মে দিবস | আধুনিক দার্শনিক ব্যঙ্গ কবিতা | শ্রমিক অধিকার ও বাস্তবতা | এস এফ সেলিম আহমেদ
“মে দিবস”
কবি: এস এফ সেলিম আহমেদ।
তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ইং।
মে আসে—
রাষ্ট্র একদিনের জন্য শ্রমিককে “মানুষ” বলে স্বীকার করে।
তারপর
চুপচাপ তাকে আবার কাজ বানিয়ে ফেলে।
মানুষ না—
একটা চলমান প্রয়োজন।
কারখানার শব্দ
সভ্যতার ভেতরের অনবরত অস্বীকার।
যেখানে গতি আছে,
সেখানে জীবন ধীরে ধীরে হারায় নিজের অধিকার।
সরকার তাকে মনে রাখে প্রতীকে,
ভুলে যায় বাস্তব শরীরে।
অধিকার শব্দটা সুন্দর—
কিন্তু প্রয়োগের জায়গায় সেটা ক্লান্ত।
মালিক জানে লাভের সময়,
শ্রমিক জানে শরীরের সময় শেষ হয়ে যাওয়া।
এ দু’য়ের মাঝখানে
ন্যায় দাঁড়ায় না—
শুধু ব্যাখ্যা দাঁড়ায়।
রেমিটেন্সকে আমরা উন্নয়ন বলি,
কিন্তু উন্নয়ন কখনো ঘামের পুরো হিসাব রাখে না।
শ্রমিক রাষ্ট্রের ভিত না—
রাষ্ট্রের সবচেয়ে অস্বীকার করা সত্য।
তাকে “শ্রম” বলা হয়,
কারণ “মানুষ” বলা দায় তৈরি করে।
দাসত্ব এখন দৃশ্যমান না—
এটা চুক্তির ভেতরে নিঃশব্দ।
একটা স্বাক্ষর,
একটা সম্মতি,
একটা অভ্যস্ত বেঁচে থাকা।
মে দিবস তাই উৎসব না—
এটা স্মৃতির এক দিনের ছুটি।
যেখানে সম্মান বলা হয়,
আর বাস্তবতা একই থাকে।
শ্রমিক চাকা না—
সে চাকার ভেতরের চাপ,
যেটা না থাকলে পুরো গতি ভেঙে পড়ে।
এখন প্রশ্নটা রাজনীতি না—
এটা অস্তিত্বের অস্বস্তি।
যে সমাজ মানুষকে শুধু ব্যবহার করে,
সে কি মানুষকে সত্যিই চিনে?
নাকি “উন্নয়ন” মানে শুধু
মানুষকে কার্যকর করে তোলার ভাষা?
আমরা মে দিবস চাই না প্রতীক হিসেবে—
আমরা চাই প্রতিদিনের সত্য উচ্চারণ।
কারণ শ্রমিক দাস না।
সে রাষ্ট্রের অস্বীকার করা ভিত্তি।
আর ভিত্তি যদি নীরবে ফাটে,
তাহলে ভেঙে পড়ে শুধু ভবন না—
ভেঙে পড়ে সভ্যতার ভেতরের বিশ্বাস।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন