এই দেশ তোমার নয় | বিপ্লবী কবিতা
এই দেশ তোমার নয়
লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ
এই দেশ তোমার নয়,
যদি এই মাটিতে দাঁড়িয়ে
তুমি বিদেশি পাসপোর্টে
নিজের মুক্তি খোঁজো।
এই দেশ তোমার নয়,
যদি দেশের রক্তে
তোমার সাম্রাজ্য দাঁড়ায়,
আর শেষ ঠিকানা হয় অন্য পতাকার নিচে।
এই দেশ তোমার নয়,
যদি তুমি জনগণের কাঁধে চড়ে
ক্ষমতার সিঁড়ি ভাঙো,
আর সিঁড়ির চূড়ায় পৌঁছে
এই মানুষগুলোকেই
পিছনে ফেলে দাও।
রাজনীতির মঞ্চে
তোমার দেশপ্রেম নাটক,
মাইকের সামনে অশ্রু,
আর ক্যামেরা বন্ধ হলেই
ভিসা ফাইলের হিসাব।
তুমি নেতা নও—
তুমি জাতির সঙ্গে প্রতারণাকারী।
তুমি ভোট চাও এই মাটিতে,
কিন্তু বিশ্বাস রাখো না এই রাষ্ট্রে।
তুমি শপথ নাও সংবিধানের নামে,
আর সেই সংবিধানই
প্রতিদিন ছিঁড়ে ফেলো।
তুমি বিপ্লবী নও,
তুমি সুবিধাবাদী দালাল।
তোমার মুখে স্বাধীনতা,
কিন্তু মনটা দূতাবাসের লাইনে।
তোমার বুকভরা স্লোগান,
আর পকেটভরা পালানোর মানচিত্র।
তুমি দেশ বানাওনি—
তুমি দেশ শুষে খেয়েছো।
তুমি বলো—“দেশের জন্য জীবন”,
কিন্তু বিপদ এলেই
দেশটাকে বোঝা মনে হয়।
তখন এই মাটি নয়,
বিদেশি আশ্রয়ই হয়ে ওঠে
তোমার শেষ ভরসা।
তোমার দেশপ্রেম
স্ট্যাটাস পর্যন্তই।
তারপরই ফ্লাইট নাম্বার,
তারপরই পরিবারসহ পলায়ন।
এই জাতি তোমাকে নেতা ভেবেছিল,
আর তুমি জাতিকে ভেবেছিলে
একটা ব্যবহারযোগ্য বাজার।
সেনার পোশাকে শপথ,
“মৃত্যু পর্যন্ত দেশ”—
কিন্তু অবসরে
বিদেশি নাগরিকত্বের লাইনে দাঁড়ানো!
তোমার বুকের পদকগুলো
আজ আর সম্মান নয়,
আজ সেগুলো প্রশ্নচিহ্ন।
শোবিজে দেশমাটি নিয়ে গান,
পর্দায় কৃত্রিম কান্না,
বাস্তবে দেশের জন্য
একফোঁটা দায় নেই।
এ দেশ সিনেমার সেট না—
এ দেশ লাশের ওপর দাঁড়িয়ে।
বিচারের আসনে বসে ন্যায়,
আর নিজের জন্য নিরাপদ দেশ
বিদেশে!
তাহলে তোমার রায়
এই মাটিতে কেন চলবে?
তুমি বিচারক নও—
তুমি ক্ষমতার পাহারাদার।
ব্যবসার নামে লুট,
দেশে ইনকাম,
খরচ বিদেশে—
তুমি ব্যবসায়ী নও,
তুমি অর্থনৈতিক শকুন।
এই দেশের ঘাড়ে বসে
তুমি শুধু মাংস ছিঁড়েছো।
এই দেশ কার?
যারা নদীতে ঘর ভাসায়,
যারা বুলেটের সামনে দাঁড়ায়,
যারা পালানোর পথ জানে না—
এই দেশ তাদের।
একদিন হিসাব হবে,
পাসপোর্ট দিয়ে নয়,
ভিসা দিয়ে নয়—
হিসাব হবে জনতার আদালতে।
সেদিন এই মাটি প্রশ্ন করবে,
আর তোমরা উত্তর দিতে পারবে না।
সেদিন পালানোর দেশ থাকবে না,
থাকবে শুধু ইতিহাস—
আর তোমাদের নাম
বিশ্বাসঘাতকদের কালো তালিকায়।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন