শালিকদের বিচরণ ভূমি — গ্রামবাংলার ভোরের গল্প
শালিকদের বিচরণ ভূমি
— এস এফ সেলিম আহম্মেদ
ভোরের আলো ধীরে নামে,
মসজিদে ডাকে আযান,
শালিকেরা ডানা মেলে
জাগে গ্রামের প্রাণ।
জমি নিরানি, মাটির বুকে
শিশির ভেজা ধান,
হালচাষের পেছনে পেছনে
শালিকদের ছোট ছোট দল।
সেচের পানি ছিটিয়ে পড়ে
ক্ষেতে রোদের খেলা,
ডানা মেলে শালিকেরা
মাঠে খোঁজে আনন্দের খেলা।
গমের বীজ বুনুনের দিনে
শিশির ভেজা মাটি,
শালিকেরা দল বেঁধে নেমে
পায়ে খোঁজে বীজ গুটি।
ধান কাটার সময় মাঠে
শালিকেরা নামে দলবেঁধে,
ক্ষুদ্র পোকা খেয়ে ফসল বাঁচায়
মানুষের সঙ্গে তাল মিলবেঁধে।
শালিকদের খাদ্য সংকট কালে,
বেগুন, মরিচ, সবজি খেয়ে,,,
ফেলতো কৃষক কে
মহা বিপাকে।
তবুও হাসিত কৃষক
করিত না কোন রাগ,
জীব বৈচিত্র্যর আর
কৃষিতে শালিকদের অনেক অবদান।
ডানার নাচন, কিচিরমিচির
ভোরের মিঠে গান,
সবুজ মাঠে ছড়িয়ে পড়ে
গ্রামের সহজ প্রাণ।
আলপথ বেয়ে বাতাস আসে
ধানের শিষে দেয় দোলা,
শালিকেরা খেলায় মাতে
খোলা মাঠের বেলা।
চোখ বুজিলে মনে ভাসে
সেই নির্মল ভূমি—
মাটি, ফসল, শালিক, কৃষক
মিলে গড়ে তোলে
শালিকদের বিচরণ ভূমি।
ভোরের কুয়াশা ছোঁয়ায় মাখে
সবুজ ঘাসের কোমল দোলা,
শালিকেরা ডানা মেলে প্রকৃতির সঙ্গে, মিলিত হয়ে করিত রোদ্দু খেলা।
হালচাষ, বীজ বুনুন, ফসল কাটার সময়
তাদের বিচরণ সীমাহীন,
মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে
মাটির প্রতি অগাধ প্রীতিময় ভালোবাসা।
প্রতিটি পোকা, প্রতিটি শিষে
শালিকের খোঁজে প্রাণ জাগে,
গ্রামবাংলার সেই প্রভাতে
প্রকৃতি নিজেই হাসে হাসে।
রাতের আঁধারে চোখ বুজিলে,
মনে আসে সবুজ, মাটি, কৃষক আর
ডানা মেলে শালিকদের গন্তব্যে ছুটাছুটি,
নিখুঁত এ যেন শালিকদের বিচরণ ভূমি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন