মশাল হাতে উত্তরবঙ্গ: স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও অবহেলিত
🟦 **তিস্তা মহাপরিকল্পনা: আলো নিভে গেলে উত্তরবঙ্গের মানুষ মশাল জ্বালে**
**✍️ লেখক:** এস এফ সেলিম আহম্মেদ
🌐 **ওয়েব:** https://sfselimahmmed.blogspot.com
---
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নদীপাড়ের মানুষ যখন ৫টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার মশাল হাতে নামলো, তখন ঢাকার টেলিভিশন স্টুডিওগুলোয় ব্যস্ততা চলছিল— কে কখন কার বিয়েতে কাকে কী উপহার দিয়েছে, সেটি নিয়ে বিশেষ সংবাদ তৈরিতে।
অবশ্য এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই—বাংলাদেশের কেন্দ্র-ভিত্তিক সাংবাদিকতা এখন নদীর স্রোতের মতোই উল্টো পথে বয়ে চলে।
হলুদ সাংবাদিকতার মুখে থুথু দিয়েও উত্তরবঙ্গের মানুষ আজ নিজ দায়িত্বে সংবাদ তৈরি করছে—নিজেদের জীবনের সংবাদ।
মশাল জ্বালানো মানে প্রতিবাদ নয়, এটি এক ধরনের অস্তিত্বের আর্তি।
তিস্তা শুকিয়ে যাচ্ছে, ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে, মানুষের চোখের জ্বলন আর নদীর বালির সাদা স্তর এক হয়ে গেছে।
ঢাকার ড্রয়িংরুমে বসে কেউ ভাবে না—এই নদীপাড়ের মানুষ এখনো চাষের জন্য কুয়ো খনন করে, পেটের ভাতের জন্য দাওয়াতের আশায় ভোট দেয়।
৫৪ বছর আগে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম শোষণ থেকে মুক্তির আশায়। কিন্তু সেই শোষণ এখন কেবল দিক পাল্টেছে—ঢাকার পোশাকে, উত্তরবঙ্গের ক্ষুধায়।
অর্থনৈতিক বৈষম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আজ যদি বাংলাদেশের কোনো অংশ স্বাধীনতার দাবি তোলে, সেটি হবে উত্তরবঙ্গ।
কারণ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পরও এখানকার মানুষ এখনো স্বাধীনতার ‘স্বাদ’ ঠিকমতো জানে না—জানে কেবল অভাব, অবহেলা, আর প্রতিশ্রুতির শুষ্ক নদী।
রংপুর বিভাগ—দেশের শস্যভাণ্ডার বলে পরিচিত। কিন্তু এই ভাণ্ডারের মালিকরা নিজেরাই আজ ভিক্ষুকের মতো সরকারি বরাদ্দের জন্য অপেক্ষায় থাকে।
যে অঞ্চলের কৃষকের ঘামে দেশের ভাত রান্না হয়, সেই কৃষক এখন সরকারি ভর্তুকির ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে।
কৃষি-উৎপাদনে অবদান দেশের সর্বোচ্চ, অথচ কৃষিঋণ, বীজ, সেচ কিংবা বাজার সুবিধা—সব কিছুতেই উত্তরবঙ্গ সবচেয়ে পিছিয়ে।
মিডিয়া, মন্ত্রী, মঞ্চ—সবখানে উত্তরবঙ্গ এখন এক মৃত নামের মতো উচ্চারিত হয়।
বড় বড় ইউটিউবারদের ক্যামেরা আসে ঢাকার ফ্যাশন শোতে, আসে না তিস্তার শুকিয়ে যাওয়া বাঁধের পাশে।
বড় পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতায় আছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্লেষণ, কিন্তু নেই উত্তরের কৃষকের হাহাকার।
এ যেন “বাংলাদেশ” নয়—একটি অদ্ভুত রাজধানীকেন্দ্রিক নাট্যমঞ্চ, যেখানে উত্তরবঙ্গের মানুষ দর্শকও নয়, পর্দার বাইরের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া নাম।
তবু আশার আলো জ্বলে, মশালের মতো।
রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারীর মানুষ আজ মশাল হাতে বলছে—
“আমরাও মানুষ, আমাদের নদী বাঁচাও, আমাদের জীবন ফিরিয়ে দাও।”
এখন সময় এসেছে—মিডিয়া ও সরকার উভয়ের সামনে প্রশ্ন রাখার:
**উত্তরবঙ্গ কি সত্যিই বাংলাদেশের অংশ, নাকি কেবল নির্বাচনের ভোটব্যাংক?**
কারণ, যখন রাষ্ট্র তার নিজ নাগরিকের আর্তি শুনতে পায় না, তখন সেই নাগরিকই একদিন রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করে—“আমরা কি তোমার সন্তান নই?”
তিস্তার মানুষ আজ তাই নূরলদীনের ভাষায় কণ্ঠ ছাড়ছে—
**“জাগো বাহে কোনঠে সবায়…!”**
আর আমি, একজন সাধারণ উত্তরবঙ্গবাসী হিসেবে বলি—
যদি আগামীকাল কোনো ভূখণ্ড স্বাধীনতার দাবি তোলে, ইতিহাস সাক্ষী থাকবে, সেই কণ্ঠস্বর রংপুর থেকেই উঠবে। (লেখাটি শেয়ার করুন)
"কপি থেকে বিরত থাকুন"
---
🖋️ **প্রকাশ:** SFSELIMAHMMED.BLOGSPOT.COM
✍️ **লেখক:** এস এফ সেলিম আহম্মেদ
📢 **#তিস্তা #তিস্তামহাপরিকল্পনা #উত্তরবঙ্গ #রংপুরবিভাগ #বাংলাদেশ #অবহেলিতউত্তরবঙ্গ #SFSelimAhmmed #PoliticalUpdate #Editorial #BreakingNews**
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন