লাইসেন্স করা বার — প্রথম পাঠ | সংলাপ-কবিতা

লাইসেন্স করা বার 

_সংলাপ-কবিতা_

কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।

তারিখ: ১৩ মে ২০২৬ ইং।


শর্মিলা:

এই এস এফ—

আজকাল দেখি তুই

লাইসেন্স করা বারে বারে ঘুরিস,

মদ্যপান করিস নাকি রে?


এস এফ:

হ্… যাই।

তোর কি?

মনের জ্বালা মেটাতে যাইরে…

মনের জ্বালা মেটাতে!


বারের ভিতর ধোঁয়া উড়ে,

গ্লাসের গায়ে লবণ লাগে,

আর মোর বুকের ভিতর

পুরান কান্দন ফেনা তোলে।


শর্মিলা:

কিসের এত জ্বালা রে তোর?

মানুষ এংকে পুইড়া যায় নাকি?


এস এফ:

ঐ যে চান্দেরপুরে

এডা ছেরি আছিল না—

নাজনীন…

সুন্দর কইরা কথা কইত।

চোখে কাজল দিত।

হাসলে মনে হইত

বর্ষার ভিতর রোদ উঠছে।


হেই ছেরি

মোর মুখে মদ তুলে দিছে।


আগে মুই

চায়ের দোকানে বসতাম,

এখন বোতলের তলায় বসি।


জ্বালা মিটাই রে…

জ্বালা।


শর্মিলা:

হ্…

মানসে কোনদিন

মানষের মুখে মদ তুলে দেয় নাকি?

এডি আমাক বিশ্বাস করা লাগবে?


এস এফ:

ছেরি লাং ধরতে চাইছিল।

তাই মোর কাছে আইছিল।

কইছিল—

“এস এফ, তুই ভালো।”

মুই বিশ্বাস করে

অন্তর কাইটা দিছি।


রাইতের পর রাইত

মোবাইলের আলো জ্বালাইয়া রাখছি।

হেই কল দিবে বইলা।


কিন্তু ছেরির মন ভরে নি।

চইলা গেছে…


যা…

যা…

যা…


বাইরে তখন

বৃষ্টির পানিতে

নিওন বাতির রং ভাইঙ্গা পড়তেছিল।


শর্মিলা:

কান্দস না রে…

মুই আছি তো লগে।


দেখ—

মোর বুকে মাথা দি।

বড় যত্ন কইরা রাখমু।

পাতাল সমুদ্রের জল খাওয়ামু।

জীবনে কষ্ট দিমু না।


তোরে নিয়া

মেলায় যামু,

নদীর পাড়ে যামু,

শীতে কম্বল জড়ামু।


এস এফ:

যা…

সামনে থেইকা সরে যা।


এংকে বহুৎ আশা

ঐ ছেড়িও দেখাইছিল।


ওই যে ন্যাশনাল পার্কে নিয়া

বাদাম টিপতে টিপতে

মোক কত কথা কইছে…


“ঘর বাঁধমু।”

“সন্তান হইবো।”

“এক লগে বুড়া হমু।”


হ্…


মুই বিশ্বাস করছি।


আকাশে তখন

চান আছিল,

আর মোর বুকের ভিতর

একটা সংসার জন্ম নিচ্ছিল।


কিন্তু হারামজাদি

মোক মন দেয় নাই।


পাহাড় সমান ভালোবাসা

মোর সামনে আইনা ধরছিল—

তারপর

হাত ছাইড়া দিছে।


এখন রাইত হইলেই

বারের দরজা খুলি,

বোতলের ভিতর মুখ ডুবাই,

আর দেখি—

নাজনীনের চোখ

মদের ভিতর ভাইসা উঠে।


শর্মিলা:

কিন্তু মোক বিশ্বাস কর।


রাইতে সাজগোজ কইরা থাকমু

শুধু তোর জন্য।


হামি যাবানি কোথাও।


তোর ঘরে

ধোঁয়া উঠা ভাত রাখমু,

জ্বর আইলে মাথায় পানি দিমু,

ঘুম না আইলে

চুলে হাত বুলাইমু।


এস এফ:

চুপ…


এইসব কথা

মোর আর ভালো লাগে না।


মানুষ যখন ছাই হইয়া যায়,

তখন আগুনকেও বিশ্বাস হয় না।


বারের শেষ টেবিলে বসে বসে

মুই এখন শুধু দেখি—

সব প্রেমের শেষ গন্ধ

একই রকম।


মদের মতো।


(প্রথম অংশ,,,, চলবে)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

বাঁশির ভেতর শর্মিলা | আবেগঘন প্রেমের কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

নীল আকাশের প্রান্তে | প্রেমময় আধুনিক কবিতা | এস এফ সেলিম আহম্মেদ