাশে। ভয়, অনিশ্চয়তা, দূরত্ব, ঝড়—সবই এখন শুধু স্মৃতি।


শর্মিলা ও এস এফ হাত ধরে হাঁটছে, দুজনেই জানে—প্রেম শুধু আবেগ নয়। সাহস, দায়িত্ব, এবং একে অপরের পাশে থাকা—এইই সত্যিকারের মাঝি হওয়া।


শেষ লাইন:

“নদী এখনো উত্তাল। কিন্তু এবার মাঝি দুজন। আর এই পথের মাঝি তারা একসাথে।”

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

দূরত্বের মাঝি - পর্ব ১ | শর্মিলা ও এস এফের প্রেমের কাহিনী