টাইটেল: গণভোটের দিন | মহাকাব্যিক কবিতা — এস এফ সেলিম আহম্মেদ
গণভোটের দিন
— এস এফ সেলিম আহম্মেদ
যুগের সীমানায় দাঁড়িয়ে আজ
সময়ের মহাঘণ্টা বাজে,
ইতিহাস তার অগ্নিশিখা নিয়ে
নতুন অধ্যায় সাজে।
ফেব্রুয়ারির এই প্রভাতে
সূর্য ওঠে রক্তিম আলোয়,
জনতার কণ্ঠ নীরব হলেও
শক্তি জমে ঢেউয়ের ঢলায়।
বাতাস জুড়ে প্রশ্ন ভাসে—
কোন পথে যাবে দেশ?
অতীতের বাঁধন রাখবে ধরে,
নাকি ছুঁবে বদলের রেশ?
দীর্ঘ পথের ক্লান্ত জাতি
স্বপ্ন বুকে নিয়ে দাঁড়ায়,
একটি ব্যালট—ছোট্ট কাগজ,
তবু ভবিষ্যৎ তাতেই গড়ায়।
এ কাগজ নয়, এ যেন তলোয়ার,
অন্যায় ভাঙার শপথ;
এ যেন আলো, অন্ধকার ভেদে
দেখায় আগামী রথ।
নীরব বুথের চার দেয়ালের মাঝে
কাঁপে না কোনো হাত,
কারণ জানে—এই ক্ষুদ্র চিহ্নেই
লিখিত হবে প্রভাত।
সংবিধানের পৃষ্ঠায় নাকি
জাগবে নতুন ভাষা,
ক্ষমতার ভারসাম্যে গড়বে
সমতার প্রত্যাশা।
অধিকারের দীপ জ্বলবে কি আরও,
ন্যায় হবে কি দৃঢ়?
প্রশ্নগুলো আজ নাগরিক হৃদয়ে
সমুদ্রের মতো গভীর।
তবু মনে রেখো—পরিবর্তন মানে
শুধু নতুন পথ নয়,
এ এক সাহস, ঝড়ের মুখে
অটল থাকার পরিচয়।
আবার ধীরতার ডাকও শোনা যায়,
ভাবনার বিস্তৃত ডানা—
কারণ প্রতিটি সিদ্ধান্তই গড়ে
আগামীর ঠিকানা।
এই দিন তাই সাধারণ নয়,
এ এক জনতার মহাযজ্ঞ,
যেখানে রাজা নেই, নেই প্রজা—
সবাই সমান, সবাই অদ্বৈত।
চাষির হাতে যেমন মাটি
ফসলের আশা বোনে,
তেমনি ভোটার নিজের রায়ে
রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ বোনে।
শোনো! ইতিহাস কখনো লেখা হয় না
শব্দের উচ্চারণে,
লেখা হয় মানুষের সাহসে,
দৃঢ়তার আহ্বানে।
আজ কোনো তরবারি ঝলসে না,
না বাজে রণভেরী,
তবু এ এক নীরব যুদ্ধ—
সচেতনতারই ফেরি।
যে জাতি নিজের ভাগ্য লেখে
নিজের দৃঢ় হাতে,
বিশ্বদরবারে মাথা তোলে
অপরাজেয় প্রাতে।
তাই এসো নাগরিক, ভয় ভুলে
দাঁড়াও আলোর পাশে,
কারণ ভবিষ্যৎ জন্ম নেয়
সাহসীদেরই আশে।
মনে রেখো—একটি দিনের সিদ্ধান্ত
শত বছরের দিশা,
একটি ভোটের প্রতিধ্বনি
ছড়ায় অনন্ত দিগন্তে আশা।
যখন সন্তানেরা জিজ্ঞেস করবে—
“কেমন করে গড়লে দেশ?”
গর্বভরে বলবে তখন—
“আমরাই লিখেছি নতুন পরিবেশ।”
উঠে দাঁড়াক জনতার শক্তি,
জাগুক আত্মবিশ্বাস,
কারণ গণভোট মানেই জাতির
নিজেকে খোঁজার আভাস।
সময়ের নদী থেমে থাকে না,
চলে অনন্ত গতিতে,
যে জাতি সিদ্ধান্ত নিতে জানে
সে-ই বাঁচে মর্যাদাতে।
তাই প্রভাত থেকে গোধূলি পর্যন্ত
হৃদয় রাখো জাগ্রত,
কারণ আজকের এই গণভোট
আগামীর মহাকাব্য রচিত।
```0
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন