গর্ব — আমি উত্তরবঙ্গের সন্তান | এস এফ সেলিম আহম্মেদ

 

গর্ব

— এস এফ সেলিম আহম্মেদ

যারা দূর থেকে হাসে,
তাচ্ছিল্যের ঠোঁটে বলে— “মফিজ”,
তারা জানে না,
এই মাটির ধুলোতেও ইতিহাসের স্পন্দন আছে।

আমরা নাকি নিজের ভালো বুঝি না!
তবু প্রশ্ন রাখি—
ভালো কি শুধু ভাতের নিশ্চয়তা,
নাকি মাথা উঁচু রাখার অধিকার?

পলাশীর পর যখন আশা ছিল নির্বাসনে,
এই উত্তরের মাটিতেই জেগেছিল প্রতিরোধ—
ফকির–সন্ন্যাসীর শপথে কেঁপেছিল সাম্রাজ্য।
দাসত্ব মেনে নিলে হয়তো মিলত স্বস্তি,
কিন্তু আমরা বেছে নিয়েছিলাম সম্মান।

দেবী চৌধুরানীর চোখে ছিল বিদ্রোহের দীপ্তি,
নুরুলদিনের কণ্ঠে ছিল বজ্রের ডাক—
“জাগো বাহে, কোনঠে সবাই!”
হেরে যাওয়ার ভয় নয়,
অন্যায়ের কাছে নত হওয়াই ছিল লজ্জা।

স্বাধীনতার প্রভাতে
রংপুরের এক কিশোর বুক এগিয়ে বলেছিল—
“রক্ত যদি লাগে, নাও;
তবু স্বাধীনতা থামিও না।”
তার পতনে নয়,
তার দাঁড়িয়ে থাকাতেই জন্ম নিয়েছিল বিজয়।

সময় ঘুরে আবার প্রমাণ—
যখন প্রয়োজন,
এই জনপদ থেকেই উঠে আসে অদম্য সাহস;
কেউ বুক চিতায়,
কেউ দেয় আলো,
কেউ হয়ে যায় পথের দিশা।

আমরা যোগ্যকে সম্মান করি—
পদবী দেখে নয়, প্রজ্ঞা দেখে;
প্রলোভন দেখে নয়, চরিত্র দেখে।
লোভের কাছে মাথা নত করার শিক্ষা
এই মাটি আমাদের দেয়নি।

যখন অনেকে ক্ষমতার নাম শুনে মুগ্ধতায় হারায়,
উত্তরবঙ্গ তখন নীরবে মনে করিয়ে দেয়—
ভোট মানে আত্মসম্মান,
বিবেক মানে স্বাধীনতা।

আমরা মঙ্গার ক্ষুধা চিনি,
তিস্তার ভাঙন চিনি,
চরের অনিশ্চয়তা চিনি—
তবু ভাঙি না।
ঝড়ের সাথে লড়াই করে
শিকড় আরও গভীরে নামাই।

আমরা না খেয়ে থাকতে পারি,
কিন্তু নৈতিকতা বিকিয়ে খেতে পারি না।
কারণ মর্যাদা আমাদের কাছে
রুটির চেয়েও বড়।

যদি আবার ডাকে দেশ,
এই উত্তরের হাওয়া আবার আগুন হবে—
কেউ ডাক দেবে,
কেউ দাঁড়াবে,
কেউ হয়তো রক্ত দেবে—
তবু আপোষের কালিমা ছুঁতে পারবে না আমাদের।

উত্তরবঙ্গ কোনো ভৌগোলিক সীমা নয়,
এ এক মানসিক উচ্চতা—
ঝড়েও যে মাথা নোয়ায় না।

তাই দৃপ্ত কণ্ঠে বলি—
গর্ব আমার পরিচয়,
আমি উত্তরবঙ্গের সন্তান।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ