ভয়ের শাসন: রাষ্ট্র, নীরবতা ও মানুষের আত্মসমর্পণের দার্শনিক কবিতা
“ভয়ের শাসন”
কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
তারিখ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং।
দেশটা খাইছে স্বার্থবাজরা—
এই বাক্যটা উচ্চারণ করার আগেই
আমাদের ভিতরে কিছু একটা সংকুচিত হয়।
এটা লজ্জা না,
এটা শিক্ষা—
যেখানে সত্য বলার আগে
ভয় অনুমতি চায়।
রাষ্ট্র এখানে দৃশ্যমান কিছু না,
রাষ্ট্র হলো এক অদৃশ্য প্রক্রিয়া—
যেখানে মানুষকে শাসন করা হয় না,
মানুষকে এমনভাবে গড়া হয়
যাতে সে নিজেই নিজের সীমা নির্ধারণ করে।
তারা দেশ খায়—
কারণ তারা পারে বলে না,
কারণ আমরা থামাই না বলে।
ক্ষমতা কখনো একা দুর্নীতিগ্রস্ত হয় না,
তার সাথে নীরবতার অংশীদার থাকে।
আইন এখানে অন্ধ না,
আইন খুব ভালো করেই দেখে—
কাকে শাস্তি দিলে ভয় ছড়াবে,
আর কাকে ছেড়ে দিলে
ক্ষমতার ভারসাম্য অটুট থাকবে।
আমরা চুপ থাকি—
কারণ আমাদের শেখানো হয়নি
সত্যের মূল্য,
আমাদের শেখানো হয়েছে
ঝুঁকির হিসাব।
এখানেই মানুষের পতন—
সে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না,
সে নিজের নিরাপত্তার পক্ষে দাঁড়ায়।
দর্শন বলে—
মানুষ স্বাধীন জন্মায় না,
সে স্বাধীন হতে শেখে।
কিন্তু যে সমাজ ভয়কে স্বাভাবিক করে,
সেখানে স্বাধীনতা
একটা ভুলে যাওয়া দক্ষতা।
তাই এখানে মানুষ বন্দি না,
তবু মুক্ত না।
সে হাঁটে, কথা বলে, বাঁচে—
কিন্তু তার সিদ্ধান্তের ভিতরে
অদৃশ্য এক শাসন কাজ করে।
স্বার্থবাজরা জানে—
শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,
চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ।
তাই তারা শিকল দেয় না,
তারা সীমা বসায়—
মানুষের চিন্তার ভেতরে।
একসময় মানুষ আর প্রশ্ন করে না—
কারণ সে উত্তর জানে না বলে না,
কারণ সে জানে
প্রশ্ন করার পরিণতি কী।
এবং সেই মুহূর্তেই—
রাষ্ট্র তার সবচেয়ে নিখুঁত রূপে পৌঁছায়,
যখন কোনো প্রতিবাদ লাগে না,
কারণ প্রতিবাদের প্রয়োজনটাই মরে যায়।
দেশটা খাইছে স্বার্থবাজরা—
এটা শেষ সত্য না।
শেষ সত্য হলো—
এই খাওয়ার প্রক্রিয়ায়
আমরাও অংশ নিই
নিজেদের নীরবতার মাধ্যমে।
কারণ ক্ষমতা বাইরে জন্মায় না,
ক্ষমতা জন্মায় মানুষের ভিতরে—
যখন সে সত্য জানে,
তবু তা অস্বীকার করে।
এবং তখন—
রাষ্ট্র কোনো আলাদা সত্তা থাকে না,
রাষ্ট্র হয়ে যায়
মানুষের সম্মিলিত ভয়।
সুতরাং—
শাসক বদলালে কিছু বদলায় না,
আইন বদলালেও না।
যতক্ষণ না মানুষ
নিজের ভয়কে অস্বীকার করতে শেখে,
ততক্ষণ—
স্বার্থবাজরা দেশ খায় না,
মানুষ নিজেই
নিজের দেশকে সমর্পণ করে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন