রুচি: ক্ষমতার ভদ্র মুখোশের বিরুদ্ধে একটি কবিতা

 রুচি  

এস এফ সেলিম আহম্মেদ  


এই রাষ্ট্রের একটা রুচি আছে—  

সে রুচি খুন করে  

হাসতে হাসতে।  


সে রুচিতে  

রক্ত শুকালে তবেই সংবাদ,  

লাশ গুনলে তবেই পরিসংখ্যান,  

আর মানুষ মরলে  

“পরিস্থিতি স্বাভাবিক”।  


তোমাদের রুচিতে  

ক্ষুধা রাষ্ট্রবিরোধী,  

প্রশ্ন ষড়যন্ত্র,  

আর প্রতিবাদ—  

জাতির শত্রু।  


তোমাদের রুচি খুব সভ্য,  

সে রুচিতে  

চুরি হয় নীতির ভেতর দিয়ে,  

লুট হয় আইন দেখিয়ে,  

আর দমন চলে  

সংবিধানের কোট পরে।  


এই রুচি শেখায়—  

কীভাবে মুখ বন্ধ রেখে  

উন্নয়ন দেখতে হয়,  

কীভাবে মরেও  

কৃতজ্ঞ থাকতে হয়।  


রুচির জন্যই  

মা সন্তানের লাশ পায় না,  

রুচির জন্যই  

নদীকে বলা হয় প্রকল্প,  

রুচির জন্যই  

মানুষকে বানানো হয়  

সংখ্যা, ভোট, উপাত্ত।  


তোমাদের রুচিতে  

গণতন্ত্র মানে  

পাঁচ বছরে একবার  

আমাদের অপমান,  

আর প্রতিদিন  

তোমাদের ক্ষমতার ভোজ।  


তোমাদের রুচি খুব সংবেদনশীল—  

একটু সত্য বললেই  

ভেঙে পড়ে,  

একটু ব্যঙ্গ করলেই  

আইনের খাঁচা থেকে  

লাফিয়ে বের হয়।  


এই রুচির পাহারায়  

থাকে পুলিশ,  

থাকে আদালত,  

থাকে মিডিয়ার ভাঁড়েরা—  

যারা চেঁচায়  

যাতে সত্য শোনা না যায়।  


কিন্তু শোনো,  

আমাদেরও একটা রুচি আছে—  

সে রুচিতে  

ভয় মানে লজ্জা,  

চুপ থাকা মানে অপরাধ,  

আর প্রতিবাদ মানে  

মানুষ হওয়া।  


আমাদের রুচিতে  

ক্ষুধা কোনো অপরাধ নয়,  

চুরি অপরাধ,  

ক্ষমতা অপরাধ,  

আর নীরবতা—  

সহযোগিতা।  


এই রুচিতে  

কবিতা হয় হাতুড়ি,  

শব্দ হয় আগুন,  

আর লেখক—  

রাষ্ট্রের কাঁটাগাছ।  


তোমাদের রুচি টিকবে না,  

কারণ রক্তের ওপর  

দীর্ঘদিন ভদ্রতা দাঁড়ায় না।  

লাশের ওপর  

চিরস্থায়ী উন্নয়ন হয় না।  


একদিন  

এই নকল রুচির মঞ্চ ভেঙে পড়বে,  

মাইক্রোফোন নিস্তব্ধ হবে,  

আর ইতিহাস লিখবে—  

“এরা সভ্য ছিল না,  

এরা শুধু ক্ষমতাবান ছিল।”  


সেদিন  

তোমাদের রুচি  

মিউজিয়ামে রাখা হবে—  

একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের  

শেষ নিদর্শন হিসেবে।  


আর আমরা?  

আমরা তখনও লিখবো—  

কারণ বিপ্লব শুরু হয়  

রুচির বিরুদ্ধে  

রুচি দিয়েই।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

ছায়া | প্রেমের অতীতের এক হৃদয়স্পর্শী আধুনিক কবিতা

"রমজান" — এস এফ সেলিম আহম্মেদ | আধুনিক আত্মজাগরণের কবিতা

মাতৃ ভাষা | রক্তে লেখা একুশ