রবীন্দ্রনাথ : আধুনিক সময়, নিঃসঙ্গতা ও মানুষের ভিতরের আলো
রবীন্দ্রনাথ /
কবি : এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
তারিখ: ০৭ মে ২০২৬ ইং।
রবীন্দ্রনাথ /
তিনি কোনো মানুষ নন এখন আর —
একটি দীর্ঘ প্রতিধ্বনি,
যা বাংলা ভাষার ভিতর
এখনও হাঁটে খালি পায়ে।
আমরা প্রযুক্তির আলোয়
ক্রমশ অন্ধ হয়ে যাচ্ছি,
স্ক্রিনে অসংখ্য মুখ জ্বলে,
কিন্তু কারও ভিতরে
কেউ আর বাস করে না।
ঠিক তখনই দূর থেকে ভেসে আসে —
“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য...”
আর মনে হয়,
সভ্যতা এখনো সম্পূর্ণ মানুষ হতে শেখেনি।
রবীন্দ্রনাথ জানতেন /
সবচেয়ে ভয়ংকর কারাগারের নাম —
নিজের ভিতরের অন্ধকার।
তাই তিনি বলেছিলেন —
“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে
তবে একলা চলো রে।”
এই একটি লাইন /
শুধু গান নয়,
সমস্ত একা মানুষের
অদৃশ্য মেরুদণ্ড।
তিনি প্রেম লিখেছেন /
কিন্তু তা কেবল কারও হাত ধরা নয় —
বরং,
একজন মানুষের ভিতরে
আরেকটি মহাবিশ্ব আবিষ্কার করা।
তাই আজও কেউ নীরবে বলে ওঠে —
“আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ।”
কারণ অপেক্ষাও কখনো কখনো
ভালোবাসার সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ।
আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী /
তবু পৃথিবী আগের চেয়ে বেশি ক্লান্ত,
মানুষ আগের চেয়ে বেশি একা,
আর সম্পর্কগুলো —
দ্রুত টাইপ করা কিছু শব্দের মতো ক্ষণস্থায়ী।
তবু তিনি এখনও শেখান —
“বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা” ;
কারণ জীবন মানে নিরাপদ থাকা নয়,
জীবন মানে /
ভেঙে পড়েও
নিজের আলোটুকু বাঁচিয়ে রাখা।
হয়তো সেই জন্যই
এত শতাব্দী পরেও
রবীন্দ্রনাথ পুরোনো হন না।
কারণ মানুষ যতদিন
নিজেকে খুঁজবে,
ততদিন /
একটি রবীন্দ্রনাথ
তার ভিতরে
ধীরে ধীরে আলো জ্বালবেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন