মায়ের ঘ্রাণ | মা দিবসের গভীর দর্শনের ইসলামিক কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ
মায়ের ঘ্রাণ
কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
তারিখ: ১০ মে ২০২৬ ইং।
মা :
আল্লাহ
মানুষকে দৃশ্যমান হওয়ার আগে
সম্ভবত এই শব্দটিই সৃষ্টি করেছিলেন।
/
আমার শৈশব—
একটি দরিদ্র ঘরের ভিতর
ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া
একজন নারীর দীর্ঘ আত্মজীবনী।
আমি তখন বুঝিনি :
আমার প্রতিটি নতুন জামার ভিতরে
মায়ের পুরোনো শাড়ির
নীরব কবর সেলাই করা ছিল।
আমার প্রতিটি ভাতের দানায়
একটি অদৃশ্য উপবাস
রক্তের মতো শুকিয়ে ছিল।
:
মায়েরা কখনো সরাসরি কাঁদেন না।
তারা
চুলার আগুনে কাঁদেন,
অন্ধকার ঘরে কাঁদেন,
সন্তান ঘুমিয়ে গেলে
দোয়ার ভিতরে কাঁদেন।
আল্লাহ সম্ভবত
এই কারণেই
দোয়ার শব্দকে
মায়ের কণ্ঠের মতো নরম বানিয়েছেন।
/
দারিদ্র্য :
খুব ভদ্র একটি আগুন।
এটি প্রথমে
মায়েদের শরীর খায়,
তারপর
তাদের স্বপ্ন।
তবুও তারা
সন্তানের সামনে
হাসিকে রুটির মতো পরিবেশন করেন।
কারণ মা জানেন—
ভাঙা পৃথিবীতেও
সন্তানের জন্য
একটু জান্নাত বাঁচিয়ে রাখতে হয়।
=
আমি বড় হইনি আসলে।
শুধু
মায়ের কাছ থেকে
ক্রমশ দূরে সরে গেছি।
ব্যস্ততা :
আধুনিক মানুষের সবচেয়ে মার্জিত নিষ্ঠুরতা।
এটি
মানুষকে এতটাই পৃথিবীমুখী করে তোলে
যে,
একদিন সে
যে হাত ধরে হাঁটতে শিখেছিল
সেই হাতকেই
নিঃসঙ্গতার কাছে রেখে আসে।
:
আমি ফোন দিতে দেরি করি।
খোঁজ নিতে ভুলে যাই।
তবুও মা
প্রতিটি দোয়ায়
আমার নামের পাশে
রহমত লিখে রাখেন।
মায়েরা অদ্ভুত—
তারা সন্তানের অপরাধও
ক্ষমার কাপড়ে ঢেকে দেন।
সম্ভবত এই জন্যই
পৃথিবীতে
মায়ের চেয়ে বেশি
আল্লাহর মতো আর কিছু নেই।
/
ইসলাম
মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত রেখেছে।
কারণ মানুষ
সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে অনুভব করে
একজন ক্লান্ত মায়ের চোখের ভিতরে।
রাসূল (সাঃ)
তিনবার “মা” বলেছেন—
আমি মনে করি :
ওটা শুধু সম্মান ছিল না,
মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে
একটি আসমানি অভিযোগ ছিল।
=
“মানুষ
পৃথিবীর সব ঋণ শোধ করতে পারে,
শুধু
মায়ের ক্ষয় শোধ করতে পারে না।”
/
মাঝরাতে
হঠাৎ মায়ের কথা মনে হলে
আমার বুকের ভিতর
একটি পরিত্যক্ত মসজিদ
ধীরে ধীরে আজান দেয়।
আমি তখন বুঝতে পারি—
মানুষ যত বড়ই হোক,
মায়ের কাছে
সে আজীবন
একটি অসমাপ্ত শিশু।
:
হে আল্লাহ—
আমার মায়ের সমস্ত ক্লান্তিকে
সদকার মতো কবুল করুন।
তার কপালের ভাঁজগুলোকে
হাশরের মাঠে
নূরের সিঁড়ি বানিয়ে দিন।
কারণ আমি জানি :
কেয়ামতের ভিড়েও
একজন মা
নিজের মুক্তির আগে
সন্তানের নিরাপত্তা খুঁজবেন।
/
মানুষ যখন বৃদ্ধ হয়
সে ধীরে ধীরে
নিজের শৈশবের দিকে ফিরে যেতে থাকে।
আর মা—
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত
সন্তানের জন্য
একটি অনিদ্র জান্নাত হয়ে থাকেন।
:
পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র ঘ্রাণ আজও—
মায়ের আঁচলে লেগে থাকা
অদৃশ্য ত্যাগের গন্ধ।।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন