ভয় : নীরবতার রাজনীতি ও মানুষের আত্মসংগ্রাম
ভয়
লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ
ভয় আসে শব্দহীন,
পায়ের শব্দ নেই—
তবু ঘরের সব দরজা সে জানে।
ভয় কখনো মুখোশ পরে আসে,
কখনো আসে পরিচিত মানুষের হাসিতে,
কখনো রাষ্ট্রের সিল মারা নোটিশে,
কখনো বা প্রেমিকার
“সব ঠিক আছে” বলা নীরবতায়।
আমরা ভয়কে ছোট করে ভাবি,
বলতে চাই—
এ তো সাময়িক,
এ তো কেটে যাবে।
কিন্তু ভয় ধৈর্যশীল,
সে অপেক্ষা করতে জানে।
সে চেয়ারে বসে না,
সে মানুষের ভেতর বসে থাকে।
ভয় আমাদের শেখায়—
কখন চুপ থাকতে হবে,
কখন চোখ নামিয়ে হাঁটতে হবে,
কখন সত্যকে
রূপকথা বানিয়ে ফেলতে হবে।
একদিন ভয় বই পড়তে শিখে যায়,
আরেকদিন ভয় সংবাদ পড়ে।
ভয় জানে—
কোন শব্দ বিপজ্জনক,
কোন প্রশ্ন অপরাধ।
আমরা তখন কবিতা লিখি,
কিন্তু ভয় শব্দ বেছে দেয়।
আমরা কথা বলি,
কিন্তু ভয় বাক্য সাজায়।
ভয় আমাদের খুব ভদ্র করে তোলে—
আমরা কাঁদি নিঃশব্দে,
হাসি পরিমিত,
রাগ করি গোপনে।
ভয় সন্তানকে শেখায়
অতিরিক্ত স্বপ্ন দেখতে নেই,
ভয় প্রেমিককে বলে
অধিক সত্য বলা ঠিক নয়,
ভয় নাগরিককে বলে
সব প্রশ্নের উত্তর চাইতে নেই।
সবচেয়ে ভয়ংকর ভয়টি হলো—
আমরা একদিন
ভয়কে ভালোবাসতে শিখে যাই।
ভয় তখন আর শত্রু নয়,
সে হয়ে ওঠে অভ্যাস।
আমরা বলি—
“এটাই বাস্তবতা।”
কিন্তু শুনো,
ভয়েরও একটা দুর্বলতা আছে।
ভয় একা থাকতে পারে না—
সে সবসময়
নীরবতার আশ্রয় খোঁজে।
যেদিন কেউ প্রশ্ন করে,
যেদিন কেউ উচ্চস্বরে বলে—
“আমি ভয় পাচ্ছি না,”
সেদিন ভয় একটু কাঁপে।
ভয় জানে—
একটি সত্য উচ্চারণ
তার সমস্ত সাম্রাজ্য ভেঙে দিতে পারে।
তাই ভয় আমাদের বোঝায়—
নিরাপদ থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কিন্তু ইতিহাস বলে—
যারা খুব নিরাপদ ছিল,
তারা খুব অল্প মানুষ ছিল।
আমি ভয়কে অস্বীকার করি না,
আমি তাকে দেখি,
আমি তাকে নাম ধরে ডাকি।
কারণ ভয়কে চিনতে পারলেই
ভয় দুর্বল হয়।
আর মানুষ—
ভয় পেয়েও
হাঁটতে শেখে,
লিখতে শেখে,
প্রতিবাদ করতে শেখে।
এই শেখাটার নামই
মানুষ হওয়া।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন