অবুঝ কিশোর — এস এফ সেলিম আহম্মেদ
“অবুঝ কিশোর”
— এস এফ সেলিম আহম্মেদ
সে ছিল এক অবুঝ কিশোর—
ভালোবাসা তার কাছে ছিল সরল,
একটা “হাই”, একটা “মিস ইউ”,
আর রাত জেগে কারও জন্য অপেক্ষা করা।
তার পৃথিবী ছোট,
কিন্তু আকাশটা পূর্ণ ছিল একজন মানুষ দিয়ে।
ফোনে নোটিফিকেশন এলেই
বুকটা ধক করে উঠত,
মনে হতো—
এই বুঝি সে লিখেছে,
“তুমি না থাকলে আমার দিন অসম্পূর্ণ।”
কিশোরটি বিশ্বাস করত,
কথাগুলো সত্যি।
কারণ সে অভিনয় জানত না,
ভালোবাসার ভেতরে ফাঁকি খুঁজতে শিখেনি।
কিন্তু একদিন হঠাৎ
চ্যাটবক্সটা নীরব হয়ে গেল।
“লাস্ট সিন”টা দূরে সরে গেল,
আর কথাগুলো হারিয়ে গেল
অচেনা অন্ধকারে।
প্রথমে সে ভেবেছিল—
হয়তো ব্যস্ত,
হয়তো একটু অভিমান…
তারপর বুঝল,
সে আর কারও প্রয়োজন নয়,
সে শুধু একটা সময় ছিল,
একটা ফাঁকা বিকেলের গল্প।
সেদিন রাতে
কিশোরটা খুব কাঁদেনি,
শুধু চুপচাপ বসে ছিল জানালার পাশে।
চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল,
আর বারবার নিজেকে বলছিল—
“এটাই বুঝি বড় হওয়া...”
ধীরে ধীরে সে নিজেকে গুটিয়ে নিল।
স্ট্যাটাসে হাসি,
ইনবক্সে নীরবতা,
আর হৃদয়ের ভেতরে
অগণিত না বলা কান্না।
কেউ জানে না,
একটা অবুঝ কিশোর
কতটা নিঃশব্দে ভেঙে পড়তে পারে।
সে কাউকে দোষ দেয়নি,
কাউকে অভিশাপও দেয়নি।
শুধু একদিন
নীরব রাতের ভেতর
নিজের সব আবেগ
মাটির নিচে চাপা দিয়ে
চলে গেল নিঃশব্দ নিবৃত্তির পথে।
আর পৃথিবী তখনও ব্যস্ত ছিল,
কেউ খেয়ালই করল না—
একটা হৃদয়
আজ একটু একটু করে
মরে গেল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন