অস্তিত্বের কুরবানি | ঈদুল আযহা ভিত্তিক দার্শনিক উচ্চাঙ্গ কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 অস্তিত্বের কুরবানি

কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।

তারিখ: ২৭ মে ২০২৬ ইং।


শুধু অনন্ত মমতাটুকু রহুক—  

অবশিষ্ট সকল উচ্চাভিলাষ, সকল আত্মাভিমান, সকল পার্থিব মোহ  

মহাকালের নিঃশব্দ চুল্লিতে দগ্ধ হইয়া যাক।  


কারণ—  

মানুষ মূলত মাংস নহে,  

মানুষ এক দীর্ঘ দহন;  

এক অনির্বচনীয় অন্তর্গত ক্ষুধা,  

যাহা যুগে যুগে  

নিজ অন্ধকারকেই ভক্ষণ করিয়া  

আলোর দিকে অগ্রসর হইতে চাহিয়াছে।  


এই ঈদ—  

কেবল রক্তের লাল উপাখ্যান নহে;  

ইহা আত্মার গহ্বরস্থিত পশুত্বের বিরুদ্ধে  

ঘোষিত এক মহাপ্রলয়ী নৈঃশব্দ্য।  


যে ব্যক্তি  

ছুরির ধার শাণিত করে, অথচ হৃদয়ের অন্ধকার অক্ষত রাখে—  

সে কেবল মাটি রঞ্জিত করে,  

আসমান নহে।  


আর যে মানুষ  

নিজ অহংকারের কণ্ঠদেশে  

করুণার ফলক স্থাপন করিতে পারে,  

মহাবিশ্ব তাহার নীরবতার প্রতিই সিজদাবনত হয়।  


হে মানবসভ্যতা,  

তোমার সমস্ত যুদ্ধ মূলত  

তোমার নিজের সহিত তোমারই সংঘর্ষ।  

তুমি যুগের পর যুগ  

অপরকে হত্যা করিয়া  

নিজ শূন্যতাকেই লুকাইতে চাহিয়াছ।  


অথচ—  

কুরবানি মানে হত্যা নহে;  

কুরবানি মানে  

স্বীয় ভিতরের অমানুষটিকে  

ধীরে ধীরে নির্বাসনে পাঠানো।  


এই পৃথিবীর পথে পথে  

আমরাই লিখিব—  

অগ্নিশিখার ভাষায়,  

বিনষ্ট নক্ষত্রের ধূলি দিয়া,  

এক নব মানবতার গোপন সংবিধান।  


যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুর মুখই হইবে ধর্মগ্রন্থ,  

এবং ক্লান্ত মানুষের অশ্রুই  

সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থনা।  


সেদিন—  

মিনারের উচ্চতা অপেক্ষা  

এক টুকরো রুটির মহিমা অধিক হইবে;  

এবং মানুষ বুঝিবে—  

ঈশ্বর মূলত করুণার অপর নাম।  


শুধু প্রেমটুকু রহুক—  

অবশিষ্ট সকল বিভাজন, সকল ঘৃণা, সকল নিষ্ঠুরতা  

সময়ের কৃষ্ণগহ্বরে নিমজ্জিত হউক।  


আমরাই গাহিব—  

অগ্নির ফুলকি দিয়া,  

ধ্বংসের ভিতর জন্ম লওয়া  

নতুন সূর্যের জয়গান।  


কারণ—  

ঈদ শেষ পর্যন্ত উৎসব নহে;  

ইহা মানুষের পশু হইতে  

আলো হইবার  

দীর্ঘতম যাত্রা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

বাঁশির ভেতর শর্মিলা | আবেগঘন প্রেমের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

নীল আকাশের প্রান্তে | প্রেমময় আধুনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ