এই দেশ পোস্ট লিখে ঘুমায় | ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদী কবিতা
এই দেশ পোস্ট লিখে ঘুমায়
কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
তারিখ: ২১ মে ২০২৬ ইং।
আজও টাইমলাইনে আগুন :
“ফাঁসি চাই”
“ধর্ষকের বিচার চাই”
“মানববন্ধন সফল হোক”
তারপর —
সবাই রাত দশটার মধ্যে
ডালভাত খেয়ে
কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমায়।
এই দেশ পোস্ট লিখে ঘুমায়।
:
শিশুটির ছেঁড়া জামা
এখনও আদালতে সাক্ষী দেয়,
আর রাষ্ট্র
ফাইলের ভাঁজে ভাঁজে
ন্যায়বিচারের লাশ লুকায়।
ধর্ষককে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় —
ক্যামেরা অন,
মাইক্রোফোন অন,
দেশপ্রেম অন।
এক সপ্তাহ পরে :
ধর্ষক বাড়ি ফিরে আসে
বীর মুক্তিযোদ্ধার মতো অভ্যর্থনা নিয়ে।
শুধু শিশুটি ফেরে না।
কারণ মৃত শিশুরা
জামিন পায় না।
:
ত্রিশ লক্ষ শহীদের দেশ নাকি এটা?
না —
এটা এখন
সভ্যতার লাইসেন্সধারী নরপশুর খামার।
এখানে পতাকা উড়ে,
জাতীয় সংগীত বাজে,
আর শিশুদের আর্তনাদ
সাউন্ড সিস্টেমে মিউট করা থাকে।
আইন?
আইন এখন অন্ধ না।
আইন এখন পেশাদার অভিনেতা।
ক্যামেরার সামনে কাঁদে,
পেছনে গিয়ে
ক্ষমতার জুতা পালিশ করে।
:
ধর্ষকরা জানে —
এই দেশে বিচার অপেক্ষা
ভাইরাল পোস্টের আয়ু কম।
দুইদিন পর
মানুষ নতুন ট্রেন্ড খুঁজবে,
নতুন নাচ দেখবে,
নতুন প্রেম করবে,
নতুন রিল বানাবে।
শুধু একটা মা
পুরোনো কবর জড়িয়ে কাঁদবে।
:
পুরুষেরা এখন রাগী স্ট্যাটাস দেয়,
তারপর স্ত্রীকে বলে —
“বেশি বাইরে যেও না।”
নারীরা প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটে,
বাসায় ফিরে
মেয়ের ওড়না ঠিক করে দেয়।
সমাজ খুব ভদ্রভাবে
ধর্ষণকে ঘৃণা করে,
আর খুব গোপনে
ধর্ষকের সাথে চা খায়।
:
এই দেশে এখন
মোমবাতির সংখ্যা
বিচারের চেয়ে বেশি।
মানববন্ধনের সংখ্যা
মানবতার চেয়ে বেশি।
আর বক্তৃতার সংখ্যা
মানুষের বিবেকের চেয়ে বেশি।
:
শিশুটি নারীও হয়নি এখনও,
তবু মানুষের কাম
তার শরীর চিনে ফেলেছে।
নরপশুরা এখন বয়স দেখে না,
শুধু দুর্বলতা দেখে।
কারণ এই রাষ্ট্র
ধর্ষকদের শিখিয়েছে :
“ভয় পেও না,
কিছুদিন পরে
সবাই ভুলে যাবে।”
:
লাল সবুজ পতাকা আজও উড়ছে —
তবে বাতাসে না,
লজ্জায়।
শহীদের রক্তে কেনা মানচিত্র
আজ ধর্ষকের জুতার নিচে।
আর আমরা?
আমরা খুব ব্যস্ত জাতি।
স্ট্যাটাস লিখতে ব্যস্ত,
রাগ দেখাতে ব্যস্ত,
হ্যাশট্যাগ বানাতে ব্যস্ত,
লাইভে কাঁদতে ব্যস্ত।
শুধু
রাস্তায় নামতে ব্যস্ত না।
:
তাই শুনে রাখো —
যেদিন জনগণের ধৈর্য
শেষ নিঃশ্বাস ফেলবে,
সেদিন আদালতের দরকার হবে না।
কারণ ক্ষুধার্ত বিচার
আইনের বই পড়ে না।
/ তখন
রাজপথই ফাঁসির মঞ্চ হবে,
আর ইতিহাস লিখবে :
“একটি জাতি
অনেক দেরিতে জেগেছিল।”
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন