ক্ষমতার উন্মত্ত জবান: ভোটের মাঠের কাহিনী (পর্ব ১)

 

ক্ষমতার উন্মত্ত জবান: ভোটের মাঠের কাহিনী (পর্ব ১)

— এস এফ সেলিম আহম্মেদ, কবি, লেখক ও গবেষক


সকাল উঠতেই ময়নুলের মন অস্থির হয়ে উঠল। শহরের প্রধান রাস্তায় চলছে অদ্ভুত উত্তেজনা। পোস্টার ঝুলছে, ব্যানার কাঁপছে, মাইক দিয়ে আওয়াজ হচ্ছে। তিনি জানেন, আজকের দিন কেবল ভোটের নয়, এটি **ক্ষমতার উন্মত্ত জবান**ের পরীক্ষা।

রাস্তায় মিছিল চলছে। নেতা রুবেল নিজের দলের লোকজনকে উৎসাহিত করছে। মাইক থেকে উচ্চস্বরে প্রতিশ্রুতি দেয়, জনতা উচ্ছ্বাসিত। অন্যদিকে ফারুক তার বিরোধীদের কাদা ছুড়ে দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। দুই নেতা, দুই দিক, দুই উন্মত্ততা।

ময়নুল চোখ রাখে জনতার দিকে। শিশুদের চোখে কৌতূহল, বৃদ্ধদের চোখে আতঙ্ক। মানুষ বিভ্রান্ত। কোথায় বিশ্বাস, কোথায় ভয়—সবই মিলিয়ে গেছে এক অদ্ভুত উত্তেজনায়। ময়নুল মনে মনে ভাবছে, “ভোটের মাঠ কখনো এত স্পষ্ট হয়নি।”

শীলা, স্থানীয় দোকানদারী, দোকান বন্ধ করে বলল, "পাঁচ বছর আগে নেতারা যা বলেছিল, আজও কি কিছু পরিবর্তন হয়েছে?" ময়নুল চুপচাপ মাথা নেড়ে জানায়, "আমরা দায়িত্ব পালন করব।"

রাস্তা জুড়ে পোস্টার উড়ছে। ব্যানার কাঁপছে। একজন যুবক হঠাৎ পোস্টার ছিঁড়ে মঞ্চে ছুড়ে মারল। উত্তেজনা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল। জনতা হকচকিয়ে তাকাল। এই চমকপ্রদ ঘটনা পাঠককে প্রথম লাইনে ধরে রাখে।

সিফাত, স্থানীয় সাংবাদিক, সতর্কবার্তা দিচ্ছে। "ভোট মানে শুধু সংখ্যা নয়, এটি দায়িত্বও। নেতা-মুক্তিযুদ্ধের কথার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।" কিন্তু মঞ্চ থেকে ফারুকের কণ্ঠে আসে হুমকি। কাদা ছোড়াছুড়ি, জনতা আতঙ্কিত।

ময়নুল ভাবছে—প্রতিটি শব্দ এবং পদক্ষেপেই ক্ষমতার উন্মত্ততা প্রতিফলিত হচ্ছে। ভোটের মাঠ শান্তির নয়, উত্তেজনা, বিভ্রান্তি ও শক্তির লড়াই। পথচারীরা মুখ ঢেকে হেঁটে যাচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধেরা আতঙ্কে।

ময়নুল পৌঁছাল স্কুলে, যেখানে ভোটার নিবন্ধন যাচাই চলছে। শিক্ষক হিসাবে তিনি সচেতন ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছে। কিন্তু বাইরে লড়াই চলছে। একজন যুবক মারামারি করছে, পোস্টার ছিঁড়ছে। বুথের কাছে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি। প্রত্যেকটি দৃশ্য চোখে ভয় ও বাস্তবতার মিশ্রণ।

সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে। ময়নুল বাড়ি ফিরছে। পথের ধারে শিশু ও বৃদ্ধেরা ভয়ে সড়ক পার হচ্ছে। বাতাসে নেতাদের উন্মত্ত জবান স্পষ্ট। ময়নুল স্থির করেছে—যতই হিংসা বাড়ুক, সত্য ও ন্যায়ের পথে দাঁড়াবে। ভোটের মাঠে যাত্রা শুরু হয়েছে।

প্রথম দিনের শেষ। শহর-গ্রাম জুড়ে মানুষ বুঝতে শুরু করেছে—ভোট মানে প্রতিশ্রুতি নয়, **দায়িত্বের লড়াই**। ময়নুল জানে, আসল পরীক্ষা এখনো বাকি। নেতারা হিংস্র ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতির জালে ভাসছে। ভোটারদের মনোবল পরীক্ষা হচ্ছে।

হঠাৎ চিৎকার। একজন ভোটার আহত হয়েছে। জনতা আতঙ্কিত। ময়নুল দ্রুত এগিয়ে যায়, আহতকে পাশে নেয়। এই মুহূর্তে পাঠক বুঝতে পারে—পরবর্তী দিন আরও চমকপ্রদ এবং বিপজ্জনক হবে।

ময়নুল বাড়ি ফিরল, ঘরে বসে ভাবছে—শিশুদের চোখে কৌতূহল, বৃদ্ধদের চোখে আতঙ্ক। এই ভোটের মাঠ কেবল ভোটের জন্য নয়, **সত্য ও ন্যায়ের পরীক্ষার জন্যও**। ময়নুল বুঝতে পারে, সচেতন নাগরিকরা যেভাবে দাঁড়াবে, সেটিই আসল পরিবর্তন আনবে।

প্রথম পর্বের শেষ—চমক, হিংসা, উন্মত্ত জবান এবং ভোটারদের দায়িত্ববোধ। পাঠক জানে, পরবর্তী পর্বে ঘটনা আরও উত্তেজনাপূর্ণ, ভোটের মাঠে হিংসা ও উত্তেজনা আরও বড় আকারে ফুটে উঠবে।

এভাবেই শুরু হলো **একটি বিস্ময়কর, উত্তেজনাপূর্ণ, বাস্তবমুখী নির্বাচনী গল্প**। পাঠকরা অপেক্ষা করবে—পরবর্তী দিন, পরবর্তী সংঘর্ষ, পরবর্তী চমক। ক্ষমতার উন্মত্ত জবান কি শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে? তা জানার জন্য পাঠকরা পর্ব ২-এর দিকে তাকাবে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ