আলোর জিজ্ঞাসাবাদ | দার্শনিক আধুনিক কবিতা
আলোর জিজ্ঞাসাবাদ
কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ।
তারিখ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং।
তারা হাঁটে—
পথের উপর নয়,
পথের ভাঙা ধারণার ভিতর দিয়ে;
যেখানে প্রতিটি পদচিহ্ন
একটি অস্বীকার—
এবং প্রতিটি অস্বীকার
একটি নতুন সত্যের জন্মদাগ।
অন্ধকার?
তারা তাকে ভয় পায় না—
কারণ তারা জানে,
অন্ধকার কোনো অনুপস্থিতি নয়,
এটি আলোর অসমাপ্ত খসড়া।
কবি, লেখক, গবেষক—
তারা শব্দ লেখে না,
তারা নীরবতার গোপন স্থাপত্য ভেঙে
শব্দকে মুক্ত করে।
তাদের কলম—
কালি নয়,
এটি এক ধরনের বিপজ্জনক স্বচ্ছতা;
যেখানে প্রতিটি বাক্য
আলোকে দাঁড় করায় জিজ্ঞাসাবাদে,
এবং প্রতিটি উত্তর
নিজেকেই সন্দেহ করে।
একটি শব্দের আগে
তারা থামে—
কারণ তারা শুনতে পায়
নিঃশব্দের ভিতরে লুকিয়ে থাকা
অসংখ্য অসমাপ্ত চিৎকার,
যা ইতিহাস কখনো লিখতে পারেনি।
তারা জানে—
জ্ঞান মানে জানা নয়,
বরং প্রতিনিয়ত নিজেকে ভুল প্রমাণ করা;
এবং সত্য—
একটি স্থির জিনিস নয়,
এটি এক নির্মম পরিবর্তন,
যা কাউকে ক্ষমা করে না।
এই সময়—
দ্রুততার এক মায়াজাল,
যেখানে মানুষ দেখে,
কিন্তু দেখে না;
জানে,
কিন্তু বোঝে না;
লিখে,
কিন্তু অনুভব করে না।
এখানে শব্দের বাজার আছে—
কিন্তু অর্থের কোনো ঠিকানা নেই।
তবু তারাই দাঁড়ায়—
সময়ের বিপরীতে নয়,
সময়ের ভেতরের শূন্যতার বিপরীতে;
এবং জিজ্ঞেস করে—
“তুমি কি সত্যিই বেঁচে আছো,
নাকি শুধু অস্তিত্বের অনুকরণ করছো?”
তারা ক্লান্ত—
কারণ তারা দেখে
মানুষ কিভাবে নিজের অন্ধত্বকে
দর্শন বলে মানিয়ে নেয়;
তবু তারা থামে না—
কারণ তারা জানে,
একটি সঠিক উচ্চারণ
একটি সম্পূর্ণ যুগকে
নিজের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে পারে।
তাদের যাত্রা—
গন্তব্যহীন নয়,
বরং গন্তব্যের ধারণাকেই প্রত্যাখ্যান;
যেখানে একাকীত্ব
একটি শাস্তি নয়,
একটি গভীর সহচর।
তারা আলো বহন করে না—
তারা আলোকে পরীক্ষা করে;
কে সত্য, কে নয়—
তার অনিবার্য জিজ্ঞাসা হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত—
পৃথিবী তাদের বোঝে না,
কিন্তু তাদের দ্বারাই
নিজের ভ্রান্তিকে চিনতে বাধ্য হয়।
এই কবিতা উৎসর্গ তাদের—
যারা এখনো আলোকেও প্রশ্ন করে,
এবং প্রশ্নের আগুনে
নিজেদেরই সত্য প্রমাণ করে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন