কোদাল আনো বাহে তিস্তা বাঁচাই | নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যঙ্গ কবিতা
কোদাল আনো বাহে তিস্তা বাঁচাই
— কবি এস এফ সেলিম আহম্মেদ
তিস্তা…
নদী না—
এখন এটা শুধু ভোটের মৌসুমি ফসল।
নির্বাচন এলে সে জেগে ওঠে,
মাইকের শব্দে ফুলে ওঠে তার বুক—
“তিস্তা ফাস্ট! তিস্তা ফাস্ট!”
“প্রথম কোদাল আমরাই ধরবো!”
তারপর…
নির্বাচন শেষ।
মাইক নিভে যায়।
তিস্তা আবার মরে।
আমি দাঁড়িয়ে দেখি—
একটা নদী ধীরে ধীরে
মানচিত্র থেকে মুছে যায়,
আর রাজনীতি তাকে বাঁচায়
কাগজের ভেতর।
এক দল স্বপ্ন বেচে পানির নামে,
আরেক দল মাটি খোঁড়ে
শুধু কথার ভেতর।
তিস্তা এখন প্রকল্প না—
এটা ফাইলের মধ্যে বন্দী
এক টুকরো অভিনয়।
মিটিং হয়…
চা আসে…
বিস্কুট ভাঙে…
কিন্তু তিস্তার বুক
আর ভাঙে না—
কারণ ভাঙার মতো পানি নেই।
১৭ বছর…
একটা দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির নাটক।
যেখানে দৃশ্য বদলায়,
অভিনেতা বদলায়,
কিন্তু স্ক্রিপ্ট—
একই থাকে।
ভারতের সাথে সম্পর্ক
ফাইলের পাতায় মোটা হয়,
কিন্তু তিস্তার শরীর
শুকিয়েই থাকে।
উত্তরবঙ্গের মানুষ এখন
নদী দেখে না—
তারা দেখে বালু,
শোনে বাতাস,
আর গিলে ফেলে
অপেক্ষার ধুলো।
একটা শিশু জিজ্ঞেস করে—
“নদী কাকে বলে?”
মা চুপ করে থাকে…
কারণ উত্তরটা এখন
বইয়ের পাতায় বন্দী।
নির্বাচন আসে…
তিস্তা জাগে।
নির্বাচন যায়…
তিস্তা মরে।
কোদাল আনো বাহে…
তিস্তা বাঁচাই—
না হলে অন্তত
স্লোগানটাই বাঁচাই!
কারণ এই দেশে এখন
নদী মরে গেলে
কেউ কাঁদে না—
কিন্তু স্লোগান মরলে
রাজনীতি থেমে যায়।
তাই বলছি—
কোদাল আনো বাহে…
এইবার মাটি খুঁড়ো না,
খুঁড়ো মিথ্যে প্রতিশ্রুতির কবর।
না হলে একদিন—
তিস্তার মতোই
আমাদের বিবেকও
শুকিয়ে যাবে।
— এস এফ সেলিম আহম্মেদ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন