পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমাদের কমান্ডার: খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দিকচেতনা

 আমাদের কমান্ডার খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম কেবল ক্ষমতার তালিকায় সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা সময়, প্রজন্ম ও চেতনার প্রতীকে রূপ নেয়। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নেতৃত্ব—যাঁকে আলাদা করে বুঝতে কোনো দলীয় পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না। তিনি ছিলেন আমাদের প্রজন্মের রাজনৈতিক আলোর দিশারী, যাঁর কণ্ঠে জাতি শুনতে পেয়েছিল নিজের ভয়, স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের ভাষা। আমাদের রাজনৈতিক জীবনের এক গভীর বাস্তবতা হলো—এই ভূখণ্ডের মানুষ বরাবরই শাসন, দমন ও আধিপত্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হয়েছে। পাকিস্তানি শাসনের দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হলেও, স্বাধীনতার ভেতরের লড়াই শেষ হয়নি কখনোই। সেই প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার আবির্ভাব কেবল একজন রাজনীতিক হিসেবে নয়, বরং এক প্রতিরোধী কণ্ঠ হিসেবে। ১৯৯১ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের পর তাঁর উচ্চারিত একটি বাক্য—“ওদের হাতে গোলামির জিঞ্জির, আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা”—শুধু একটি স্লোগান ছিল না; এটি ছিল একটি প্রজন্মের মনোজগতের প্রতিফলন। এই বাক্যে ছিল শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ছিল আত্মমর্যাদার ঘোষণা, ছিল রাষ্ট্রের স্বাধীন সত্তার প্রতিশ্রুতি। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান...

সুষ্ঠ রাজনীতির সবচেয়ে বড় শত্রু আমাদের রাজনৈতিক নেতারাই

 # রাজনৈতিক নেতারা সুষ্ঠ রাজনীতির বিরুদ্ধে   **লেখক:** এস এফ সেলিম আহম্মেদ   কবি, লেখক ও কলামিস্ট । সুষ্ঠ রাজনীতি এখন আর কোনো বাস্তব চর্চা নয়—এটি কেবল বক্তৃতার অলংকার, পোস্টারের শিরোনাম আর নির্বাচনী ইশতেহারের মৃত শব্দ। বাস্তবে সুষ্ঠ রাজনীতি বলতে যা বোঝায়, তা আজকের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয়। কারণ সুষ্ঠ রাজনীতি মানে প্রশ্ন, জবাবদিহি, সীমা ও বিবেক—আর এই চারটি জিনিসই ক্ষমতার রাজনীতিতে নিষিদ্ধ। রাজনৈতিক নেতারা প্রকাশ্যে যতই গণতন্ত্রের গান গাইুন না কেন, আড়ালে তারা সুষ্ঠ রাজনীতিকে শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করেন। সুষ্ঠ রাজনীতি ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, আর নেতারা চান ক্ষমতা যেন লাগামছাড়া ঘোড়ার মতো ছুটে বেড়ায়। লাগাম থাকলে তো আর ইচ্ছেমতো দৌড়ানো যায় না। ## আদর্শ নয়, সুবিধাবাদের রাজনীতি আজকের রাজনীতি কোনো আদর্শের লড়াই নয়, এটি সুবিধাবাদের প্রতিযোগিতা। এখানে নীতি বদলায় পরিস্থিতি অনুযায়ী, আর আদর্শ বদলায় ক্ষমতার দূরত্ব অনুযায়ী। যে নীতি গতকাল ছিল দেশবিরোধী, আজ সেটাই রাষ্ট্রনায়কোচিত সিদ্ধান্ত। রাজনীতিতে সত্য আর মিথ্যার মাঝখানের সীমারেখা এতটাই ঝাপসা...

ব্যস্ত শহর : কোলাহলের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া মানুষের গল্প

  ব্যস্ত শহর **এস এফ সেলিম আহম্মেদ** ব্যস্ত শহর— ঘড়ির কাঁটার মতো মানুষ ছুটে চলে, চোখে ঘুম, পকেটে স্বপ্ন, মুখে নীরবতার মাস্ক। রাস্তায় রাস্তায় শব্দের ভিড়, হর্নের চিৎকারে চাপা পড়ে একটি মানুষের দীর্ঘশ্বাস। ফুটপাতে বসে থাকা দিনমজুরের চোখে জমে থাকে সন্ধ্যা। এখানে সূর্য ওঠে অফিস টাইমে, ডোবে ট্রাফিক জ্যামে। আকাশটাও যেন কংক্রিটের ফাঁকে শ্বাস নেয় কষ্ট করে। ব্যস্ত শহর— মানুষের হাতে স্মার্টফোন, কিন্তু হৃদয়ে নেটওয়ার্ক নেই। কথা হয় স্ক্রিনে, নীরবতা জমে পাশে পাশে। তবু এই শহরেই কোনো এক জানালায় আলো জ্বলে থাকে, কারও অপেক্ষা, কারও ভালোবাসা, কারও ফিরে আসার গল্প নিয়ে। ব্যস্ত শহর— ক্লান্ত হলেও বাঁচতে শেখায়, ভেঙে পড়লেও দাঁড়াতে বলে, আর প্রতিদিন নতুন করে মানুষ হওয়ার পরীক্ষা নেয়। লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ © সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

চেতনা হারালে উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে যায়—সমাজ ও রাজনীতির কঠিন বাস্তবতা

 ## চেতনাই সমাজের মূল উন্নয়ন   ### — সমকালীন রাজনীতি ও সমাজবাস্তবতার আলোকে একটি প্রবন্ধ সমাজের উন্নয়ন নিয়ে কথা বললেই আমরা সাধারণত দৃশ্যমান কিছু সূচকের দিকে তাকাই—রাস্তা-ঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ, প্রযুক্তি, কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব উন্নয়ন সমাজকে কতটা মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই করছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই সামনে আসে একটি মৌলিক সত্য—সমাজের প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হলো **চেতনা**। চেতনা ছাড়া উন্নয়ন কেবল কাঠামোগত বিস্তার; আর চেতনাসম্পন্ন সমাজে উন্নয়ন হয়ে ওঠে মানুষের মুক্তি ও মর্যাদার পথ। ### চেতনা ও সামাজিক আচরণ চেতনা বলতে শুধু ব্যক্তিগত বোধ নয়, বরং সমাজের সামষ্টিক চিন্তাধারা ও মূল্যবোধকে বোঝায়। মানুষ অন্যায় দেখেও নীরব থাকবে, নাকি প্রতিবাদ করবে—তা নির্ধারিত হয় তার চেতনার মাত্রা দিয়ে। আজকের সমাজে আমরা প্রায়ই দেখি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা কিংবা বৈষম্য নিয়ে অভিযোগ সর্বত্র; কিন্তু প্রতিবাদ সীমিত। এই বৈপরীত্য আসলে চেতনাগত সংকটেরই প্রকাশ। যে সমাজে অন্যায়কে “এভাবেই চলে” বলে মেনে নেওয়া হয়, সে সমাজে উন্নয়ন কখনোই মানবিক হতে পারে ...

বিপ্লবীরা মৃত্যু মানে না

 বিপ্লবীরা মৃত্যু মানে না   **লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ **  ***উৎসর্গ: শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদী***  ভূমিকা: বিপ্লব কখনো কেবল একটি ঘটনার নাম নয়—এটি একটি চেতনার ধারাবাহিকতা।   যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, সময় তাদের শরীর থামাতে পারে, কিন্তু ভাবনাকে নয়।   এই কবিতা বিপ্লবীদের জন্য—যাদের মৃত্যু নেই, যারা চেতনা হয়ে প্রজন্মে প্রজন্মে বেঁচে থাকে। -------------------------------- বিপ্লবীরা মৃত্যু মানে না—   মৃত্যু কেবল শরীরের একটি বিরামচিহ্ন।   চেতনার বাক্যে   তারা আজীবন চলমান।   যখন রাষ্ট্র নীরব থাকে,   যখন বিবেককে ফাইলবন্দি করা হয়,   তখন একজন বিপ্লবী   নিজেকে আগুন বানিয়ে উচ্চারণ করে সত্য।   তারা পতাকা নয়,   পতাকার অর্থ বয়ে আনে।   তারা স্লোগান নয়,   স্লোগানের ভিতরের ক্ষুধা।   সময় তাদের হত্যা করতে পারে,   কিন্তু মুছে ফেলতে পারে না।   কারণ বিপ্লবীরা   ইতিহাসের নয়—   ইতিহাস তাদেরই সন্তান। ...

টাইটেল: অধরা স্বপ্ন | একটি সমকালীন বাংলা কবিতা

 অধরা স্বপ্ন অধরা স্বপ্ন জানালার ধারে এসে দাঁড়ায়,   কাচের ওপারে ভোরের আলো কাঁপে ধীরে।   হাত বাড়ালেই ছুঁই, তবু ধরা দেয় না,   দূরের রেললাইনে ডাক শোনা যায় নীরবে।   পথে পথে জমে থাকা প্রশ্নের ধুলো,   পায়ের ছাপে লুকায় অনিশ্চিত মানচিত্র।   সময় নদীর মতো বয়ে যায় অবিরাম,   ভাঙা ঘড়ির কাঁটায় আটকে থাকে রাত।   বিশ্বাসের প্রদীপে বাতাসের পরীক্ষা,   নিভে গেলেও ছাইয়ে জ্বলে থাকে আশা।   স্মৃতির খাতায় ভেজা কালি শুকোয় ধীরে,   ভুলের পাশে লিখে রাখি নতুন শিক্ষা।   আমি জানি না শেষ কোথায় লেখা,   জানি শুধু চলার অর্থ হারায় না।   ক্ষুধার্ত আকাশে নক্ষত্র কম,   তবু একটিই পথ দেখায় ঘরে ফেরা।   অধরা স্বপ্ন পিছু নেয় নীরবে,   ভাঙে না, ভর করে হাঁটতে শেখায়।   ক্লান্ত হাতে আজও বীজ বুনি,   আগামীকালকে ডাকি—আসো, সত্য হও।   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ   #অধরাস্বপ্ন   #বাংলাকবিতা   #কবিতা   #স...

ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই: বাংলাদেশের জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য চেতনা

 ## ইসলাম আমার, মুক্তিযুদ্ধ আমার, জুলাই আমার — জাতিসত্তার অবিচেদ্য চেতনা   **লেখক: এস এফ সেলিম আহম্মেদ** ইসলাম আমার—কারণ এটি আমার আত্মার গভীরতম আশ্রয়।   মুক্তিযুদ্ধ আমার—কারণ এটি আমার জাতিসত্তার জন্মবেদনা ও জন্মগৌরব।   জুলাই আমার—কারণ এটি আমার সময়ের কঠিন প্রশ্ন, আমার বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়ানো এক সাহসী মুহূর্ত। এই তিনটি উচ্চারণ কোনো বিচ্ছিন্ন স্লোগান নয়, কোনো কৃত্রিম দ্বন্দ্বও নয়। ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই—এই তিনটি আমাদের জাতিসত্তার ভেতরে প্রবাহমান একই স্রোতের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। এই স্রোত মানুষকে নৈতিক করে, সমাজকে সচেতন করে এবং রাষ্ট্রকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। ### ইসলাম: নৈতিকতার শিকড় ইসলাম আমাকে শিখিয়েছে আত্মসংযম, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতার দর্শন। এটি কেবল নামাজ, রোজা কিংবা আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থাকার এক গভীর নৈতিক অবস্থান। ইসলামের মূল দর্শন মানবিকতা—যেখানে ক্ষমতার চেয়ে ন্যায় বড়, শাসনের চেয়ে দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ, আর শক্তির চেয়ে নৈতিকতার জয় অপরিহার্য। ### মুক্তিযুদ্ধ: জাতিসত্তার জন্মচেতনা মুক্তিযুদ্ধ আমার কা...

চেতনার সুবিধাভোগ

 কবিতার নাম: চেতনার সুবিধাভোগ   কবি: এস এফ সেলিম আহম্মেদ এই সমাজে এখন চেতনা আর ভেতরের বোধ নয়— এটি পরিচয়পত্র।   যার হাতে যত বড় চেতনার সনদ,   তার জন্য দরজা খোলে দ্রুত,   আইন নরম হয়, প্রশ্ন কমে যায়।   সামাজিক ন্যায়ের কথা বলা হয় মঞ্চে,   আর বৈষম্য চর্চা হয় দৈনন্দিন জীবনে।   চেতনার ভাষা এখানে শিখে নিতে হয় সুযোগ বুঝে,   কারণ নীরব বিবেকের কোনো বাজারমূল্য নেই।   ফলে সমাজে জন্ম নিচ্ছে দুই শ্রেণি—   একদল চেতনাধারী সুবিধাভোগী,   আরেকদল নির্বাক মানুষ,   যাদের কাছে চেতনা আছে, কিন্তু ক্ষমতা নেই।   এই বাস্তবতায় প্রশ্ন একটাই—   চেতনা কি সমাজ বদলানোর শক্তি,   নাকি সমাজে টিকে থাকার কৌশল?   #সমাজ #সামাজিকবাস্তবতা #চেতনা #বৈষম্য #বাংলাদেশ #সমাজভাবনা #মুক্তচিন্তা