দূরত্বের মাঝি - পর্ব ১ | শর্মিলা ও এস এফের প্রেমের কাহিনী
দূরত্বের মাঝি - পর্ব ১
লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল—এখানে সময় যেন ধীরে যায়। সূর্য উঠলে নদীর ঢেউ কাদা ছুঁয়ে নরম নরম শব্দ তোলে, এবং সন্ধ্যায় সোনালী আলো নদীর পানিতে ঝলমল করে। শর্মিলা, ছোট্ট ঘরটির বারান্দায় দাঁড়িয়ে নদীর দিকে তাকাচ্ছে। তার চোখে এক অদ্ভুত মায়া, আর তার কণ্ঠে নীরবতার চুপচাপ প্রতিফলন। নদীর স্রোত যেন তার মনকে ছুঁয়ে যায়, এবং কাদার পথ, চরাঞ্চলের ঝড়, নদীর ভাঙন—সবকিছুই তাকে শক্তিশালী করে।
মূল ভূখণ্ডে বসে আমি, এস এফ, দূরত্বের ভার অনুভব করছি। মোবাইলের সংকেত মাঝে মাঝে আসে, কখনও আসে না। ইন্টারনেটের ধীর গতির কারণে আমরা একে অপরের সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারি না। তাই চিঠি, আমাদের একমাত্র মাধ্যম। আমি চিঠি হাতে নিয়ে ভাবছি—কীভাবে তার মনকে স্পর্শ করব।
চিঠির শুরুটা সহজ নয়। লিখছি:
“প্রিয় শর্মিলা,
নদী আমাদের আলাদা রেখেছে, কিন্তু আমার মন তোমার সঙ্গে। প্রতিটি ঢেউ, প্রতিটি বাতাসের ছোঁয়ায় তোমার খোঁজ পাই। তুমি হাসছ কি আজ? তোমার চোখে শান্তি আছে কি?”
শর্মিলা চিঠি পেয়েই হাঁটতে বের হয়েছে নদীর চর দিয়ে। কাদার পথে তার পায়ের ছাপ নদীর কাছে মিশে যায়। চারপাশে বুনো গাছের নীরবতা, পাখির কলরব, নদীর ঢেউ—সবকিছু মিলেমিশে এক এক নতুন আবহ তৈরি করছে। সে চিঠি পড়তে পড়তে হেসে, তারপর কাঁদে—মনের ভেতরের দুঃখ এবং আনন্দ একসাথে।
আমি চুপচাপ মন দিয়ে ভাবছি, ‘কেন এত দূরত্ব? কেন এত বাধা?’ নদীর স্রোত আমাদের মাঝে যেন সব সময় একটি ভাঙা দেওয়াল হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও, চিঠি, স্মৃতি, এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে আমরা একে অপরের কাছে পৌঁছাই।
পরের দিন সকালে, শর্মিলা নদীর কূলে বসে চিঠি পড়ছে। তার চোখে আয়নার মতো পানি, এবং বাতাসে নদীর কোলাহল মিশে এক অদ্ভুত সান্ত্বনা দেয়। সে চিঠি পড়ে মনে মনে হাসছে, আর আমি ভাবছি—আমরা দুজনেই এই দূরত্বের মাঝি।
চিঠি লেখার সময় আমি লিখি:
“তুমি যদি আমার পাশে থাকতে, সব কিছু সহজ হতো। কিন্তু মনে রেখো, দূরত্ব বড় বাধা নয়। নদী শুধু আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছে, আমাদের প্রেমকে শক্তিশালী করছে।”
শর্মিলা চিঠি শেষ করে বলে—“এস এফ, তুমি সবসময় আমার কাছে থাকো। শুধু নদী আমাদের ভাগ করেছে।” তার কণ্ঠে স্বাভাবিক হাহাকার, কিন্তু চোখে দৃঢ়তা। আমি বুঝি—দূরত্ব বড় হতে পারে, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস এবং ভালোবাসা চিরস্থায়ী।
দিন যায়, নদী নীরব থাকে, চরাঞ্চলের বাতাসে ঝড় ওঠে। শর্মিলা তার ছোট্ট ঘর থেকে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে, আর আমি মূল ভূখণ্ডে বসে চিঠি লিখি। প্রতিটি বাক্যে আমার ভালোবাসা মিশে থাকে। প্রতিটি ঢেউ আমাদের পরীক্ষা নেয়, কিন্তু আমরা জানি—আমরা দুজনেই শক্তিশালী।
পর্ব ১ শেষ হয়, নদীর নীরবতা এবং চিঠির মধ্যে আমাদের প্রেমের সূচনা নিয়ে। প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি বাতাস আমাদের প্রেমকে আরও গভীর করে। আমরা শিখি—দূরত্ব আমাদের বন্ধনকে ভাঙতে পারে না। আমরা দুজনেই সত্যিকারের দূরত্বের মাঝি।
শেষ পর্ব ১
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন