অস্তিত্বের প্রান্তে তুমি | দার্শনিক প্রেমের গভীর কবিতা
“অস্তিত্বের প্রান্তে তুমি”
–এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
তারিখ: ৬ এপ্রিল ২০২৬ ইং।
শর্মিলা,
তুই কি কখনো ভেবেছিস—
মানুষ আসলে কাকে ভালোবাসে?
একটা মানুষকে,
নাকি নিজের ভেতরে তৈরি করা
একটা কল্পনাকে?
আমি তোকে ভালোবাসিনি শুধু—
আমি তোকে বানিয়েছিলাম,
আমার নিঃসঙ্গতার ভিতরে
একটা পূর্ণ পৃথিবী হিসেবে।
তুই ছিলি না,
তবুও তুই ছিলি—
আমার প্রতিটা ভাবনায়,
প্রতিটা অপেক্ষায়,
প্রতিটা অসমাপ্ত বাক্যে।
আমি অপেক্ষা করতাম—
কিন্তু এখন বুঝি,
অপেক্ষা আসলে কারও জন্য নয়,
অপেক্ষা হলো নিজের ভেতরের শূন্যতার
একটা নীরব স্বীকারোক্তি।
তোর অপমানগুলো—
আজ আর কষ্ট দেয় না,
বরং শেখায়—
ভালোবাসা যত গভীর হয়,
মানুষ ততটাই নিজের অস্তিত্ব হারাতে থাকে।
আমি তখন ভাবতাম—
তুই আমার,
আজ বুঝি—
“আমার” বলে কিছু নেই,
সবকিছুই সাময়িক,
শুধু অনুভূতিগুলোই স্থায়ী হয়ে থেকে যায়।
শর্মিলা,
তুই ছিলি আমার জীবনের কোনো মানুষ না,
তুই ছিলি একটা আয়না—
যেখানে আমি নিজের
অতল একাকীত্বটা দেখেছিলাম।
রাতগুলোতে আমরা কথা বলতাম—
কিন্তু আসলে,
আমি কথা বলতাম নিজের সাথেই,
তোর কণ্ঠে আমি শুনতাম
আমার নিজেরই প্রতিধ্বনি।
আজ আর তোর জন্য অপেক্ষা করি না—
কারণ অপেক্ষারও একটা মৃত্যু আছে,
আর আমি সেই মৃত্যুর সাক্ষী।
তবুও অদ্ভুতভাবে—
তুই নেই,
কিন্তু তোর অনুপস্থিতিই
আমার ভিতরে সবচেয়ে বেশি উপস্থিত।
শেষে একটা সত্য—
ভালোবাসা কখনো হারায় না,
সে শুধু রূপ বদলায়—
কখনো মানুষ থেকে স্মৃতিতে,
কখনো স্মৃতি থেকে দর্শনে,
আর কখনো…
একটা নীরব স্বীকারোক্তিতে।
আমি এখন আর তোকে খুঁজি না,
আমি খুঁজি—
আমি কে ছিলাম
যখন তোকে ভালোবাসতাম।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন